ঢাকা | জুলাই ১৮, ২০২৪ - ১০:৫৯ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে এবার নিপাহ ভাইরাসে গৃহবধূর মৃত্যু

  • আপডেট: Thursday, March 2, 2023 - 1:51 am

অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এবার নিপাহ ভাইরাসে ফরিদা ইয়াসমীন (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার বিকেলে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে নিপাহ ভাইরাসে রামেক হাসপাতালে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হলো।

নিহত ফরিদা গত মঙ্গলবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি নওগাঁর মান্দা উপজেলার কশব ইউনিয়নের চকচোঁয়ার গ্রামের আব্দুল খালেকের স্ত্রী।

জানা যায়, কয়েকদিন আগে জ্বর ও খিচুনি নিয়ে হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন ফরিদা ইয়াসমীন। নিপাহ ভাইরাস পরীক্ষায় বুধবার সকালে তার পজিটিভ রিপোর্ট আসে। তারপর ফরিদার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রেফার্ড করা হয় আইসিইউতে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

একই লক্ষণ নিয়ে নিপাহ সাসপেক্টেড ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন ফরিদা ইয়াসমীনের শাশুড়ি। তার শাশুড়ির বয়স ৫৫ বছর। এছাড়া দুই সপ্তাহ আগে একই লক্ষণ নিয়ে নিজ বাড়িতেই ওই গৃহবধূর শ্বশুরের মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকদের ধারণা, তার শ্বশুরও নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এছাড়া তাদের পুরো পরিবারের খেজুরের রস না ফুটিয়ে খাওয়ার বিষয়টিও জানা গেছে।

নিপাহ ভাইরাসে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এখন পর্যন্ত মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই খেজুরের রস পান করেছিলেন। প্রত্যেকেই জ্বরের মতো সাধারণ লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এরপর হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে তাদের। পরিবর্তীতে তাদের হাসপাতালের আইসিইউতে নিলে মৃত্যু হয়। তবে মৃতদের একজনের নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে মৃত্যুর পর।

রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আজিজুল হককে তত্ত্বাবধায়ক করে বিশেষ টিম গঠন করে রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ডা. আজিজুল হক জানান, এ পর্যন্ত রামেক হাসপাতালে ছয়জনের নিপা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একজনের মৃত্যুর পর শনাক্ত করা হয়েছে। আর যে পাঁচজনের বেঁচে থাকতেই শনাক্ত হয়েছিল, এর মধ্যে ১৪ বছর বয়সি এক শিশু বেঁচে আছে। সে ঢাকায় চিকিৎসা নিচ্ছে।

রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. আবু ইউসুফ মোহাম্মদ ফারুক জানান, আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা প্রত্যেকের নমুনা সংগ্রহ করে টেস্ট করেছে আইইডিসিআর। তবে খেজুরের রস পানে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।

সোনালী/জেআর