ঢাকা | জুলাই ২৪, ২০২৪ - ১২:৩৫ অপরাহ্ন

কালবৈশাখী: রাজশাহীতে ঝরে পড়েছে আম, কেজি ২ টাকা

  • আপডেট: Thursday, April 27, 2023 - 10:19 pm

অনলাইন ডেস্ক: প্রচণ্ড খরায় বোঁটা শুকিয়ে ও বুধবারের কালবৈশাখীতে রাজশাহীর চারঘাটের বাগানের কয়েকশ মণ আম ঝরে পড়ে। সেই আম এখন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ টাকা কেজিতে। এ অবস্থায় চরম হতাশায় পড়েছেন স্থানীয় আম চাষিরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চারঘাট-বাঘার আমের জন্য বিখ্যাত রাজশাহী। সমগ্র জেলায় আম বাগান রয়েছে ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে চারঘাট-বাঘায় রয়েছে ১২ হাজার ২১৮ হেক্টরে, যা পুরো জেলার দুই-তৃতীয়াংশ। চলতি মৌসুমে এ দুই উপজেলায় ৭৫-৮০ শতাংশ আম গাছে মুকুল এসেছিল। বুধবারের ঝড়ে বেশিরভাগ বাগানের আম ঝরে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার চারঘাটের বিভিন্ন বাগান ও আড়তসহ মোড়ে মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, ঝরে পড়া আম কেনার ধুম পড়েছে ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতি কেজি আম কিনছেন মাত্র ২ টাকা কেজি দরে। আকারে ছোটগুলো কিনছেন দেড় টাকা কেজি দরে।

চাষিরা বলছেন, মৌসুমের শুরুতেই তীব্র খরায় আম নিয়ে বিপাকে পড়েন তারা। গাছের গোড়ায় রস না থাকায় বোঁটা শুকিয়ে গুটি ঝরে পড়া শুরু হয়। এর মাঝে আবার আঘাত হানল কালবৈশাখী। সব মিলিয়ে কয়েকশ মণ আম ঝরে গেছে। বেশিরভাগই ল্যাংড়া, ফজলি ও হিমসাগর জাতের।

রাওথা গ্রামের চাষি রবিউল ইসলাম বলেন, আমার ছয় বিঘা বাগানে প্রায় পাঁচ মণ আম ঝরে গেছে। দুই টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। প্রতি বছর কীটনাশকের দাম দ্বিগুণ হচ্ছে; কিন্তু কাঁচা আমের কেজি ২ টাকাই আছে।

একই এলাকার আম ব্যবসায়ী সেতাব আলী জানান, গ্রামে ঘুরে ঘুরে ঝরে পড়া আম ৮০ টাকা মণ দরে কিনেছেন। এসব আম প্রতি মণে ২০ থেকে ২৫ টাকা লাভে আড়তদারের কাছে বিক্রি করবেন। আড়তে এসব আমের চাহিদা না থাকায় দাম কম বলে জানান তিনি।

পরানপুর এলাকার আম চাষি আনোয়ার হোসেন বলেন, ঝরে পড়া আম আড়তে এনে ২-৩ টাকা কেজি বিক্রি করছি। এতে গাড়ি ভাড়া ও শ্রমিক খরচই উঠবে না। এখানে সংরক্ষণাগার থাকলে এতটা লোকসান হতো না।

ভায়ালক্ষ্মীপুর এলাকার আড়তদার মোজাম্মেল হক বলেন, ফড়িয়াদের কাছে থেকে ১০০-১১০ টাকা মণ দরে ঝরে পড়া আম কিনছি। ঢাকায় পাঠাব। কিন্তু আমের চেয়ে পাঠানোর খরচই বেশি। ট্রাক ভাড়া ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার পর এই আম বিক্রি করে লাভ করা কঠিন।

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা খন্দকার ফিরোজ মাহমুদ বলেন, ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টি আমের জন্য খুব উপকারই হয়েছে। এতে আমের বোঁটা শক্ত ও পরিপক্ব করে হবে। বড় ধরনের ঝড় না হলে এখনও গাছে যে পরিমাণ আম আছে, তাতে চাষিরা লাভবান হবেন।

সোনালী/জেআর