ঢাকা | জুলাই ১৭, ২০২৪ - ২:৪১ পূর্বাহ্ন

চোর বলায় বন্ধুকে কুপিয়ে হত্যা, রক্তাক্ত বিছানায় তিন রাত যাপন

  • আপডেট: Wednesday, January 18, 2023 - 11:00 am

অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের খাতিরে একই সঙ্গে গিয়েছিলেন কর্মের খোঁজে। দিনমজুরের কাজও পান একই জায়গায়। থাকতেন অভিন্ন বিছানায়। নাওয়া-খাওয়াও চলছিল তাল মিলিয়ে। পরবাসে ভালোই কাটছিল তাঁদের দিন। হঠাৎ একজনের পকেট থেকে দেড় হাজার টাকা খোয়া গেলে তাঁদের বন্ধুত্বে ঘুণ ধরে। চোরের অপবাদ দিয়ে সেই টাকা দাবি করা হয় অপরজনের কাছে।

সেই কথা জানানো হয় গ্রামের বাড়িতেও। এতে বেজায় ক্ষিপ্ত হন অপরজন। এর পর এক রাতে ঘুমের মধ্যে প্রথমে বন্ধুর মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করে অজ্ঞান এবং পরে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। বিষয়টি গোপন করতে গুম করা হয় লাশ।

গতকাল মঙ্গলবার আদালতে দাঁড়িয়ে অকপটে এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন নাহিদ হোসেন। এর আগে শুক্রবার এ হত্যাকাণ্ডের পর সোমবার তাঁকে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার দুর্গাপুর নোয়াপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা গেছে, গ্রেপ্তার নাহিদ রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার উজিয়াল গ্রামের মোহাবীর রহমানের ছেলে। তিনি ও তাঁর বন্ধু একই জেলার বদরগঞ্জের আলাউদ্দিনের ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম থাকতেন কুমিল্লার দুর্গাপুর নোয়াপাড়ায়।

মঞ্জুরুল চুরির অপবাদ দেওয়া এবং বিষয়টি স্থানীয় ও গ্রামের বাড়ির লোকদের জানানোয় প্রচণ্ড অভিমান হয় নাহিদের। সেই ক্ষোভ থেকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। হত্যার পর লাশটি পার্শ্ববর্তী একটি ডোবায় ফেলে দেন। সেই থেকে তিন রাত কাটিয়েছেন বন্ধুর রক্তমাখা বিছানাতেই।

এদিকে মঞ্জুরুলের ফোন বন্ধ পেয়ে শুক্রবার রাতেই অনলাইনে বুড়িচং থানায় জিডি করেন তাঁর বাবা আলাউদ্দিন। তদন্তের এক পর্যায়ে সন্দেহজনক হিসেবে নাহিদকে আটক করে পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে মঞ্জুরুলকে হত্যার তথ্য বেরিয়ে আসে।

সোমবার রাতে তাঁকে নিয়ে সেই ডোবায় গেলে বস্তবন্দি অবস্থায় মঞ্জুরুলের দেহটি পাওয়া যায়। এ ঘটনায় গতকাল বুড়িচং থানায় মামলা করেন নিহতের ভাই মোস্তাকিন মিয়া।

মামলা বাদী মোস্তাকিন জানান, মঞ্জুরুল ও নাহিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ছিল। টাকা হারানোর ঠুনকো বিষয় নিয়ে নাহিদ আমার ভাইকে খুন করে ফেলবে- এটি মেনে নেওয়া যায় না। মঞ্জুরুলের মরদেহ রংপুরে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে। তিনি ঘাতক নাহিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বুড়িচং থানার ওসি মারুফ রহমান বলেন, মঞ্জুরুল নিখোঁজের জিডির সূত্র ধরে নাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এতেই হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়। ঘাতকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তল্লাশি করে লাশ উদ্ধার এবং নিহতের রক্তমাখা বালিশ, চাদর, দাসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার নাহিদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মঞ্জুরুলের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সোনালী/জেআর