ঢাকা | এপ্রিল ১৫, ২০২৪ - ১২:২৩ পূর্বাহ্ন

সেন্টমার্টিন দিয়ে ক্ষমতা চাই না

  • আপডেট: Thursday, June 22, 2023 - 3:00 am

অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের কোনো সম্পদ বিক্রি করে ক্ষমতায় আসতে চাই না। গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিলে আমিও ক্ষমতায় (২০০১ সাল) থাকতে পারতাম।

এখনো যদি বলি, সেন্টমার্টিন দ্বীপ বা আমাদের দেশ কাউকে লিজ দেব, তাহলে আমার ক্ষমতায় থাকার কোনো অসুবিধা নেই। আমি জানি সেটা। কিন্তু আমার দ্বারা সেটা হবে না।

গতকাল দুপুরে গণভবনে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সুইজারল্যান্ড ও কাতার সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী ও দলীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন।

নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী অন্য নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন : বাংলাদেশে ওয়েস্টমিনস্টার টাইপের ডেমোক্র্যাসি অনুসরণ করা হয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে খালেদা জিয়ারই উক্তি ছিল, ‘পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়’। এ পদ্ধতিটা তারাই নষ্ট করেছে। এখন তারাই ফেরত চাচ্ছে।

অথচ উচ্চ আদালতের রায় আছে এবং সেই মোতাবেক সংবিধানও সংশোধন করা হয়েছে। একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বা সরকারপ্রধান আরেকজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী দ্বারাই প্রতিস্থাপিত হবেন। এর বাইরে অনির্বাচিত কেউ আসতে পারবেন না। এটা যেমন উচ্চ আদালতের রায়ে আছে, আমাদের সংবিধানেও সেটা আছে। একজন নির্বাচিতের জায়গায় আরেকজন নির্বাচিতই আসতে হবে।

এটাই সবাই জানে। এটা জানার পরও কেন এই সাংবিধানিক জটিলতা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলে শেখ হাসিনা বলেন, তার মানে গণতান্ত্রিক ধারাটাকে নষ্ট করা। এই যে দীর্ঘ সাড়ে ১৪ বছর বাংলাদেশটা সুষ্ঠুভাবে চলছে, আর্থসামাজিক উন্নতি করছে সেটাকে নষ্ট করা।

এখন দেশবাসী এটা কীভাবে নেবেন সেটাই আমার প্রশ্ন। তারা কি গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা চান, অর্থনৈতিক উন্নতি চান, দেশের মানুষের কল্যাণ হোক সেটা চান, নাকি আবার সেই ২০০৭-এর মতো তত্ত্বাবধায়কব সরকার আবার, সেই ইমারজেন্সি, আবার সেই ধরপাকড় সেগুলো চান? এটা তো দেশের মানুষকেই বিবেচনা করতে হবে।

বিগত সময়ে বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচন বানচালের নামে অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষ হত্যাসহ নানা রকম ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, জ্বালাও-পোড়াও করে মানুষের ক্ষতি করে দিয়েছিল তারা। সেটা কি মানুষ এত তাড়াতাড়ি ভুলে যাবে? তিনি বলেন, আজকে বিএনপিসহ কিছু দল মাঠে নেমেছে। তাদের অসুবিধাটা কোথায়? মানুষ দুই বেলা পেটভরে ভাত খাচ্ছে। হ্যাঁ, একটু চাপে আছে মানুষ, আমি জানি।

সে কষ্টটা আমি বুঝি। বুঝি বলেই আমাদের প্রচেষ্টা আছে। তাই যতটা সহজ করা দরকার, করা যেতে পারে, আমরা করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

সংবিধান অনুসারে যথাসময়ে নির্বাচন : ভারতের প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলে ধরার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবর সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এখানে একটা বিষয় ভুলভাবে পত্রিকায় ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। যখন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন, ভারত যথেষ্ট পরিপক্ব, পররাষ্ট্র বিষয়ে তারা কী বলতে হবে জানে। কাজেই ভারতের কাছে আমাদের ওকালতি করার দরকার হবে না। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের সদ্ভাব রয়েছে।

কিন্তু তারা কী করবে না করবে, সেটা তাদের ব্যাপার। আমাদের দেশের ইলেকশনটা আমাদের সংবিধান আছে, দেশে নির্বাচনী আইন আছে, যেভাবে হওয়ার কথা, সেভাবেই হবে। সংবিধান অনুযায়ী যখন নির্বাচন হওয়ার সুনির্দিষ্ট সময় আছে, সেই সময় নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যখন ঘোষণা দেবে তখন ইলেকশন হবে। জনগণ ভোট দেবে। যদি আমাকে ভোট দেয়, আমি আছি, না দিলে নাই।

সুন্দর ফুলটা বেছে নেব : দলে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে যখন ইলেকশন হবে, তখন অনেকেই প্রার্থী হতে পারে। প্রার্থী যদি হয়… শত ফুল ফুটতে দিক। যে ফুলটি সব থেকে সুন্দর সেটা আমি বেছে নেব। তিনি বলেন, একটা নির্বাচন যখন হয় তখন আমরা প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা, প্রার্থীর সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা এসব বিবেচনা করি।

সেখানে যদি আমরা নারীদের পাই তাদের দিই। তখন একটা বিষয় এসে যায় কে জয়ী হয়ে আসতে পারবে। তিনি বলেন, ২০০৯-এ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ৫০ বছরের ইতিহাসে এই সর্বপ্রথম একটা স্থিতিশীল পরিবেশ এবং ধারাবাহিক গণতন্ত্র অব্যাহত আছে বলেই দেশটার উন্নতি হয়েছে।

আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। মানুষের ভিতর একটা আস্থা-বিশ্বাস ফিরে এসেছে। দারিদ্র্য বিমোচন হয়েছে, মানুষের আয় বেড়েছে, সব দিক থেকে উন্নত। স্বাভাবিকভাবে সামনে ইলেকশন এলে প্রার্থী হওয়ার জন্য অনেকেরই আকাক্সক্ষা থাকবে। এতে তো কোনো সন্দেহ নেই। আর নির্বাচন যখন হবে কাকে প্রার্থী করা হবে, কাকে প্রার্থী করা হবে না; এটা তো আমাদের দলেরও একটা লক্ষ্য থাকে।

সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে দেশের মাটি ব্যবহার নয় : প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে কাউকে খেলতে দেব না। আমার দেশের মাটি ব্যবহার করে কোনো জায়গায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাবে, কাউকে অ্যাটাক করবে বা এ ধরনের কাজ আমরা হতে দেব না। আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। আমরা শান্তিপূর্ণ সহযোগিতায় বিশ্বাস করি। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তার পরও তো আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে ঝগড়া করিনি।

আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছি। এরা যাতে ফেরত যায় তার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আমরা অনুরোধ করছি তারা ফেরত যাক নিজের দেশে। কিন্তু আমরা তো ঝগড়া বা যুদ্ধ করতে চাইনি। ‘আমরা সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’- এ নীতিতেই বিশ্বাস করি। সেটাই আমরা মেনে চলব।

ব্রিকসে যোগ দেব : ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার আদ্যাক্ষর নিয়ে নামকরণ করা আঞ্চলিক অর্থনীতির সংঘ ব্রিকসে বাংলাদেশ যোগ দেবে বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ব্রিকসে আমরা যোগ দেব এ কারণে, প্রথম যখন ব্রিকস প্রস্তুতি নেয় তখন থেকে আমি এর সঙ্গে ছিলাম-আছি। আমরা একদম ফাউন্ডার মেম্বার হতে পারিনি।

এখন আমরা চেয়েছি সেটার মেম্বার হতে। আমরা চাচ্ছি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোনো একটার ওপরে যেন নির্ভরশীল না হতে হয়। কাজেই অন্যান্য দেশের সঙ্গে যেন আমাদের অর্থ বিনিময়ের সুযোগটা থাকে। আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো যেন আমরা সহজে কিনতে পারি। আমার দেশের মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারি, সেই সমস্ত বিবেচনা করেই কিন্তু ব্রিকসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং এর সঙ্গে আমরা আছি।

বিশ্বে নতুন কোনো মুদ্রা সৃষ্টির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ডে ডলারও চলে, ইউরোপিয়ান কান্ট্রিতে তারা ইউরো দিয়ে চালায়। এরকম বিভিন্ন ক্ষেত্র আছে। আমাদের যেখানে সুবিধা হবে সেখানে আমরা সম্পৃক্ত হব এবং আমাদের যেটা কিনতে হবে বা দিতে হবে, সেটা আমরা দেব।

যেটা আমার দেশের জন্য কল্যাণকর হবে সেটাই করব। এককভাবে নির্ভরশীল থাকার যুগ আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছে, এটা বাস্তবতা। তবে সেটা এখনো সেভাবে তৈরি হয়নি, যদি হয় তখন আমরা আমাদেরটা বিবেচনা করব।

নির্বাচন কাছে এলে নানা অপপ্রচার চালাবে : কয়েকজন মার্কিন কংগ্রেসম্যানের বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকজন এটার প্রতিবাদ করেছে। তারা বলেছে যে, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য। সেভাবে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।

নির্বাচন যত কাছে আসবে আরও বেশি করে এ ধরনের প্রচারণা চালাবে তারা। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখেই চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা নিয়ে এক ধরনের অপপ্রচার শুরু হয়েছে। শুধু এটা নয়, ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে নানা ধরনের অপপ্রচার করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে দেশের মানুষকে সচেতন হতে হবে, তাদের অপপ্রচারে কান দেবেন না, বিভ্রান্ত হবেন না।

আগাম নির্বাচন নয় : আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, কী এমন পরিস্থিতিতে পড়লেন যে, নির্বাচন আগে দিয়ে আপনাদের মুক্তি দিতে হবে? নির্বাচন যখন সময় হবে তখন হবে। আমাদের সংবিধান অনুযায়ী যখন নির্বাচন হওয়ার সুনির্দিষ্ট সময় আছে সেই সময়ই নির্বাচন হবে, এটা হলো বাস্তবতা।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দেবে। জনগণ ভোট দেবে। যদি আমাকে ভোট দেয় আমি আছি। না হলে নেই। আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এটাকে বাস্তবায়ন করতে হবে ২০২৬ সালের মধ্যে। এই ’২৬ সালের মধ্যে এটা বাস্তবায়ন করার মতো সক্ষমতা কার আছে বা কে এটা পারবে, জনগণ তাকে বেছে নেবে। আমার কোনো কিছু করার নেই।

এখানে আমার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। কাজেই আপনাদের এত টেনশন করার কিছু নেই। তারা (বিরোধীরা) কিছু তো কথা বলবেই। আর বললে তো ভালোই। ওরা আন্দোলন করছে করুক। দেখি আমরা। আমি জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি। অন্য কিছুতে নয়।

বাইরে সুন্দর বৃষ্টি হচ্ছে : দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন দমবন্ধ দমবন্ধ পরিবেশ বলা হচ্ছে। বাইরে সুন্দর বৃষ্টি হচ্ছে। (সংবাদ সম্মেলনের সময় হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল) সুন্দর বাতাস বইছে। তবে হ্যাঁ বিদ্যুৎ নিয়ে কিছুটা সমসা ছিল। সেটা ঠিক হয়ে আসছে। মূল্যস্ফীতির বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

মজুদদার খুঁজে দিন, ব্যবস্থা নেব : বাজার সিন্ডিকেটের কথা স্বীকার করে এক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, সুযোগসন্ধানী কিছু লোক তো থাকেই। সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। পর্যাপ্ত পরিমাণ সরবরাহ থাকার পরে যখন দাম বাড়ে… কিছু লোক তো মজুদদারি করে।

যারা এভাবে মজুদদারি করে কালোবাজারি করার চেষ্টা করে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আপনারাও (গণমাধ্যম) খুঁজে বের করে দেন। কোথায়, কে মজুদ করল…। আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

কাঁচা মরিচ ফরমুলা : মৌসুম অনুযায়ী জিনিসপত্রের দাম বাড়ে কমে- এমনটা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বর্ষাকালে কেউ খেতে কাঁচা মরিচ তুলতে যেতে পারে না। কাঁচা মরিচের দাম বাড়লে সবাই চিৎকার করে। আমি সবাইকে আহ্বান করব, কাঁচা মরিচ কিনে রোদে শুকিয়ে রেখে দিন। বর্ষাকালে যখন দাম বাড়বে… ওটাকে একটু পানিতে রাখতেই তাজা হয়ে যায়। আবার রান্না করে খাওয়া যায়। সহজ বুদ্ধি। কাজেই ওইগুলো শুকান। শুকিয়ে রেখে দিন। অতিরিক্ত টমেটো হয়েছে, রোদে শুকিয়ে রেখে দিন। সানড্রাই টমেটো বিদেশে ভীষণভাবে চলে।

আমরাও সবকিছু করব। পিঁয়াজেও তাই। উৎপাদন হলে সংরক্ষণের ব্যবস্থা। সবাইকে সাধ্যমতো চাষাবাদ করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেরা যদি ছাদের ওপরে কাঁচা মরিচ গাছ লাগান। আমি গাড়িবারান্দার ছাদের ওপর লাগিয়েছি। আজকে দেখলাম খুব সুন্দর ফুল আসছে।

বর্ষা আসতে আসতে আমার কাঁচা মরিচ হবে। আমার কেনা লাগবে না। ওখান থেকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেতে পাব। এ রকম যদি সবাই করে তাহলে তো কষ্ট থাকে না। আমাদের মাটিও তো উর্বর। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হেসে বলেন, ‘কাঁচা মরিচ ফরমুলা দিলাম। ’

রিজার্ভে স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে : সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল জাতীয় সংসদে বলেন, অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত এবং প্রবাসী আয়ে উৎসাহিত করার মতো বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ফলে আগামীতে রিজার্ভে স্বস্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকালের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে টেবিলে উত্থাপিত সরকারি দলের সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সবশেষ ৩১ মে’র হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ হয়েছে ২৯ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার। যা চার মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট। দেশের রিজার্ভ কমে যাওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার। মূল্যস্ফীতির চাপ এবং কভিড পরবর্তীকালীন চাহিদা বাড়ায় ২০২১-২২ অর্থবছরে আমদানি বেড়ে যায়। ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ভারসাম্যের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি হয়। এ চাপ মোকাবিলা করতে গিয়ে পরবর্তীতে তা কমতে শুরু করে।

৫৫ হাজার হেক্টর পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় এসেছে : সরকারি দলের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পতিত জমি চাষাবাদের উদ্যোগ গ্রহণ করার ফলে প্রায় ৫৫ হাজার হেক্টর পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় এসেছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে চাল উৎপাদনে তৃতীয় স্থানে উন্নীত হয়েছে। এ ছাড়া ২২টি কৃষি পণ্য উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমান সংকট মোকাবিলায় কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সচেষ্ট রয়েছে সরকার।

প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার ১৪.১৫%, সাক্ষরতার হার ৭৫.৬০% : সরকারি দলের সংসদ সদস্য খালেদা খানমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার ৪৭ দশমিক ২০ শতাংশ থেকে বর্তমানে ১৪ দশমিক ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। দেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও সচ্ছলতা বেড়েছে এবং সাক্ষরতার হার ৫৩ দশমিত ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ৭৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৮ দশমিক ৬০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী শিশুদের ভর্তির হার ৮৭ দশমিক ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ হয়েছে।

সোনালী/জেআর