ঢাকা | জুন ২১, ২০২৪ - ১:৫২ পূর্বাহ্ন

চোখ হারাতে বসেছেন রাবির তিন শিক্ষার্থী

  • আপডেট: Tuesday, March 14, 2023 - 4:32 pm

অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মার্কেটিং বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী আলিমুল সাকিব। শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সংঘর্ষে পুলিশের রাবার বুলেট তার চোখে পড়ায় গুরুতর আহত হন তিনি। তার চিকিৎসা রাজশাহী মেডিকেল কলেজে হচ্ছে না, তাই তাকে মঙ্গলবার ঢাকা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

শুধু আলিমুল সাকিব নন। আরও দুই শিক্ষার্থী সংঘর্ষের সময় ছোড়া পুলিশের রাবার বুলেটে তাদের চোখ হারাতে বসেছেন। তাদেরকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

অন্য দুই শিক্ষার্থী হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আল-আমিন ইসলাম। তার দুচোখেই রাবার বুলেট লাগায় দুচোখ মেলে তাকাতে পারছেন না। তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক বলে ডাক্তার জানিয়েছেন। অপর শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের মাহফুজ। তার চোখ ইটের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত। তাকেও ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।

গত শনিবার সন্ধ্যায় বাসের ভাড়া নিয়ে এক রাবি শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জের ধরে শিক্ষার্থীদের সাথে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর রাতভর দফায় দফায় চলে সংঘর্ষ।

এদিকে ব্যবসায়ীদের ইট-পাটকেল ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশের টিয়ার গ্যাস এবং রাবার বুলেটে ২ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে শতাধিক শিক্ষার্থী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের অনেকেই সুস্থ হয়ে ক্যাম্পাসে ফিরেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের গুরুতর আহত ৬ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। অনেকেই অপারেশন থিয়েটারে আছেন। আবার অনেককেই ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। তাদেরকে দেখতে গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা হাসপাতালে যান।

সংঘর্ষের ঘটনায় দুচোখে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে চোখ মেলে তাকাতে পারছেন না আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আল-আমিন আকাশ। দুচোখ বন্ধ রেখে সংঘর্ষের রাতের ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, আমরা সবাই নিরস্ত্র ছিলাম। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় পুলিশের সহযোগিতায় স্থানীয়রা আমাদের উপর ইট-পাটকেল ও পেট্রোল বোমা ছুড়ছিল। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে স্থানীয়রা পালিয়ে যায়। তখন শিক্ষার্থীরা বিনোদপুর গেট খুলে রাস্তায় শান্তিপূর্ণ অবস্থান করলে পুলিশ পানি ছিটাতে শুরু করে। আমরা ক্যাম্পাসের ভেতরে চলে আসছিলাম। তখন পুলিশ আমাদের উপর টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। আমার দুই চোখে গুলি লাগায় আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। ছাত্রদের উপর পুলিশ কেন অতর্কিতভাবে গুলি চালালো তা আমার বুঝে আসে না।

এদিকে আহত শিক্ষার্থীদের সকল চিকিৎসা ব্যয়ভার প্রশাসন দেখবে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার নিশ্চিত করেছেন। কোনো শিক্ষার্থীর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তাকে ঢাকায় পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

মেডিকেলে শিক্ষার্থীদেরকে দেখাশোনা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা এম তারেক নূর। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আমরা আহত শিক্ষার্থীদের সবসময় খোঁজ খবর রাখছি। তাদের চিকিৎসা সকল ব্যয়ভার আমরা বহন করছি। তাদের মধ্যে যারা গুরুতর আহত তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠাচ্ছি মঙ্গলবার। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য স্যার তাদের কাছে এসে দেখে গেছেন।

সোনালী/জেআর