ঢাকা | জুন ১৯, ২০২৪ - ৯:৫৪ অপরাহ্ন

জেসমিনের মৃত্যু: জড়িতদের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার নির্দেশ

  • আপডেট: Wednesday, April 5, 2023 - 5:15 pm

অনলাইন ডেস্ক: নওগাঁয় আটকের পর র‌্যাব হেফাজতে সুলতানা জেসমিন নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মন্ত্রী পরিষদ সচিবকে কমিটি গঠন করে তদন্ত শেষে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আর আটকের ঘটনায় জড়িতদের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ সংক্রান্ত রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এ ছাড়া সুলতানা জেসমিনকে তুলে নেয়ার ঘটনা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

গত ২২ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় থেকে প্রতারণার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুলতানা জেসমিনকে আটক করা হয় বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এরপর মস্তিষ্কে গুরুতর রক্তক্ষরণে অসুস্থ হয়ে ২৪ মার্চ সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন বলে র‌্যাব দাবি করে।

তবে স্বজনদের অভিযোগ, হেফাজতে নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তখন দায়িত্বরত চিকিৎসক সুলতান জেসমিনের মাথাজুড়ে একাধিক ইন্ট্রাক্রানিয়াল রক্তক্ষরণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়া রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এফ এম শামীম আহাম্মদ সুলতানার মাথার বাইরের দিকে ক্ষত থাকার কথাও জানান।

পরে পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে বলা হয়েছে, তারা আটকের বিষয় সম্পর্কে অবগত ছিল না, বরং গণমাধ্যম থেকে তারা তথ্যটি জানতে পেরেছে। আরও জানা গেছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যে মামলায় জেসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে, সেই মামলা দায়ের করা হয়েছে তাকে আটকের প্রায় ৩১ ঘণ্টা পর ২৩ মার্চ বিকেলে এবং মামলাটি দায়ের করেছেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার অফিসের পরিচালক এনামুল হক।

তবে গত রোববার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে জেসমিনের মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলা হয়। রোববার বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) ফরেনসিক বিভাগ থেকে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে সেই প্রতিবেদনে জেসমিনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে কী মতামত দেয়া হয়েছে তা নিয়ে তখন সাংবাদিকদের কিছু বলতে চাননি ময়নাতদন্ত বোর্ডের প্রধান রামেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কফিল উদ্দিন।

গত সোমবার সকালে ডা. কফিল উদ্দিন এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানিয়েছেন, কোনোরকম নির্যাতন নয়, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে জেসমিনের মৃত্যু হয়েছে। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু। জেসমিনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া যায়নি।

সোনালী/জেআর