ঢাকা | জুন ১৩, ২০২৪ - ৫:৪১ অপরাহ্ন

ঘুম ভেঙে টের পেলাম পুরো ভবন কাঁপছে: প্রত্যক্ষদর্শী

  • আপডেট: Monday, February 6, 2023 - 5:45 pm

অনলাইন ডেস্ক: তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ১৩০০ ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকশ মানুষ।

এক প্রতিবেদনে বিবিসির জানায়, ভূমিকম্পে দুই দেশে অনেক ভবন ধসে পড়েছে। এতে অনেকেই আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

৭ দশমিক ৮ মাত্রার এই ভূমিকম্পকে জীবনের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তুরস্কের মালত্য শহরে বাসিন্দা ওজগুল কনাকচি। এদিকে সিরিয়ার ইদলিব শহরের বাসিন্দা আলা নাফি জানিয়েছেন, এই ভূমিকম্প ছিল ‘অত্যন্ত ভীতিকর ও আতঙ্কজনক’।

সোমবার ভোরে আঘাত হানা ওই ভূমিকম্পের একজন প্রত্যক্ষদর্শী ২৫ বছর বয়সী ওজগুল। তিনি জানান, তিনি চোখের সামনে বিভিন্ন ভবনের জানালাগুলো চূর্ণবিচূর্ণ হতে দেখেছেন।

ভূমিকম্পের সময় ওজগুল ও তার ভাই ঘুমাচ্ছিলেন। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে এত প্রাণহানি হলেও ওজগুল ও তার ভাই অক্ষত আছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে বলছিলাম, ‘তুমি কি কাঁপছ?’

ওজগুল আরও বলেন, ‘আমি একটি ল্যাম্পের দিকে তাকাই। মনে হচ্ছিল ল্যাম্পটি ভেঙে যাচ্ছে। আমরা আমাদের তিন বছর বয়সী ভাতিজাকে সঙ্গে নিয়ে লাফিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। আমাদের চোখের সামনে আফটার শকে একটি ভবনের জানালাগুলো ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়।’

ভূমিকম্পে ওজগুলদের ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের আশপাশে আরও পাঁচটি ভবন ধসে গেছে। তিনি জানান, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তুষারপাত হচ্ছে। এটা আরও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

ওজগুল বলেন, সব লোক এখন রাস্তায় অবস্থান করছেন। তাঁরা কী করবে, তা নিয়ে বিভ্রান্ত।

এদিকে সিরিয়ার ইদলিব শহরের বাসিন্দা আলা নাফি তার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর টের পেলাম পুরো ভবন কাঁপছে। এটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা এবং সেখান থেকে পালিয়ে বের হয়ে আসা অনেক কঠিন ছিল।

তিনি আরও বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে, অনন্তকাল ধরে ভূকম্পন হচ্ছিল। এই সময়টা খুবই লম্বা ছিল। এমন ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় শহরের রাস্তাগুলোতে মানুষজন ও তাদের শিশুদের কাঁদতে দেখার ব্যাপারটি ছিল হৃদয়বিদারক। আমরা সবাই ভবনগুলো থেকে দূরে একটি জায়গায় জড়ো হই।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার ভোররাত ৪টা ১৭ মিনিটে তুরস্কের নুরদাগি এলাকা থেকে ২৩ কিলোমিটার পূর্বে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮।

ভূম্পিকম্পটি রাজধানী আঙ্কারা ও তুরস্কের অন্যান্য শহরেও অনুভূত হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট পুরো অঞ্চল জুড়েই কম্পন অনুভূত হয়েছে। গাজিয়ানতেপ শহরের কাছে এর গভীরতা ছিল মাত্র ১৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার।

সংস্থাটি আরও জানায়, প্রথম ভূমিকম্পের পর আরও কয়েকবার শক্তিশালী কম্পন (আফটার শক) অনুভূত হয়েছে। সবশেষ কম্পনের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭ মাত্রার।

সোনালী/জেআর