ঢাকা | জুন ১৬, ২০২৪ - ১২:০২ পূর্বাহ্ন

জেসমিনের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি

  • আপডেট: Saturday, April 1, 2023 - 3:19 pm

অনলাইন ডেস্ক: র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) হেফাজতে সুলতানা জেসমিন মৃত্যুর ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

শনিবার (১ এপ্রিল) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে রাজশাহীর বিশিষ্টজনরা এ দাবি জানিয়েছেন।

তারা ঘটনাস্থল নওগাঁ ঘুরে এসে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান।

রাজশাহী সচেতন নাগরিকের ব্যানারে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, সুলতানা জেসমিনের ঘটনার সরেজমিন অনুসন্ধানের জন্য রাজশাহীর বিশিষ্ট নাগরিকদের একটি দল ৩১ মার্চ নওগাঁ সফর করেন।

রাজশাহীর বিশিষ্টজনরা সুলতানা জেসমিনকে জোরপূর্বক উঠিয়ে নেওয়ার ঘটনাস্থল নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সেখানকার প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় নিহতের পরিবারের সদস্য, নওগাঁর কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি, সাংবাদিক এবং নওগাঁর বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত যুব নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন ও সাক্ষাৎকার শেষে সফরকারী রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যক্তিরা মতামত দেন যে, সুলতানা জেসমিন এর সাথে যে ঘটনা ঘটেছে তা সভ্য সমাজে কল্পনা করা যায় না। একজন নাগরিক যদি অপরাধের সাথেও সম্পৃক্ত হন তার বিচার পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

সেখানে কোনো ধরনের আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই একজন নাগরিককে সরকারি একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মৌখিক কথায় এবং তার উপস্থিতিতেই উঠিয়ে নিয়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল। এর পরিণতিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এটি নিঃসন্দেহে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।

জেসমিনের ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে এদেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মানবাধিকার রক্ষায় দুঃখজনকভাবে উদাসীন। রাষ্ট্রযন্ত্র মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েও তা রক্ষায় বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
নিহত জেসমিনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে অনুসন্ধানকারী দলের মনে হয়েছে যে, সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তারা ভীত সন্ত্রস্ত এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

রাজশাহীর বিশিষ্টজনদের মতে, জেসমিনের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার না করে সরাসরি তুলে নিয়ে যাওয়া অপহরণের শামিল। পরে সরকারি বাহিনীর হেফাজতে তার মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত রহস্যজনক। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমেই এর পেছনের মূল কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হবে। যুগ্মসচিব পদ মর্যাদার একজন ব্যক্তির

এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার যে বর্ণনা ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তার যথাযথ তদন্ত হওয়া দরকার। কেননা নিহত জেসমিনও প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী ছিলেন। সুতরাং জেসমিন অপরাধ করে থাকলে খুব সহজেই বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া যেত।

তা না করে র‍্যাবকে নিয়ম বহির্ভুতভাবে ব্যবহার করে একজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা যে ভূমিকা নিয়েছেন বলে প্রকাশিত হয়েছে তা আইনের ব্যত্যয় এবং অত্যন্ত দুঃখজনক। এজন্য রাজশাহীর বিশিষ্টজনরা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে জেসমিনের নিহত হবার ঘটনার যথাযথ কারণ অনুসন্ধান এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলন থেকে তারা প্রথম আলো সম্পাদক ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ারও দাবি জানান। এছাড়া গ্রেফতারকৃত সাংবাদিককে মুক্তি দেওয়ার দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কলামিস্ট ও রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলন, রাজশাহীর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত বেগ, যুব অধিকার পরিষদ রাজশাহীর নেতা ওমর ফারুকসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে নওগাঁ শহর থেকে আটক করার পর র‌্যাব হেফাজতে সুলতানা জেসমিন (৪৫) নামে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক কর্মচারীর মৃত্যু হয়। ২২ মার্চ সকাল ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় থেকে তাকে আটক করা হয়।

এরপর ২৪ মার্চ সকাল ৯টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই নারীর মৃত্যু হয়। সুলতানা জেসমিন নওগাঁ সদর উপজেলার চণ্ডিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অফিস সহকারী পদে চাকরি করতেন। পরিবারের অভিযোগ র‍্যাব হেফাজতে নেওয়ার পর নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে।

সোনালী/জেআর