ঢাকা | জুন ১৬, ২০২৪ - ৬:৫২ অপরাহ্ন

চীন-ভারতে সংক্রমণ বাড়ায় উৎকণ্ঠা

  • আপডেট: Friday, December 23, 2022 - 6:06 pm

অনলাইন ডেস্ক: দেশে বর্তমানে করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক। অনেক দিন ধরে সংক্রমণের হার ১ শতাংশের নিচে ছিল। মৃত্যুহারও বেশ কিছুদিন ধরে শূন্যের কোঠায়। কিন্তু চীন ও ভারতে ব্যাপক হারে সংক্রমণ বাড়ছে। চীনে ওমিক্রন ধরনের বিএফ.৭ উপধরনের কারণে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই উপধরন ভারতেও শনাক্ত হয়েছে। প্রতিবেশী দেশে সংক্রমণ বাড়লে বাংলাদেশেও সেই টেউ আছড়ে পড়ে। এ কারণে বাংলাদেশেও উদ্বেগ বাড়ছে।

ওমিক্রনের নতুন উপধরন বিএফ.৭ অতিসংক্রামক ও শনাক্ত করা কঠিন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এর সংক্রমণ এড়াতে এবং দেশের জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিতে বন্দরগুলোতে সতর্কতা জারি এবং স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের জরুরি ভিত্তিতে করোনার বুস্টার ডোজ দেওয়ারও পরামর্শ তাঁদের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে সংক্রমণ বাড়ার ফলে বাংলাদেশেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ এক সপ্তাহের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বেশ কয়েকটি দেশে সংক্রমণ বেড়েছে। এই তালিকায় আছে চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ব্রাজিল ও জার্মানি। সংস্থাটির সর্বশেষ সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সাত দিনে বিশ্বে ৩৪ লাখ ৪৫ হাজার জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ হিসাবে দৈনিক ৪ লাখ ৯২ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। এক সপ্তাহে আক্রান্তের হার ৩ শতাংশ বেড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যায়, ১৬ থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে নতুন করে কভিডে ১৪২ জন আক্রান্ত হন। আর মারা যান দু’জন। গত এক মাসে ১ হাজার ৩২৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ১৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১৬ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে এ সময়ে কারও মৃত্যু হয়নি। করোনার নতুন উপধরনের বিষয়ে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বন্দরগুলোতে বাড়তি নজরদারি রয়েছে। বিএফ.৭ শনাক্তে জিনোম সিকুয়েন্স চলমান রয়েছে। হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে ধীরে ধীরে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দেশে ওমিক্রনের বেশ কয়েকটি উপধরন সক্রিয় রয়েছে। তবে এখনও বিএফ.৭ শনাক্ত হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন বলেন, করোনার নতুন ধরন শনাক্তে তাঁদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গত মাসে নমুনা পরীক্ষায় এক্সবিবি.১ নামে উপধরনটি বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এ মাসের ফল পেতে আগামী মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

আইইডিসিআরের উপেদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, যতদিন পর্যন্ত ডব্লিউএইচও বিশ্বকে মহামারিমুক্ত ঘোষণা না করছে, ততক্ষণ আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্কতার মধ্যে থাকতে হবে। এখন শীতপ্রধান দেশগুলোতে সংক্রমণ বাড়ছে। গত দুই বছরের পরিসংখ্যান বলছে, ফেব্রুয়ারিতে সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে যাতে নতুন কোনো ঢেউ এলেও প্রতিরোধ করতে পারি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংক্রমণ পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক হওয়ায় দেশের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা কমে এসেছে। খুব কম মানুষকে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায়। সম্প্রতি চতুর্থ ডোজ টিকা দেওয়া শুরু হলেও সাড়া মিলছে না।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, শুধু মাস্ক পরে ৮০ শতাংশ সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে টিকা ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

এ পর্যন্ত দেশে করোনার পাঁচটি ঢেউ এসেছে। বেশিরভাগই হানা দিয়েছে শীতকালে। দেশে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে ২০২০ সালের ৮ মার্চ। ধীরে ধীরে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। করোনার প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। মার্চে আবার দেখা দেয় করোনার ঢেউ। এই দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভারতীয় ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

দ্বিতীয় ঢেউয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় গত বছর জুলাইয়ে। তখন পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে কোনো কোনো দিন আড়াইশর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত বছর অক্টোবরে তা নিয়ন্ত্রণে আসে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৃতীয় ঢেউ শুরু হয়। এটা নিয়ন্ত্রণে আসে গত মার্চে। এই ঢেউ প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের তুলনায় দ্রুত নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পাশাপাশি এই ঢেউয়ে রোগী কম পাওয়া গেছে, মৃত্যুও কম হয়েছে। তিন মাস পর জুনে চতুর্থ ঢেউ দেখা দেয়। প্রায় দুই মাসে চতুর্থ ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে ছোট পরিসরে পঞ্চম ঢেউ আসে। এটি অক্টোবরে শেষের দিকে নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

এ মহামারিতে দেশে এ পর্যন্ত সরকারি হিসেবে মারা গেছে ২৯ হাজার ৪৩৮ জন। তবে বিদেশি গবেষণায় বলা হয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। সমকাল।

সোনালী/জেআর