ঢাকা | এপ্রিল ১৪, ২০২৪ - ৮:০৫ অপরাহ্ন

জাপানি মা ও বাবার কাছে একদিন করে থাকবে ছোট মেয়ে

  • আপডেট: Thursday, February 2, 2023 - 6:00 pm

অনলাইন ডেস্ক: জাপানি মায়ের কাছে একদিন ও বাবার কাছে একদিন থাকবে তাদের ছোট মেয়ে। জাপানি মায়ের কাছে দুটি মেয়েরই থাকার বিষয়ে যে আদেশ এসেছিল গত রোববার, তার বিরুদ্ধে বাবার আবেদনের শুনানির আগ পর্যন্ত ছোট মেয়েটিকে এভাবে ভাগাভাগি করে পাবেন বাবা ও মা।

ঢাকার মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত দেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন মেয়ে দুটির বাবা ইমরান শরীফের আইনজীবী নাসিমা আক্তার লাভলী।

গত ২৯ জানুয়ারি আদালতের আদেশের পর ৯ বছর বয়সী ছোট মেয়েটিকে তার মায়ের হাতে তুলে না দিয়ে আত্মগোপনে যান ইমরান। ১১ বছর বয়সী বড় মেয়েটি থাকে মা নাকানো এরিকোর কাছে।

ছোট মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে তার মা গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। দুই দিন পর বুধবার গুলশানের কালাচাঁদপুর থেকে বাবা-মেয়েকে উদ্ধার করে সেইফ কাস্টডিতে নিয়ে যায় র‌্যাব। সকালে তাদের হাজির করা হয় আদালতে।

আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদেরকে ৯ বছর বয়সী মেয়েটি বলে, আমি বাবাকে ভালোবাসি। বাংলাদেশে থাকতে চাই। মায়ের কাছে যাব না।

ইমরান শরীফ বলেন, সে আমার কাছে থাকতে চায়, মায়ের কাছে যাবে না। কিন্তু ওর মা ওর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে ওকে নিয়ে যেতে। কিন্তু ও যেতে রাজি না। আমি বিষয়টা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

বড় মেয়েকে নিয়ে আদালতে আসেন মা নাকানো এরিকোও। পরে শুনানি শেষে বিচারক মামুনুর রশীদ সিদ্ধান্ত দেন, ছোট মেয়েটি শুক্রবার সকাল ১১টা পর্যন্ত বাবার কাছে থাকবে। এরপর তার বাবা তাকে বুঝিয়ে দেবে গুলশান থানাকে।

২৪ ঘণ্টা মায়ের কাছে থাকার পর আবার মেয়েটি ফিরে যাবে বাবার কাছে। এভাবে চলবে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। শিশু দুটি মায়ের কাছে থাকবে বলে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত সহকারী জজ ও পারিবারিক আদালতের বিচারক দুরদানা রহমান যে আদেশ দিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে ঢাকা জেলা জজ আদালতে আপিলের শুনানি হবে সেদিন।

পারিবারিক আদালতের বিচারক দুরদানা রহমান মেয়ে দুটিকে তার মায়ের কাছে দেয়ার আদেশে বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বাবা, মা এবং দুই মেয়ের সবশেষ বসবাসের স্থান জাপান হওয়ার কারণে বাংলাদেশের পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ এর ধারা ৬ (১) অনুযায়ী এই মামলা এভাবে চলতে পারে না।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, জাপানে থাকার সময় দুটি শিশুই পড়াশোনায় বেশ ভালো ছিল। বাবা তাদেরকে বাংলাদেশে আনার পর নবোদয় প্রি-ক্যাডেট স্কুলে ভর্তি করান। একইসঙ্গে আমেরিকার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে শিক্ষাদান চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তবে জেরায় বলেছেন, মেয়েদেরকে তিনি কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ভর্তি করেছেন। তবে আরজি দাখিলের সময় তারা সেই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল না।

বিচারক এও বলেন, শিশু দুটির পড়াশোনার বিষয়ে তাদের বাবার সিদ্ধান্ত তাদের কল্যাণ বয়ে আনবে না বলে মনে করেন তিনি।

মেয়ে শিশু দুটিকে নিয়ে জাপানের টোকিও পারিবারিক আদালতেও মামলা হয় এবং সেই মামলায় প্রথম থেকে লড়েন তাদের বাবা। সেখানে মামলায় লড়ার মধ্যে বাংলাদেশে আরও একটি মামলা করা কোনো সাধারণ যৌক্তিক চিন্তায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলেও মনে করেন বিচারক।

তিনি এও বলেছেন যে, দুই মেয়ের মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে এটা বাধা তৈরি করবে এবং এটি তাদের ভবিষ্যত বিকাশে কল্যাণকর হওয়ার সুযোগ নেই।

মাকে না জানিয়ে জাপান থেকে মেয়ে দুটিকে নিয়ে আসারও সমালোচনা করেছেন বিচারক। তিনি মনে করেন, কোনো আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের অভ্যাসগত বাসস্থান থেকে হঠাৎ অন্য একটি দেশে নিয়ে আসার এই বিষয়টি মাতৃত্বের বিশ্বজনীন ও সার্বজনীন রূপকে অসম্মান করার নামান্তর।

দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক, নথি পর্যালোচনা এবং মেয়েদের সঙ্গে খাস কামড়ায় একান্তে আলোচনা করে তাদের স্বার্থের কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথাও জানান বিচারক। বলেন, রবাবা ও মায়ের স্বার্থের উপরে রায়ে প্রাধান্য পেয়েছে মেয়েদের মঙ্গল ও নিরাপত্তার বিষয়টি।

সোনালী/জেআর