ঢাকা | জুন ১৫, ২০২৪ - ১০:৫০ অপরাহ্ন

ভিসির পর এবার ইবি রেজিস্ট্রারের গোপন অডিও ফাঁস!

  • আপডেট: Wednesday, March 15, 2023 - 7:45 pm

অনলাইন ডেস্ক: সম্প্রতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালামের কণ্ঠ সদৃশ বেশ কয়েকটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। অডিওগুলোতে চাকরির প্রশ্ন সরবরাহ, চাকরির বিনিময়ে আর্থিক লেনদেন ও শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারির নিয়োগ বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ভিসি সদৃশ কণ্ঠে কথা বলতে শোনা যায়।

ভিসির অডিও ফাঁসের ঘটনায় ক্যাম্পাসে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিরেক্টর অব প্লানিং (পিডি) ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসানের কণ্ঠ সদৃশ অর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) মধ্যরাতে সাথী খাতুন নামে একটি আইডি থেকে অডিওটি সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করা হয়। আপলোড করা ২ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের অডিওতে রেজিস্ট্রারের সাথে মঈন নামে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির (সম্ভাব্য ঠিকাদার) লেনদেন সংক্রান্ত পর পর চারটি ভিন্ন ভিন্ন সময়ের কথোপকথন শোনা যায়।

অডিও এর প্রথম অংশে শোনা যায় মঈন নামের একজন বলেন, ‘স্যার আসসালামু আলাইকুম স্যার। আমি মঈন বলছিলাম। স্যার আজকে তো ওইটা জমা দিয়ে দিলাম টাকা কোথায় কখন প্লেস করবো আপনাকে, বললে আমি ওইভাবে প্রিপারেশন নিতাম আরকি।’

এসময় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসান সদৃশ কণ্ঠে বলেন, ‘৩টার সময় কুষ্টিয়া এসে দিতে হবে।’ তখন মঈন বলেন, ‘৩টার সময় স্যার পারবো না। সাড়ে ৪টার সময় পারবো।’

আলী হাসান বলেন, ‘সাড়ে ৪টার সময়ই দিয়েন।’ মঈন, ‘জি স্যার, সাড়ে ৪টার সময় পাবো। চার লাখ টাকা পাবো আপনার টোটাল টাকাটাই পাবো, কিন্তু আপনার চার লাখ টাকা সাড়ে চারটা থেকে পাবো পাঁচটা সাড়ে পাঁচটার ভেতর মধ্যে দিয়ে দিব।’

আলী হাসান, ‘ফোনে এগুলো বলা দরকার নাই।’ মঈন, ‘আমি সেইফ জায়গায় আছি।’ আলী হাসান, ‘না না ফোনে এগুলো বলার দরকার নেই।’

মঈন, ‘ওহ আচ্ছা, আচ্ছা ঠিক আছে।’ আলী হাসান বলেন, ‘আমি শুধু ফোনে বলে দিব কোনো জায়গা।’ মঈন, ‘ওকে ধন্যবাদ স্যার।’

অডিওর দ্বিতীয় অংশে রেজিস্ট্রার আলী হাসান বলেন, ‘কে বলছেন?’ বিপরীতপক্ষ থেকে বলেন, ‘মঈন সাহেব বলছিলাম, আপনি কে বলছিলেন?’ আলী হাসান , ‘আমি ডাইরেক্টর প্লানিং বলছিলাম।’

মঈন, ‘ও আচ্ছা স্যার। ওইটা সাড়ে চারটার দিকে পাবেন।

আলী হাসান, আচ্ছা ঠিক আছে। ওইটা একটু দেখেশুনে বলবেন।’ মঈন, ‘না স্যার বলবো না। আামি শুধু ইঙ্গিত দিব আপনাকে ‘ যে আমার হয়ে গেছে আমি কোথায় আসবো।’ আলী হাসান, ‘আচ্ছা ঠিক আছে।’

অডিওর তৃতীয় অংশে রেজিস্ট্রার আলী হাসান মঈনকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘হয়েছে?’ মঈন, ‘না এখনো হয়নি স্যার, বসে আছি ব্যাংকে। কনফার্মেশনের জন্য বসে আছি ঢাকার।’ এ সময় আলী হাসান বলেন, ‘আচ্ছা, আমি আছি শহরের ভেতরেই আছি।’

অডিওর চতুর্থ অংশে মঈন বলে, ‘আস্সালামুআলাইকুম স্যার। আলী হাসান, কী অবস্থা?’

মঈন, ‘স্যার একটু অপেক্ষা করতে হবে স্যার একটু অপেক্ষা। কোথাও বসে চা টা খান।’ আলী হাসান, ‘কতক্ষণ লাগবে আর?’ মঈন, ‘লাগবে আধা ঘণ্টা লাগবে স্যার’। আলী হাসান, ‘কত কত?’ মঈন বলেন, ‘ঢাকা থেকে ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়েছে স্যার। আলী হাসান, আরে বাবা এদিকে ব্যাংক বন্ধ করে দিব তো। মঈন, আরে বইলেন না। ঢাকা থেকে আবার ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়েছে। কীভাবে যে করেছি আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। আপনি অল্প একটু অপেক্ষা করেন স্যার। একটু অপেক্ষা করেন আসতেছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি এমদাদুল আলম বলেন, রেজিস্ট্রারের এ বিষয়টি নিয়ে আমরা খুবই বিব্রত। প্রাথমিকভাবে তার কণ্ঠ সাদৃশ্য পেয়েছি। কর্মকর্তা সমিতির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে উপাচার্যের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করব।

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসান বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত না। এমন ঘটনা ঘটলে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারি।

সোনালী/জেআর