ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২৪ - ৩:৫২ পূর্বাহ্ন

কাউন্সিলর প্রার্থীর মিছিলে ককটেল হামলা, পরিস্থিতি থমথমে

  • আপডেট: Saturday, June 17, 2023 - 9:50 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির নির্বাচনি প্রচার মিছিলে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার বিকালে শহরের চন্ডিপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ওই ওয়ার্ডের অপর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী জহিরুল ইসলাম রুবেলের নেতৃত্বে কর্মী-সমর্থকরা এই হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন মতিউর রহমান মতি।

এছাড়াও মিছিল থেকে শিশুসহ তার কয়েকজন কর্মীকে তুলে নিয়ে রুবেল নিজের বাড়িতে আটকে রেখেছিলেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন তিনি।

পরে পুলিশের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা হয়। এতে করে অত্যন্ত থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে স্থানীয় এলাকাজুড়ে!

ককটেল হামলার ঘটনায় মতির বেশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে কাউন্সিলর প্রার্থী মতির নেতৃত্বে তার একটি নির্বাচনী প্রচার মিছিল বের হয়। ভাটাপাড়া থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে চন্ডিপুর হয়ে শ্রীরামপুরের দিকে যাওয়ার সময় চন্ডিপুর এলাকায় আরেক প্রার্থী রুবেলের লোকজন অতর্কিত ককটেল হামলা করে।

এ সময় মিছিলকারীরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করলে লাঠি-সোঁটা দিয়ে তাদেরকে পেটাতে থাকে রুবেলের সমর্থকরা। এতে প্রার্থী মতির অন্তত ১০ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। পরে কয়েকজনকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরে ঘটনার প্রতিবাদে ওই এলাকার নারী-পুরুষরা একজোট হয়ে রাজপাড়া থানা ঘেরাও করেন। সেখানে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মতিউর রহমান মতি।

পরে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে মতি বলেন, জহিরুল ইসলাম রুবেলের উপস্থিতিতেই এ হামলা হয়েছে। গত কয়েকদিন থেকেই রুবেল তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। তিনি এই ঘটনায় রাজপাড়া থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরিও করেছেন। কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। উল্টো এর আগেও তাদের কয়েকজনকে পেটানো হয়েছে। শনিবার আবারও রুবেলের নেতৃত্বে মিছিলে ককটেল হামলা হয়েছে। তার মতো সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এমনটা চলতে থাকলে আমি কোথায় যাবো? কার কাছে সহযোগিতা চাইবো?

এদিকে ঘটনার পর রুবেলের সমর্থকরা উল্টো থানায় গিয়ে দাবি করেন, মতির মিছিল থেকে রুবেলের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে তারা থানা থেকে সরে গিয়ে চণ্ডিপুর প্রেসক্লাব মাঠে অবস্থান করছিলেন।

বিষয়টি নিয়ে রুবেলের সঙ্গে সাংবাদিকরা কথা বলতে পারেনি। তার মোবাইল নম্বরে কল করা হলে ছোটভাই পরিচয় দিয়ে একজন জানান, রুবেল এখন কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই।

রাজপাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মইনুল বাশার বলেন, কাউন্সিলর প্রার্থী মতিউরের মিছিলে হামলার ঘটনার অভিযোগ তুলে বেশকিছু নারী পুরুষ থানায় এসেছিলেন। মতি থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। আরেকপ্রার্থী রুবেল বলছেন, তার বাড়িতে ককটেল হামলা হয়েছে। আদৌ তা ককটেল ছিল কিনা, সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, তিনি এখনও বিষয়টি জানেন না। আর কোনো পক্ষ থেকে এখনও লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, মহানগরীর ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী রুবেল ২০১৯ সালে ১২ হাজার পিস ইয়াবা ও দুটি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

এছাড়াও হত্যাসহ তিনি একাধিক মামলার আসামি। সম্প্রতি নিজের অধিকাংশ অপকর্মের তথ্য গোপন করে তিনি কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন বলে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সোনালী/জেআর