ঢাকা | জুন ১৪, ২০২৪ - ৮:৩৭ অপরাহ্ন

ক্রোয়াটদের বিধ্বস্ত করে ফাইনালে দুর্দান্ত আর্জেন্টিনা

  • আপডেট: Wednesday, December 14, 2022 - 12:00 pm

অনলাইন ডেস্ক: হাতুড়ির শত আঘাতে তালা না ভাঙলেও খুলে যায় চাবির এক খোঁচায়। ক্রোয়েশিয়ার শক্ত রক্ষণ কৌশলের ওই চাবি দিয়ে খুলেছেন লিওনেল স্কালোনি-লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। কাউন্টার অ্যাটাকের ল্যাতিন স্টাইলের সফল প্রয়োগ দিখিয়েছেন। তরুণ স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ দিয়েছেন ক্লিনিক্যাল ফিনিস। তাদের জাদুতে ক্রোয়াটদের ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে ফাইনালে উঠে গেছে আলবিসেলেস্তেরা।

সেমিফাইনালে হারে না আর্জেন্টিনা। পুরনো ওই সুখস্মৃতি সঙ্গে নিয়ে চার ডিফেন্ডারের সঙ্গে চার মিডফিল্ডার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। অভিজ্ঞ ক্রোয়াট মিডফিল্ডারদের পায়ে বলের পজিশন দিয়ে ঠান্ডা মাথায় খেলতে থাকে তার শিষ্যরা। যে রক্ষণ জাপান-ব্রাজিল ভাঙতে পারেনি কাউন্টার অ্যাটাকে ভরসা করা দলটি ম্যাচের ৩৪ মিনিটে তা খুলে ফেলে। পেনাল্টি থেকে লিওনেল মেসি দলের পক্ষে প্রথম গোল করেন। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতাকে ছাড়িয়ে ১১ গোলের কীর্তি গড়েন।

ওই গোল আদায় করে দেন আকাশি-সাদাদের তরুণ নাম্বার নাইন আলভারেজ। দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল নিয়ে ক্রোয়াটদের বক্সে ঢুকে যান তিনি। গোলরক্ষকের মুখে পড়ায় আলতো ভলিতে লিভাকোভিচকে কাটানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ফাউলের শিকার হয়ে পড়ে যান। যদিও ওই ফাউল এবং পেনাল্টি নিয়ে প্রশ্ন আছে।

আর্জেন্টিনার প্রথম গোল নিয়ে বিতর্ক থাকলে ম্যানসিটির তরুণ স্ট্রাইকার আলভারেজের করা দ্বিতীয় গোলটি আসরের অন্যতম সেরা। তিনিও কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করেন। আক্রমণ শানান ক্রোয়টরা। ওই বল কেড়ে নেয় আর্জেন্টিনা। এক পাসে বল পান নিজেদের অর্ধে থাকা আলভারেজ। তিনি এক টানে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে বক্সে ঢুকে বল পাঠিয়ে দেন জালে। ৩৯ মিনিটে আকাশি-সাদারা লিড নেয় ২-০ গোলে।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় ক্রোয়েশিয়া। আর্জেন্টিনা রক্ষণ সামলে ওঁত পেতে থাকে দ্রুতগতির আক্রমণে। বেশ কটা সুযোগও পায় তারা। এর মধ্যে ৬৯ মিনিটের গোলটিও চোখে লেগে থাকার মতো। আলভারেজ কেবল দারুণ দক্ষতায় ওয়ান টাচে জালে পাঠিয়েছেন বলটি। কিন্তু ওই কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মেসি তার পুরনো পজিশন বাঁ-প্রান্ত দিয়ে ক্রোয়াটদের বক্সের কোণায় ঢুকে যান। তাকে আটকাতে ব্যস্ত তিন ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে ফাঁকায় দাঁড়ানো আলভারেজকে দিয়ে গোল করান।

ওই অ্যাসিস্টে তিনি স্পর্শ করেন কিংবদন্তি ডিয়াগো ম্যারাডোনাকে। আর্জেন্টাইন ‘ফুটবল ঈশ্বর’ চারটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে আট গোলে সহায়তা দেওয়ার কীর্তি গড়েন। এবার মেসিও দিলেন আট গোলে সহায়তা। এখন মেসিদের ফাইনালের প্রতিপক্ষের অপেক্ষা। ৩৬ বছর পর শিরোপা খরা ঘুচানোর অপেক্ষা। গ্রেট অব অলটাইম বিতর্ক থামানোর অপেক্ষা। বুধবার রাতে ফ্রান্স ও মরক্কো দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে। ওই ম্যাচের জয়ী দল ১৮ ডিসেম্বর আর্জেন্টিনার বিপক্ষে লড়বে শিরোপার জন্য।

সোনালী/জেআর