ঢাকা | জুন ২২, ২০২৪ - ১২:০৬ পূর্বাহ্ন

বদলে গেল শহরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

  • আপডেট: Tuesday, March 21, 2023 - 2:30 pm

জগদীশ রবিদাস: বিগত ১৪ বছরে পাল্টে গেছে রাজশাহী নগরী। মাত্র এক দশক আগে পদ্মা তীরের এ শহরে এসেছিলেন, এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে এখন শহরটিকে না চেনার সম্ভানাই বেশি! শুধুমাত্র পরিছন্ন, দৃষ্টিনন্দন কিংবা বায়ু দূূষণমুক্তই নয়, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভূতপূর্ব উন্নয়নের ক্ষেত্রেও আমূল পরিবর্তন ঘটেছে উত্তরের বিভাগীয় এই শহরের। এতে ছবির ফ্রেমে থাকা শিক্ষা নগরী এখন বাস্তবেই দৃশ্যমান। যার জাদুুর কাঠির ছোঁয়ায় রেশমের নগরী শিক্ষা নগরীতে রূপ নিয়েছে, তিনি হলেন রাজশাহী-২ আসনের টানা তিন বারের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।

বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে শহরের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই ছিল জরাজীর্ণ। তাদের অনুন্নত পরিকল্পনার কারণে নতুন ভবন তো দূরের কথা, অধিকাংশ স্কুল-কলেজই ছিল বেড়া ও টিন দ্বারা মোড়ানো। অনেক ক্ষেত্রে ঝোপ-ঝাড় জঙ্গল পেরিয়েও ক্লাসে যেতে হতো শিক্ষার্থীদের। বৃষ্টি হলেই পড়তো পানি। এতে বিনষ্ট হতো শিক্ষার গুণগত পরিবেশ। তবে এখন আর সেই চিত্র নেই। পুরোটাই যেন বদলে গেছে। ঝিমিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরে পেয়েছে নতুন প্রাণ! তুড়ির তাসের ন্যয় সব জীর্ণতাই যেন উড়িয়ে দিয়েছেন এমপি ফজলে হোসেন বাদশা।

২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তার গোছানো পরিকল্পনা ও বর্তমান সরকারের সহযোগিতায় উন্নয়নবঞ্চিত শিক্ষা নগরী সেজে উঠেছে অপরূপ সৌন্দর্যে। প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই পেয়েছে আধুনিক নতুন ভবন। বাদ পড়েনি মাদ্রাসাগুলোও। সেগুলোর উন্নয়নও যেন কল্পনাহীন! অনেক স্কুল-কলেজে হয়েছে শহিদ মিনার। করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু কর্ণার ও আধুনিক লাইব্রেরীও।

যেখানে কখনো জাতীয় সংগীত বাজেনি, পতাকা উত্তোলন হয়নি, বাদশার কল্যাণে সেখানে আজ সবকিছুই হয়। এক-দেড় দশক আগের শিক্ষার্থীরা এখন তাদের স্কুল-কলেজে গেলে আঁতকে ওঠেন। তাদের ফেলে আসা জীর্ণ প্রতিষ্ঠানকে আর স্মরণ করতে পারেন না। আবেগ আপ্লুত হয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন! বাইরের কোনো মানুষ এখন রাজশাহী শহরে এলে স্কুল-কলেজগুলোর রূপ দেখে চমকে ওঠেন, অভিভূতও হন।

১২ বছরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে ১৮৬ কোটি ৪৭ লাখ ১০ হাজার টাকার উন্নয়নজজ্ঞ

এমপির কাছে সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে কখনো বেগ পেতে হয়নি

রাজশাহী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর জানিয়েছে, ২০১০ সালে থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে মোট ১৮৬ কোটি ৪৭ লাখ ১০ হাজার টাকায় উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। তারা জানিয়েছে, এসব উন্নয়ন ও অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার কাছে কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে কোনো বেগ পেতে হয়নি। সাংসদের বৈষম্যহীন দৃষ্টিভঙ্গির প্রেক্ষিতেই এসব উন্নয়ন কাজ সাধিত হয়েছে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের তথ্যমতে, ২০১০-১১ অর্থ বছরে ৮৮ লাখ ৬ হাজার টাকা ব্যয়ে দেশ সেরা রাজশাহী কলেজের অ্যাকাডেমিক ভবনের চতুর্থ তলা সম্প্রসারণ কাজের মধ্যে দিয়ে উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। একই অর্থ বছরে ৬৭ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ব্যয়ে কলেজটির বিজ্ঞান ভবনের চর্তুথ তলা সম্প্রসারণ কাজ ও ৩৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা ব্যয়ে কলা ভবনের তৃতীয় তলা নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়। পরে ১৮ লাখ ৮ হাজার টাকা ব্যয়ে রসায়ন ভবনের তৃতীয় তলা সম্প্রসারণ কাজ বাস্তবায়ন করা হয়।

এরপর ২০১১-১২ অর্থ বছরে ৩ কোটি ১৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে রাজশাহী কলেজের পাঁচ তলা ভিত বিশিষ্ট চতুর্থ তলা অ্যাকাডেমিক কাম এক্সামিশনের ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। ওই অর্থ বছরেই কমেলা হক ডিগ্রি কলেজে ৩৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে চার তলা ভিত বিশিষ্ঠ এক তলা অ্যাকাডেমিক ভবনও নির্মাণ করা হয়। ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ১৫ রাখ টাকা ব্যয়ে রাজশাহী কলেজের লাইব্রেরি ভবনের তৃতীয় তলার সম্প্রসারণ কাজ করা হয়। ৬৭ লাখ এক হাজার টাকা ব্যয়ে মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ছয়তলা ভিত বিশিষ্ট এক তলা অ্যাকাডেমিক নির্মাণ করা হয়।

বালাজান নেশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ছয় তলা ভিত বিশিষ্ট এক তলা অ্যাকাডেমিক নির্মাণ করা হয় ৬৭ লাখ এক হাজার টাকা ব্যয়ে। ৬৭ লাখ এক হাজার টাকা ব্যয়ে ছয় তলা ভিত বিশিষ্ট এক তলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয় মেহেরচণ্ডি উচ্চ বিদ্যালয়েও। রাজশাহী বিবি হিন্দু অ্যাকাডেমির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা সম্প্রসারণ করা হয় ৫৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা ব্যয়ে। ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় বুধপাড়া আলিম মাদ্রাসায় চার তলা ভিত বিশিষ্ট একতলা অ্যাকাডেমিক ভবন।

পরের অর্থ বছরে রাজশাহী কলেজের অডিটোরিয়াম ভবনে ৯টি এসিসহ ওয়ালের বোর্ড লাগানো ও শিলিং-এ জিপশাম বোর্ড লাগানোর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা সম্প্রসারণ কাজের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ৩৮ লাখ টাকা। ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজশাহী স্যাটেলাইট টাউন হাই স্কুলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা সম্প্রসারণ কাজ করা হয়। একই অর্থ বছরে আল-হিকমা অ্যাকাডেমির চারতলা ভিত বিশিষ্ট একতলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ৪৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।

৬২ লাখ ১৯ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় মসজিদ-ই-নূর দাখিল মাদ্রাসার চার তলা ভিত বিশিষ্ট একতলা অ্যাকাডেমিক ভবন। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে মহিষবাথান আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছয় তলা ভিত বিশিষ্ট একতলা অ্যাকাডেমিক নির্মাণ কাজ করা হয় ৭১ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে। নওদাপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ছয়তলা ভিত বিশিষ্ট একতলা অ্যাকাডেমিক নির্মাণ কাজ করা হয় ৭১ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে। পরে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৫৫ লাখ ৫৮ হাজার টাকা ব্যয়ে খাদেমুল ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চার তলা ভিত বিশিষ্ট একতলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়।

রাজশাহী রেসিডেন্সিয়াল কলেজের চারতলা ভিত বিশিষ্ট একতলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে। এতে ব্যয় করা হয় ৪২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আর ৫০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ে রাজশাহী বহুমূখি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি ল্যাবরেটরি উচ্চ বিদ্যালয়, পিএন সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, রাজশাহী সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ও শিরোইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আইসিটি ল্যাবে বরাদ্দ দেয়া হয়।

এদিকে, ২০১৩-১৮ সাল পর্যন্ত মোট ৩ কোটি ৯৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ে দেশ সেরা রাজশাহী কলেজের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট ছাত্রীনিবাস ভবন নির্মাণ করা হয়। অপরদিকে, ওই কলেজেরই ১০০ শয্যা বিশিষ্ট ছাত্রাবাস ভবন নির্মাণ করা হয় ৫ কোটি ১৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজে ছয়তলা ভিত বিশিষ্ট দ্বিতীয় তলা হোস্টেল ভবন নির্মাণ করা হয় ৫ কোটি ৬ হাজার টাকা ব্যয়ে।

আর ২০১৬-১৮ অর্থ বছরে বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজের প্রথম তলা হতে চতুর্থ তলা পর্যন্ত অ্যাকাডেমিক ভবন নিমার্ণে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২ কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থ বছরে ওই কলেজেরই ছয় তলা ভিত বিশিষ্ট একতলা অ্যাকাডেমিক নির্মাণ করা হয়েছে ১ কোটি টাকা ব্যয়ে। ২০১৬-১৮ অর্থ বছরে শহিদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান ডিগ্রি কলেজের প্রথম তলা হতে পঞ্চম তলা পর্যন্ত অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ করা হয় ৩ কোটি ২২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয়ে।

ওই অর্থ বছরেই ৩ কোটি ২২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয়ে বরেন্দ্র কলেজের প্রথম তলা হতে পঞ্চম তলা পর্যন্ত অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ হয়। ৩ কোটি ২২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয়ে কোর্ট কলেজেও প্রথম তলা হতে পঞ্চম তলা পর্যন্ত অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ হয়। হাজী জমির উদ্দিন সাফিনা মহিলা কলেজের প্রথম তলা থেকে চতুর্থ তলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয় ২ কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা খরচে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে মেট্রোপলিটন কলেজের প্রথম তলা হতে পঞ্চম তলা পর্যন্ত অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজে বরাদ্দ দেয়া হয় ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, সরকারি অফিস ভবনের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন এমপি ফজলে হোসেন বাদশা। ২০১৫-১৮ অর্থ বছরে তিনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের প্রথম তলা হতে পঞ্চম তলা পর্যন্ত অফিস ভবন নির্মাণ কাজে বরাদ্দ দেন ৩ কোটি ৮৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে পাঁচতলা ভিত বিশিষ্ট এক তলা অফিস ভবন নির্মাণেও বরাদ্দ দেয়া হয় ৬২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।

রাজশাহী বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভিত বিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণ শুরু হয় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে। এতে বরাদ্দ দেয়া হয় ৫৮ লাখ ১৮ হাজার টাকা। ওই অর্থ বছরেই রাজশাহী কোর্ট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভিত বিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ৫৮ লাখ ১৮ হাজার টাকা।

রাজশাহী মুসলিম অ্যাকাডেমির ছয়তলা ভিত বিশিষ্ট একতলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে। এতে ব্যয় হয় ৭৭ লাখ ৪ হাজার টাকা। হাউজিং এস্টেট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা সম্প্রসারণ কাজে ব্যয় হয়েছে ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ৫৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় রাজশাহী স্যাটেলাইল টাউন হাই স্কুলের ছয়তলা ভিত বিশিষ্ট একতলা অ্যাকাডেমিক ভবন। শিরোইল কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা সম্প্রসারণ কাজে বরাদ্দ দেয়া হয় ৬৬ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

হড়গ্রাম মডেল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের চারতলা ভিত বিশিষ্ট একতলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ৬৬ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। উপশহর মহিলা কলেজ ছয়তলা ভিত বিশিষ্ট একতলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ৭৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রাজশাহী কোর্ট অ্যাকাডেমি দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা সম্প্রসারণ কাজের জন্য দেয়া হয় ৭০ লাখ টাকা। বালিয়াপুকুর বিদ্যানিকেতনের ছয়তলা ভিত বিশিষ্ট একতলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ৬৭ লাখ ১ হাজার টাকা। সাবিত্রী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় পাঁচ লাখ টাকা।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে ইসলামিয়া কলেজের মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১০ লাখ টাকা। একই অর্থ বছরে সাহেরা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ২০১৮-২০ অর্থবছরে বঙ্গবন্ধু আদর্শ বিদ্যালয় মেরামত ও সংস্কার কাজে বরাদ্দ দেয়া হয় ১০ লাখ টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছয় তলা বিশিষ্ট ছয় তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

একই অর্থ বছরে ছয়তলা ভিত বিশিষ্ট ছয়তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য রাজশাহী কোর্ট একাডেমীকে ৪ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা, ছয়তলা ভিত বিশিষ্ট ছয়তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য রাজশাহী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়কে ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, ছয়তলা ভিত বিশিষ্ট ছয়তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস উচ্চ বিদ্যালয় উচ্চ বিদ্যালয়কে ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

এছাড়াও ছয়তলা ভিত বিশিষ্ট ছয়তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য অগ্রণী মহাবিদ্যালয়কে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, ছয়তলা ভিত বিশিষ্ট ছয়তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য গোলজারবাগ উচ্চ বিদ্যালয়কে ৪ কোটি ৪৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা, ছয়তলা ভিত বিশিষ্ট ছয়তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য শাহমখদুম হাই স্কুলকে ৪ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার টাকা, হামিদপুর নওদাপাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়কে ৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা, সায়রা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে চার তলা ভিত বিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের জন্য ৭২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

২০১৯-২০ অর্থবছরে মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার সম্প্রসারণ কাজের জন্য ৭০ লাখ টাকা, বালিয়াপুকুর বিদ্যা নিকেতনে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার সম্প্রসারণ কাজের জন্য ৭৫ লাখ টাকা, বালাজান নেশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের জন্য ২ কোটি ৪০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা, রাজশাহী মুসলিম হাই স্কুলের কাজের জন্য ২ কোটি ৪০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা, রাজশাহী বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়র ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের জন্য ২ কোটি ৪৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা, জাতীয় তরুণ সংঘ একাডেমির ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের জন্য এক কোটি ১৮ লাখ ৪২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।

এছাড়াও কোর্ট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের জন্য এক কোটি ৪৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা, মসজিদ-ই নূর দাখিল মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের জন্য এক কোটি ৬৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, রাজশাহী দারুস সালাম কালিম মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের জন্য ৪ কোটি ৩৪ লাখ 88 হাজার টাকা, রাজশাহী কোর্ট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ তলার উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের জন্য এক কোটি ৪৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা, সূর্য কণা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য ১০ লাখ টাকা, শহীদ কর্নেল কাজী এমদাদুল হক পাবলিক স্কুলের মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য ১০ লাখ টাকা, উপশহর মহিলা কলেজের মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য ১০ লাখ টাকা, রাজশাহী আর্ট কলেজের মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

নওদাপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য দেওয়া হয় ১০ লাখ টাকা। আল হিকমা মুসলিম একাডেমির ও সংস্কার কাজের জন্য ১০ লাখ, লক্ষ্মীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য ১০ লাখ, মেহের চন্ডী উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার সম্প্রসারণ কাজের জন্য ৭১ লাখ ২৫ হাজার, শিরোইল কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের জন্য এক কোটি ৩৭ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, রাজশাহী ভোলানাথ হিন্দু একাডেমির ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের জন্য ৯৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা, সাবিত্রী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের জন্য এক কোটি ৩১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, তারাইমারি দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য ২ কোটি ৯৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা বরাদ্দা দেওয়া হয়।

একই অর্থ বছরে রাজশাহী স্যাটেলাইট টাউন হাই স্কুলের সীমানা প্রাচীর পুন:নির্মাণ ও পুরাতন ভবন সংস্কারের জন্য ১৫ লাখ টাকা, আলহাজ্ব সুজাউদ্দৌলা কলেজের ছয় তলা বিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য এক কোটি টাকা, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস হাই স্কুলের সীমানা প্রাচীর পুন:নির্মাণের জন্য ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

২০২১-২২ অর্থবছরে বঙ্গবন্ধুর ডিগ্রী কলেজের ছয় তলা বিশিষ্ট ১ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের জন্য এক কোটি টাকা, রাজশাহী কলেজের ১০ তলা বিশিষ্ট ১০ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের জন্য ১২ কোটি ৩৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা, পিএন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় তৃতীয় তলার সম্প্রসারণ কাজের জন্য ৭৪ লাখ টাকা, গভার্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের দ্বিতীয় তৃতীয় ও চতুর্থ তলার জন্য সম্প্রসারণ কাজের জন্য ৪৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, রাজশাহী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তৃতীয় ও চতুর্থ তলার সম্প্রসারণ কাজের জন্য ২ কোটি ২৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা, হাজী মোহাম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার সম্প্রসারণ কাজের জন্য এক কোটি ৩৭ লাখ ২৯ হাজার টাকা, শিরোইল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার সম্প্রসারণ কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ৯১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।

এছাড়াও আটকোষী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছয় তলা বিশিষ্ট ছয় তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের জন্য ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, ছোট বনগ্রাম আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছয় তলা বিশিষ্ট ছয় তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের জন্য তিন কোটি ৯০ লাখ টাকা, শাহ মখদুম কলেজের ছয় তলা বিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের জন্য এক কোটি টাকা, সায়রা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভিত বিশিষ্ট দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের জন্য এক কোটি টাকা, রানীবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের জন্য ১ কোটি ১৮ লাখ ১৬ হাজার টাকা, সূর্য কন্যা উচ্চ বিদ্যালয় ছয় তলা ভিত বিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের জন্য ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

এছাড়াও ইসলামিয়া কলেজের ছয় তলা বিশিষ্ট ১ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের জন্য এক কোটি, শহীদ নাজমুল হক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছয় তলা বিশিষ্ট ১ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের জন্য এক কোটি ও শহীদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ তলার ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের জন্য দুই কোটি ৬৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন এমপি বাদশা।

২০১০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত রাজশাহী কলেজের বিভিন্ন ভবন মেরামত ও সংস্কার, পানি সরবরাহ, ড্রেন নির্মাণ, রাস্তা, বাউন্ডারি ওয়াল ও বৈদ্যুতিক কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। একই কাজের জন্য সরকারি সিটি কলেজকে ১ কোটি ৯০ লাখ, সরকারি মহিলা কলেজকে ২ কোটি ২০ লাখ, নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজকে ৩ কোটি ৪০ লাখ, বুদ্ধিজীবী সরকারি কলেজকে ১ কোটি, পিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে ৯৫ লাখ, সরকারি বালিকা বিদ্যালয়কে ১ কোটি ৮০ লাখ, কলেজিয়েট স্কুলকে ৭০ লাখ, শিরোইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়কে ৬৫ লাখ, ল্যাবরেটরী হাই স্কুলকে ২ কোটি ৭০ লাখ, আঞ্চলিক অফিস ভবন নির্মাণ কাজে ১ কোটি ১০ লাখ, টিচার্স ট্রেনিং কলেজেকে ৯০ লাখ, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৭০ লাখ ও রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটকে দেয়া হয়েছে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বদলে যাওয়া উন্নয়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহীর উন্নয়ন কর্মী সুব্রত পাল বলেন, বিগত দিনের তূলনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামগত আমূল পরিবর্তন ও উন্নয়ন হয়েছে এটি অস্বীকারের কোন সুযোগ নেই। শিক্ষা নগরীর পথে ধাবিত হওয়ার প্রশ্নে এটি অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। এর জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই। তবে শুধুমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নই নয়, শিক্ষার গুণগতমান নিয়েও কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব সহকারে কাজ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

শিক্ষক প্রতিনিধি ও শাহমখদুম কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল করিম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও বরাদ্দ নিয়ে কখনোই সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার কাছে অসহযোগিতা আমরা পাইনি। তিনি সবসময় অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের সমস্যাগুলো শুনেছেন এবং সমাধানের চেষ্টা করেছেন। সহজ কথায় একজন অভিভাবকের মতো তিনি রাজশাহীর সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নজরদারি করার মধ্য দিয়ে আগলে রেখেছেন। শিক্ষা নগরী গড়ে তোলার কর্মযজ্ঞে তার ভূমিকা অপরিসীম।

জানতে চাইলে রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ১৪ বছর আগের রাজশাহী এবং এখন রাজশাহীর মধ্যে অনেক পার্থক্য। শহরের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন পরিকল্পিত উন্নয়নের আওতায়। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে আমার স্বপ্ন ছিল, যদি কখনো জনপ্রতিনিধিত্ব করতে পারি, তবে জ্ঞান চর্চাকে প্রাধান্য দিয়ে রাজশাহীকে প্রকৃত অর্থেই শিক্ষা নগরীতে পরিণত করবো। আজকে প্রশান্তি পাই, যখন দেখি- বাস্তবেই শিক্ষা নগরী এখন দৃশ্যমান। নগরবাসী রাস্তা দিয়ে গেলে দেখতে পাবেন, স্কুল-কলেজগুলোতে এখন নতুন নতুন আধুনিক ভবন। শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষার জন্য যে ধরনের পরিবেশ প্রয়োজন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহযোগিতায় আমি সেটি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। আগামীতে তথ্য-প্রযুক্তিগত আরো অনেক পরিকল্পনা আছে, রাজশাহীর মানুষ সুযোগ দিলে সেসব বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।

সোনালী/জেআর