ঢাকা | জুন ১৬, ২০২৪ - ৬:৫৫ অপরাহ্ন

প্রশিক্ষণের টাকা কম দিয়ে শিক্ষকদের তোপের মুখে শিক্ষা কর্মকর্তা

  • আপডেট: Monday, January 16, 2023 - 8:06 pm

অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহীতে প্রশিক্ষণের টাকা কম দিয়ে শিক্ষকদের তোপের মুখ পড়েছিলেন এক শিক্ষা কর্মকর্তা।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায়।

সোমবার (১৬ জানুয়ারি) এ ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

নতুন শিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক প্রশিক্ষণের টাকা কম দেওয়ায় শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

রোববার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মোহনপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ শেষে টাকা কম দেওয়ায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত শিক্ষকদের টাকা ফেরত দিয়ে মুক্ত হন ওই শিক্ষা কর্মকর্তা। তবে এই কর্মকর্তার দাবি, ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটনা ঘটেছিল।

রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিস জানায়, রাজশাহীতে নতুন শিক্ষাকার্যক্রম এনসিএ ট্রেনিং চলমান আছে। এরই ধারাবাহিকতায় মোহনপুর উপজেলায় পাঁচ দিনব্যাপী ৬৫২ জন শিক্ষকের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

এতে অংশগ্রহণ করেন ৬৩৮জন শিক্ষক। এদের মধ্য ৪৪টি স্কুল ও ১৮টি মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন। পাঁচ দিনে শিক্ষকদের সম্মানী বাবদ তাদের জন্য বরাদ্দ ছিল ভ্যাট বাদে ৫ হাজার ১৩০ টাকা করে। এছাড়া সংশ্লিষ্টরা প্রতিদিনের নাস্তা সরবরাহ করতেন। এ বাবদ প্রতিজনের জন্য খরচ বরাদ্দ ছিল ৮০ টাকা করে।

তবে একাধিক শিক্ষকের দাবি প্রথম দুদিন যে নাস্তা দেওয়া হয়েছে তা কোনোভাবেই ৮০ টাকার বলা যাবে না। সবমিলিয়ে বড়জোর ২৫-৩০ টাকা হবে। এজন্য শিক্ষকরা সবাই মিলে জানান তারা নাস্তা খাবেন না, এর বিনিময়ে টাকা নেবেন। কিন্তু শিক্ষা কর্মকর্তারা বলেন ৮০ টাকার পরিবর্তে তারা ৫০ টাকা করে তিন দিনের জন্য ১৫০ টাকা দেবেন। শিক্ষকরাও সেটি মেনে নেন। এছাড়াও প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা থেকে ৮০ টাকা করে কেটে রাখেন শিক্ষা কর্মকর্তা।

শিক্ষকরা জানান, প্রত্যেক শিক্ষককে ৫ হাজার ২৮০ টাকা করে দেওয়ার কথা থাকলেও ৫ হাজার ২০০ টাকা দেওয়া হয়। এ সময় ৮০ টাকা কম দেওয়ায় শিক্ষকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। শিক্ষকদের বাধার কারণে ট্রেনিং সেন্টার থেকে বেরোতে পারছিলেন না কর্মকর্তারা। পরে তারা বাধ্য হয়ে প্রত্যেককে ৫ হাজার ২৭০ টাকা করে দিয়ে কোনোভাবে ট্রেনিং সেন্টার ছাড়েন। প্রত্যেক শিক্ষকের কাছ থেকে ১০ টাকা করে কেটে নিলেও শেষ পর্যন্ত শিক্ষকরা এ নিয়ে আর বেশি কিছু বলেননি।

যদিও রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুক্তাদির আহমেদ বলেন, একটু ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমন পরিস্থিতি হয়েছিল। ভ্যাটের জন্য কত শতাংশ টাকা কাটা হবে, এ নিয়ে একটা সিদ্ধান্তহীনতা ছিল। এরপর তারা ১০ শতাংশ হারে ভ্যাট কাটায় শিক্ষকরা উত্তেজিত হন। পরে স্ট্যাম্পের জন্য মাত্র ১০ টাকা কেটে পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

সোনালী/জেআর