ঢাকা | এপ্রিল ২৩, ২০২৪ - ২:০৪ অপরাহ্ন

রাজশাহীতেও ডেঙ্গু আতঙ্ক!

  • আপডেট: Sunday, July 9, 2023 - 10:00 am

♦ রাজশাহীতেও মিলছে ডেঙ্গু রোগী

♦ রাজশাহী মেডিকেলে একজন নিহত

♦ চিকিৎসাধীন ৭

♦ আক্রান্তরা কেউ স্থায়ী বাসিন্দা নন

ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। পদ্মা পাড়ের শহর রাজশাহীতেও পাওয়া যাচ্ছে ডেঙ্গু রোগী। তবে দেখা যাচ্ছে, আক্রান্তদের কেউই রাজশাহী শহরের স্থানীয় বাসিন্দা নন। তাদের সবাই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আক্রান্ত হয়ে ঈদ উপলক্ষে রাজশাহীতে এসেছেন।

পরে তাদের ডেঙ্গুর লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে, যা নিয়ে চিন্তিত স্থানীয় প্রশাসন। বাইরের জেলাগুলো থেকে আসা রোগীদের মাধ্যমে রাজশাহীতেও ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা সবার। এতে বিরাজমান ডেঙ্গু আতঙ্ক!

শনিবার ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামে) হাসপাতালে মো. পাপ্পু (৪০) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। এ ছাড়া হাসপাতালে ভর্তি আছেন আরও সাতজন ডেঙ্গু রোগী। যাদের কেউ-ই রাজশাহীতে থেকে আক্রান্ত হননি। এমন পরিস্থিতিতে রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ইউনিট খোলা হয়েছে।

শনিবার মারা যাওয়া মো. পাপ্পু বাঘা উপজেলার ঢাকাচন্দ্রগাঁতি গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে। গত ২ জুলাই তিনি রামেক হাসপাতালে ভর্তি হন। পাপ্পুর স্ত্রী অঞ্জনা খাতুন জানান, মুন্সীগঞ্জের পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে চাকরি করতেন তাঁর স্বামী। ঈদের দু’দিন আগে মুন্সীগঞ্জে থাকতেই পাপ্পু জ্বরে আক্রান্ত হন। জ্বর নিয়ে তিনি ঈদের পরদিন বাড়িতে আসেন। এর পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নাটোরের সোহেল রানা ঢাকার একটি স্টিল কোম্পানিতে চাকরি করেন। ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পর থেকে তাঁর জ্বর। ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে থেকে পড়ালেখা করেন সাব্বির আহমেদ। তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে রাজশাহীর গ্রামের বাড়িতে ফেরার সময় গাড়িতেই জ্বর আসে। ভেড়ামারার শিল্পী বেগম তাঁর ছেলে রাহুলকে ভর্তি করেছেন রামেক হাসপাতালে।

শিল্পী বেগম জানান, ঈদের সময় ঢাকা থেকে তাদের বাড়িতে অতিথি এসেছিল। তার পর থেকেই ছেলের জ্বর। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শহিদুল ইসলাম ভর্তি আছেন ডেঙ্গু ওয়ার্ডে। তাঁর স্ত্রী সোহাগী বলেন, শহিদুল ভারতে গিয়েছিলেন রাজমিস্ত্রির কাজ করতে। ফেরার পর থেকে তাঁর জ্বর।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহমেদ বলেন, গত জুন থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। এদের কেউ-ই রাজশাহী থেকে আক্রান্ত হননি। সবার-ই ঢাকা বা দেশের বাইরে ভ্রমণের ইতিহাস রয়েছে। যেহেতু ভাইরাসবাহী এডিস মশা থেকে ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে, তাই নগরবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু বলেন, রাজশাহী শহরে অবস্থান করে এখন পর্যন্ত কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তার পরও আমরা সচেতন আছি। ড্রেনগুলো পরিষ্কার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মসজিদেও মুসল্লিদের সচেতন করা হচ্ছে। হাসপাতালের ড্রেনগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মশার লার্ভা ধ্বংসের ওষুধ দিচ্ছি। পরিষ্কার করা হচ্ছে ঝোপ-ঝাড় জঙ্গল।

সোনালী/জেআর