ঢাকা | জুলাই ১৭, ২০২৪ - ২:২৯ পূর্বাহ্ন

মেরে শিবির বলে চালিয়ে দেওয়ার হুমকি, দুই ছাত্রলীগ নেতাকে শোকজ

  • আপডেট: Sunday, February 19, 2023 - 1:42 pm

অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে এক ছাত্রকে নির্যাতন ও শিবির আখ্যা দিয়ে মেরে ফেলার হুমকির ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ছাত্রলীগ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ছাত্রলীগ।

শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়টি জানানো হয়।

ভুক্তভোগী ছাত্রের নাম কৃষ্ণ রায়। অভিযুক্তরা হলেন রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নাঈম আলী ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সোলাইমান।

কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রেক্ষিতে হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নাঈম আলী ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সোলাইমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তার প্রেক্ষিতে আপনাদের (অভিযুক্তদের) বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার উপযুক্ত কারণসহ লিখিত জবাব আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে ছাত্রলীগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দপ্তর সেলে জমা দিতে নির্দেশ প্রদান করা হলো।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, সোহরাওয়ার্দী হলের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আমি ও আমাদের সভাপতি আমরা দুজন খোঁজখবর নিচ্ছি। আর এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন আর না ঘটে সেজন্য অন্যান্য নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত রোববার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলে আটকে রেখে কৃষ্ণ রায়কে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে হল শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতা নাঈম ইসলাম ও মো. সোলাইমানের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে হল প্রাধ্যক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম ইসলামের সাত-আটজন অনুসারী আমার রুমে এসে আমাকে বের হয়ে যেতে হুমকি দেয়। আমি রাজি না হলে আমার বিছানাপত্র ফেলে দিয়ে আরেকজনকে তুলে দেয় তারা।

এ সময় সোলাইমান নামে এক ছাত্রলীগ নেতা আমাকে মারধর করে। এরপর আমাকে সাধারণ সম্পাদক নাঈম ইসলামের রুমে নিয়ে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম বলেন, ‘তোকে মেরে শিবির বলে চালিয়ে দেব। ‘ কিন্তু আমি হিন্দু জানার পর বলেন, ‘এখন তো তোকে মেরে ফেললেও কেউ কিছু করতে পারবে না। ‘

সোনালী/জেআর