ঢাকা | এপ্রিল ১৫, ২০২৪ - ১০:১৭ অপরাহ্ন

চেকপোস্টে চিৎকার শুনে অপহরণকারীদের ধরল পুলিশ

  • আপডেট: Wednesday, April 19, 2023 - 12:19 pm

অনলাইন ডেস্ক: চেকপোস্টে যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করছিল পুলিশ। এরমধ্যে একটি প্রাইভেটকারের চালক পুলিশের আদেশ অমান্য করে পালানোর চেষ্টা চালান। এতে কর্তব্যরতদের সন্দেহ হয়। তারা সামনে-পেছনে ব্যারিকেড দিয়ে গাড়িটি থামান। তখনই গাড়ির ভেতর থেকে একজন চিৎকার করেন– ‘স্যার আমাকে বাঁচান, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’

ওই ব্যক্তিকে উদ্ধারের পর জানা যায়, তাঁকে অপহরণ করে সঙ্গে থাকা টাকা-ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে গাড়িতে থাকা দুর্বৃত্তরা। আরও মুক্তিপণ আদায়ের জন্য তাঁকে জিম্মি করে রেখেছে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর তুরাগে এ ঘটনা ঘটে। তুরাগ থানার ওসি মওদুত হাওলাদার সমকালকে বলেন, অপহরণে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তারা হলো– সুদেব, তামিম চৌধুরী, আবু সাঈদ ও ফিরোজ আশরাফ হিমু। অপহরণে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো গ ১৪-৬২৭৯), ছয়টি মোবাইল ফোন, নগদ সাড়ে ৫ হাজার টাকা, একটি স্ক্রু ড্রাইভার ও গাড়ির চাকা খোলার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি জানান, অপহৃত শরীফ হোসেন মালয়েশিয়া প্রবাসী। তাঁর বাড়ি চাঁদপুর। তিনি মিরপুর–১১ নম্বর সেকশনে এক আত্মীয়ের বাসায় গিয়েছিলেন। সেখান থেকে গাজীপুরে চাচার বাসায় যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। বাসের জন্য তিনি কালশী এলাকার রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি প্রাইভেটকার এসে থামে। চালক জানতে চান, তিনি কোথায় যাবেন?

গন্তব্য শুনে তিনি বলেন, উত্তরার আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত যেতে ১০০ টাকা ভাড়া লাগবে। শরীফ ভাড়া কমাতে বললে চালক ৯০ টাকায় রাজি হন। এরপর তিনি গাড়িতে উঠে দেখেন, আরও দুই–তিনজন আগে থেকেই বসে আছেন। গাড়ি চলতে শুরু করলে তারা শরীফকে মারধর করে জিম্মি করে ফেলে। সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়।

এরপর আরও দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে তাঁর স্বজনকে ফোন করে। টাকা না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আর তাঁকে নিয়ে গাড়িটি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে থাকে। একপর্যায়ে গাড়িটি তুরাগের ১৭ নম্বর সেক্টরে মেট্রোরেলের তিন নম্বর স্টেশনের ১০৬ ও ১০৭ নম্বর পিলারের পশ্চিম পাশের চেকপোস্টে থামতে বলে পুলিশ। চালক গাড়ি না থামিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এএসআই সোহেল রানা বাধা দেন।

একইসঙ্গে এএসআই গোলাম রসূল ও আসাদুল হক মোটরসাইকেল নিয়ে সামনে-পিছনে অবস্থান নিয়ে গাড়ি থামাতে বাধ্য করেন। পরে ভুক্তভোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য গাজীপুরে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে তুরাগ থানায় মামলা হয়েছে

সোনালী/জেআর