ঢাকা | জুন ১৪, ২০২৪ - ৯:৪৭ অপরাহ্ন

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নামা যুবকেরা নতুন মুক্তিযোদ্ধা: বাদশা

  • আপডেট: Wednesday, December 28, 2022 - 8:42 pm

স্টাফ রিপোর্টার: প্রকৃতি ও পরিবেশ বাঁচাতে বাংলাদেশসহ বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় মাঠে নামা তরুণ-যুবকদের নতুন প্রজন্মের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি বলেছেন, আমাদের দেশের তরুণ-যুবকেরা যখন জলবায়ু নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন, কর্মসূচি উত্থাপন করছেন; তখন রাষ্ট্রীয়ভাবেও এর কিছু প্রতিকার অবশ্যই সম্ভব।

বুধবার বিকালে জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত রাজশাহী যুব জলবায়ু সম্মেলন ২০২২-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বারসিকের সার্বিক সহযোগিতায় বরেন্দ্র অঞ্চল যুব সংগঠন ফোরাম এই সম্মেলনের আয়োজন করেন। সম্মেলন পরবর্তী ফোরামের বিভিন্ন সদস্যদের কার্যক্রম মূল্যায়নে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, পরিবেশ বলতে শুধুমাত্র প্রকৃতির ব্যাপার নয়, এখানে সমাজও অন্তর্ভুক্ত। তাই সমাজ এবং প্রকৃতি- দুটোর মধ্যেই যেন শৃঙ্খলা, সমতা, নায্যতা ফিরে আসে সেভাবেই আমাদের কাজ করতে হবে। উন্নত রাষ্ট্রগুলো পরিবেশের যে ক্ষতি করছে, সেটির প্রতিবাদ জানানোর জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে জাতি-গোষ্ঠী কাজ করছে তাদের সাথে অবশ্যই আমরা কণ্ঠস্বর মেলাবো।

এছাড়াও আমাদের দেশের ভেতরের সমাজে যে বৈষম্য হচ্ছে, তারও প্রতিকারের জন্য আমরা কাজ করবো। এভাবে যদি কাজ করা যায়, তবে অবশ্যই বাংলাদেশের মানুষ এটিকে সমর্থন ও প্রসংশা করবে। এবং বোঝা যাবে, নতুন সংকট মোকাবিলা করার জন্য এক গুচ্ছ নতুন ‘মুক্তিযোদ্ধা’ সমাজে নেমেছে।

‘প্রকৃতির সাথে অবিচার করছি’ মন্তব্য করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের দেশের হাওর, বাওর, জলাশয়, কৃষি জমি সমস্ত ক্ষেত্রেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আছে। প্রকৃতির সাথে আমরা একরকম অবিচার করছি। বরেন্দ্র অঞ্চলের কথাই যদি বলি; এখানে বড় বড় জলাশয় ছিল, নদী-খালবিল ছিল। এখন কোথায় সেসব? অমারা ভূ-উপরস্থ পানি উত্তোলন না করে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ডেকে নাও আনতে পারতাম। এটির জন্য বারবার কথা বলেছি, দাবি তুলেছি কিন্তু প্রতিকার হয়নি।

‘কৃষকদের জমি এখন শিল্পপতিদের হাতে’ মন্তব্য করে রাকসুর সাবেক এই ভিপি আরো বলেন, কৃষির কতো মূল্য তা আমরা অনেকেই ভেবে দেখিনা। ঊর্বর কৃষি জমির ওপরে এখন শিল্প প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। সৈয়দপুর থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত সবথেকে ঊর্বর কৃষি জমিগুলো এখন আর কৃষকদের হাতে নেই। এসব এখন শিল্পপতিতের হাতে চলে গেছে। এর জন্য বাংলাদেশের মানুষ কৃষির সংকটে যেমন পড়ছে, আগামীতে খাদ্য সংকটেও পড়তে পারে। শুধুমাত্র তাই নয়, মানবিক সংকটের সম্ভাবনাও কম নয়।

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় যুবকদের যেকোন কর্মসূচিতে পাশে থাকার আশা ব্যক্ত করে বর্ষিয়ান এই রাজনীতিক বলেন, আমাদের তরুণ-যুবকেরা যখন দেশের ভালো কাজ এগিয়ে আসে তখন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমাদের বুকটা গর্বে ভরে যায়। আদিবাসীদের অধিকার আদায়, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে তরুণ-যুবকদের উপস্থিতি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তরুণদের অংশগ্রহণ আমাদের চলার পথকে মসৃণ করবে। আমি সবসময় তাদের সহযাত্রী হিসেবে সাথে আছি।

বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়ক শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে জলবায়ু সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন, যুব বরেন্দ্র ফোরামের আহ্বায়ক জামাল উদ্দীন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের দপ্তর সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম, বারসিকের সাতক্ষীরা জেলার সমন্বয়ক জাহাঙ্গির আলম, সামাজিক কল্যাণ সংস্থার পরিচালক সম্রাট রায়হান প্রমুখ। এসময় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান ও রাজনীতিবিদ আশরাফুল হক তোতা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন পাভেল পার্থ।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস