ঢাকা | এপ্রিল ২৩, ২০২৪ - ২:৫৬ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে বিএনপি নেতাদের নির্দেশ মানছেন না প্রার্থীরা, ক্ষুব্ধ তারেক

  • আপডেট: Sunday, May 14, 2023 - 3:59 am

অনলাইন ডেস্ক: বর্তমান সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটির এমন ঘোষণার পরও অনেক জায়গায় প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির স্থানীয় নেতারা।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে দলটির অনেক নেতাই কাউন্সিলর পদে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লন্ডনে অবস্থান করা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

দুই দিন আগে ঢাকায় ডেকে নেওয়া হয় রাজশাহী বিএনপির শীর্ষ নেতাদের। ভিডিও কলে তাদের সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। সেখানে রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা নিজেদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন।

তারা অভিযোগ করেন, রাজশাহী বিএনপির শীর্ষ তিন নেতা মিজানুর রহমান মিনু, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও শফিকুল হক মিলন আহ্বায়ক কমিটিকে সহযোগিতা করছেন না। তাই মহানগর বিএনপি চাইলেও নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া নেতাদের থামাতে পারছেন না।

গত বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওবাইদুর রহমান চন্দন, সৈয়দ শাহীন শওকত, দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী মহানগরের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, নগর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈসা ও সদস্য সচিব মামুনুর রশীদ।

দলীয় সূত্র জানায়, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারেক রহমান। মহানগর বিএনপিতে বিশৃঙ্খলার বিষয়টি আলোচনায় আসে। তখন আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেন, রাজশাহী বিএনপির শীর্ষ তিন নেতা মিজানুর রহমান মিনু, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও শফিকুল হক মিলন তাদের সহযোগিতা করেন না।

ফলে তারাও ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না। আর বিশৃঙ্খলার জন্য কেউ কেউ আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিবকে দায়ী করেন। তারেক রহমান দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন। সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে দলীয় নেতা-নেত্রীরা অংশ নেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান তারেক রহমান।

মিজানুর রহমান মিনুকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি রাজশাহী সিটির ১৭ বছর মেয়র ছিলেন। আপনি থাকতে কেন দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপি নেতারা ভোটে অংশ নিচ্ছেন? তখন মিনু বলেন, ‘যারা ভোটে আসছেন, তারা বর্তমানে কোনো পদ-পদবিতে না থাকার অজুহাত দিচ্ছেন। কাউন্সিলর পদের ভোট দলীয় প্রতীকে না হওয়ায় তারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন। ’

মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘সিটি নির্বাচনে দলীয় নেতা-কর্মীরা অংশ নিচ্ছে কি না, এ বিষয়ে জানতে এবং তাদের থামাতে স্থানীয় কমিটি কী উদ্যোগ নিয়েছে; তা জানতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী ঈসা বলেন, ‘দলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে সামনে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন তারেক রহমান। এটা আমাদের সাংগঠনিক মিটিং ছিল।’

সদস্য সচিব মামুনুর রশীদ বলেন, ‘বিএনপি এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না। তারেক রহমান কঠোরভাবে বলেছেন, আমাদের দলের যারা নির্বাচনে যাবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। শিগগিরই আমরা আবার রাজশাহীতে বসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।’

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘আমাদের একটাই লক্ষ্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে সরকারকে বাধ্য করা। এ জন্য আন্দোলন করতে হবে। এ জন্য সুসংগঠিত দল প্রয়োজন। এসব বিষয়েই মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে। ’ সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

সোনালী/জেআর