ঢাকা | জুন ১৫, ২০২৪ - ১১:২১ পূর্বাহ্ন

বেড়িয়ে যান রাজশাহী

  • আপডেট: Tuesday, February 7, 2023 - 7:54 pm

জগদীশ রবিদাস: রাজশাহীর পুরনো নাম ছিল মহাকালগড়। তৎকালীন দেও রাজারা অঞ্চলটি শাসন করতেন। ১২৮৮-৮৯ সালের দিকে হজরত শাহ মখদুম রূপোশের সঙ্গে যুদ্ধে পতন ঘটে তাঁদের। এর পর থেকেই পাল্টাতে থাকে মহাকালগড়। নাম পরিবর্তন করে হয় বোয়ালিয়া। ১৮২৫ সালে প্রশাসনিক কার্যালয় স্থাপনের পর হয় নাম হয় রামপুর-বোয়ালিয়া। ১৯২৯ সালে রেলপথ স্থাপনের সময় বর্তমান রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের নাম দেওয়া হয় রামপুর-বোয়ালিয়া স্টেশন। এর পরেই আবার ‘রাজসাহী’ নামটি লেখা হয়। ১৯৪৭ সালের পর বর্তমান বানানে ‘রাজশাহী’ লেখা হয়। রামপুর-বোয়ালিয়ার পাল্টে শহরের নাম লেখা শুরু হয় রাজশাহী।

১৯৩০ সালে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন। ছবি: সংগৃহীত

১৯৮৭ সালের ১৩ আগস্ট মো. আবদুল হাদী প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে রাজশাহী পৌরসভাটি রাজশাহী মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনে উন্নীত হয়। ১৯৯০ সালে মিউনিসিপ্যাল শব্দটির পরিবর্তে সিটি শব্দটি যুক্ত হয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নামকরণ হয়। শহরের দক্ষিণ পাশ দিয়েই পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে বয়ে গেছে একসময়ের প্রমত্তা পদ্মা নদী। বর্তমানে সিটি করপোরেশন এলাকার আয়তন প্রায় ৯৭ দশমিক ১৭ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ।

শহরটি আরো বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন- রেশম নগরী, শিক্ষা নগরী, আমের রাজধানী, শান্তির শহর, সবুজ নগরী ইত্যাদি। রাজশাহীতে রয়েছে প্রায় সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রয়েছে সুশিক্ষার সুন্দর পরিবেশও। রাজশাহীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তূলনামুলক ভালো। রাজশাহীজুড়ে রয়েছে সবুজের সমারোহ। রাজশাহী শহর ছিমছাম সাজানো গোজানো একটি শহর। যে একবার রাজশাহীতে এসেছে, রাজশাহীরর প্রশংসা অবশ্যই তার মুখে শুনবেন।

রাজশাহী শহর ও জেলাজুড়ে ঘুরে দেখার মতো আছে অনেক স্থান। দৈনিক সোনালী সংবাদের পাঠকদের জন্য আজ রাজশাহীর কিছু দর্শণীয় স্থান তুলে ধরা হলো:

সাফিনা পার্ক

সাফিনা পার্ক
রাজশাহী জেরার গোদাগাড়ী উপজেলা সদর ডাইংপাড়ার পূর্ব দিকে ৮-১০ কিলোমিটার দূরে গোদাগাড়ী-আমনুরা সড়কের পার্শ্বে দিগরাম খেঁজুরতলা। এই খেঁজুরতলা সাফিনা পার্কে যাওয়ার সময় রাস্তার দুই ধারের ফসলের যে সবুজের সমাহার ঘটেছে, তা পর্যটক ও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়বে।

সরমংলা ইকোপার্ক
গোদাগাড়ী উপজেলার ডাইংপাড়া মোড় থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার পূর্ব দিকে গোদাগাড়ী-আমনুরা সড়কের পার্শ্বে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা সরমঙ্গলা ইকোপার্ক। গোদাগাড়ী উপজেলার গোদাগাড়ী সদর ইউনিয়নে পুঠিয়া মন্দির রাজশাহী শহর থেকে ০৮ হতে ১৩ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং উত্তর পশ্চিমে দেওপাড়া, কুমারপুর ও বিজয়নগর পুঠিয়া রাজশাহী।

গোয়ালকান্দি জমিদার বাড়ি
গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন জমিদার বাড়িতে তাহেরপুর বা ভবানীগন্জ হইতে ভ্যান, রিক্সা, সিএনজি করে আসা যায়।

তুলসি ক্ষেত্র
রাজশাহী জেলা সদর হতে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের মোহনপুর উপজেলা হতে আরা ২.৫ কিমি উত্তরদিকে সইপাড়া নামক স্থনে নামতে হবে, সইপাড়া থেকে ৬ কিমি পশ্চিমে গেলেই তুলসি ক্ষেত্র স্পটটি পাওয়া যাবে। রাজশাহী হতে বাস, সিএনজি, মিশুক যোগে সইপাড়া আসা যাবে। জন প্রতি ভাড়া (রাজশাহী-সইপাড়া) ৩০-৫০ টাকা। এরপর সইপাড়া থেকে সিএনজি, অটো, ভ্যান যোগে তুলসি ক্ষেত্র নামক স্থানে আসা যাবে। জন প্রতি ভাড়া সইপাড়া থেকে ১০-১৫ টাকা।

নিশিন্দা রাজের ধ্বংসস্তুপ

রাজশাহী বাস টার্মিনাল থেকে বাসে তাহেরপুর পৌরসভা বা আলোকনগর, তারপর পায়ে হেঁটে অথবা ভ্যানে যাওয়া যায়। রাজশাহী জেলা বাগমারা উপজেলা হামিরকুৎসা ইউনিয়ন আলোকনগর সকোপাড়া খলিফা পাড়ায় অবস্থিত।

পুঠিয়া রাজবাড়ী

পুঠিয়া রাজবাড়ী
রাজশাহী জেলা সদর হতে ৩২ কিঃমিঃ উত্তর- পূর্বে নাটোর মহাসড়ক অভিমুখে পুঠিয়া অবস্থিত। বাসে করে দেশের যে কোন স্থান হতে পুঠিয়া আসা যায় এবং ট্রেনে করে নাটোর অথবা রাজশাহী নেমেও সড়কপথে সহজে আসা যায়।

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর
রাজশাহী শহরের জিরোপয়েন্ট থেকে আনুমানিক ৮০০ মিটার পশ্চিম দিকে প্রধান সড়কের উত্তরে অবস্থিত। রিক্সাতে, অটোতে এখানে আসা যায়। এই জাদুঘর বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর। বিভিন্ন প্রাচীন-প্রাচীন নিদর্শন দিয়ে সাজানো এই জাদুঘর। প্রত্নতত্ত্ব সংগ্রহের দিক থেকে এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সংগ্রহশালা।

জিয়া শিশু পার্ক

জিয়া শিশু পার্ক
রাজশাহী শহরের নওদাপাড়া, বিমানবন্দর রোডের পাশেই অবস্থিত। এই পার্কটি অনেকটা ফ্যান্টাসি কিন্ডম এর আদলে করা হয়েছে। বেশ কিছু আধুনিক রাইড রয়েছে পার্কটিতে।

পদ্মার পাড়
রাজশাহী শহর পদ্মা নদীর পাড়ে অবস্থিত। তাই শহরের মানুষ একটু সময় পেলেই ছুটে যায় পদ্মার পাড়ে। বড়কুঠি এলাকা, পদ্মা গার্ডেন, লালনশাহ মুক্ত মঞ্চ, আই বাঁধ, টি-বাঁধ, শিমলা পার্ক, সিমান্তে নোংগড় তারই ফসল।

বাঘা মসজিদ

বাঘা মসজিদ
বাঘা মসজিদ মুসলিম ইতিহাসের একটি নিদর্শন। রাজশাহী বাস স্টান্ড থেকে ৪৫/- ভাড়া নিবে। দেড় থেকে দুই ঘন্টা লাগবে। মুল সড়কের পাশেই মসজিদটি। মসজিদের সাথে রয়েছে বিশাল এক দিঘী।

উৎসব পার্ক

উৎসব পার্ক
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রে স্থাপিত নতুন আকর্ষণ এই উৎসব পার্ক। লেক, ভাস্কর্য আর বিভিন্ন রাইড দিয়ে সাজানো এই পার্ক। পিকনিক স্পট হিসেবে দারুন। রাজশাহী শহর হতে বাসযোগে ৪৫ টাকা ভাড়া লাগে এখানে আসতে।

এসবের বাইরেও রয়েছে- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, হযরত শাহমখদুম বিমানবন্দর, সারদা পুলিশ একাদেমি, রাজশাহী কলেজসহ বেশকিছু দর্শণীয় স্থান। রাজশাহীর সাথে সারা দেশের সড়ক, রেল এবং আকাশ পথে যোগাযোগ রয়েছে। শহরে রয়েছে থাকার জন্য ভালো মানের হোটেল। তাই দেরি না করে আজই রাজশাহী ট্যুরের প্লান করে ফেলুন। আশা করি আপনার ভালো লাগবে।

লেখায় দর্শণীয় স্থানগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ‘বাঁধ ভাঙার আওয়াজ’ নামক একটি ওয়েবসাইট থেকে।

সোনালী/জেআর