ঢাকা | জুলাই ১৪, ২০২৪ - ১০:২৩ অপরাহ্ন

যে কারণে ফের ঢাকা আসছে আইএমএফের প্রতিনিধিদল

  • আপডেট: Friday, September 1, 2023 - 8:19 am

অনলাইন ডেস্ক: ডলার সংকটকালের এ সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি অর্থ পেতে সংস্থাটির সঙ্গে দরকষাকষি করছে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে ঋণ ছাড়ের আগে বিভিন্ন শর্ত দিচ্ছে আইএমএফ। যেসব শর্ত দিয়েছিল তা খতিয়ে দেখতে অক্টোবরে আবারও ঢাকায় আসছে আইএমএফের প্রতিনিধিদল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরামর্শদাতা সংস্থাটির বিশেষ দল আগামী ৪ থেকে ১৯ অক্টোবর ঢাকায় অংশীজনদের সঙ্গে কয়েকদফা বৈঠক করবে। আলোচনায় গুরুত্ব পাবে আর্থিক খাতের স্থায়িত্ব, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, ব্যাংক খাতের সংস্কার, তারল্য ব্যবস্থাপনা, ডলারের বাজারভিত্তিক রেটে লেনদেন, ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ গণনা পদ্ধতি, সুদের হার ও মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন, টেকসই আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, বন্ড মার্কেট, ডলার পরিস্থিতের অগ্রগতি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, আইএমএফের প্রতিনিধি দলটি আগামী ৪ অক্টোবর দেশে আসবে। এ বিষয়ে আইএমএফ বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে। পত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে আলোচনা সূচি নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও স্টকমার্কেটের কাছ থেকে শর্ত ও পরামর্শ বাস্তবায়নের হালনাগাদ তথ্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চেয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তি ৪৭৬ মিলিয়ন বা ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার পেয়েছিল বাংলাদেশ। আইএমএফের ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি বাবদ প্রায় ৪৮ কোটি ডলার আগামী নভেম্বরে ছাড় করার কথা।

দ্বিতীয় কিস্তির অর্থছাড়ের আগে শর্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে আইএমএফের একটি মিশন আগামী ৪ অক্টোবর বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। তারা ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে অবস্থান করতে পারে। তবে মিশনের কিছু কর্মসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আর শেষ কিস্তি আসবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে।

আইএমএফের আগামী মিশন গত জুন ও জুলাইয়ের মধ্যে যেসব শর্ত বাস্তবায়নের কথা ছিল সেগুলোর অগ্রগতি ও আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে যেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে সেগুলোর ব্যাপারে নেয়া পদক্ষেপ পর্যালোচনা করবে। এছাড়া স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি শর্তগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও পর্যবেক্ষণ করবে।

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারের তাদের ১৭টি মৌলিক শর্ত বাস্তবায়ন করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি বাস্তবায়ন করার কথা ছিল জুনের মধ্যে, ৩টি জুলাইয়ের মধ্যে এবং বাকি ৩টি ডিসেম্বরের মধ্যে।

আরও ৫টি শর্তের বাস্তবায়নের উদ্যোগ জুলাইয়ে শুরু করতে হবে। আগামী ২০২৬ সালের মধ্যে শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। এছাড়া অন্যান্য শর্ত ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, জুলাইয়ের মধ্যে ১৪টি শর্ত বাস্তবায়নের কথা ছিল। সেখানে বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে ২টি শর্ত শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে।

এর মধ্যে একটি জুনে ও অপর একটি জুলাইয়ের মধ্যে। বাকি ১২টি শর্ত আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে। এগুলো নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আরও আলোচনা চলবে।

সোনালী/জেআর