ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২২, ২০২৪ - ১:৪৪ অপরাহ্ন

বাদশার রাজনৈতিক জীবন নিয়ে আলোচনায় জাতীয় নেতৃবৃন্দ

  • আপডেট: Sunday, November 20, 2022 - 2:12 pm

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও রাকসুর সাবেক ভিপি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলে হোসেন বাদশা এমপি’র ৭০তম জন্মবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনের ইতিবৃত্ত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন দেশের বরেণ্য রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সামাজিক নেতৃবৃন্দ। শনিবার বিকালে আয়োজিত এক সম্মিলন সভায় তারা এই আলোচনা করেন।

চলতি মাসের শুরুতে বাদশার জীবনের ৭০ ও রাজনীতির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করতে অধ্যাপক ডা. মেসবাহ কামালকে আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহকে সদস্য সচিব করে জাতীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির উদ্যোগেই আজ বিকালে ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে সম্মিলন সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে আমন্ত্রিত অতিথিদের মঞ্চস্থ ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে ফজলে হোসেন বাদশার জীবন ও দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ভিত্তিতে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত করে উদযাপন কমিটি। প্রামাণ্যচিত্রে বাদশার ছাত্রজীবন থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন লড়াই-সংগ্রামের রাজনৈতিক পটভূমির চিত্র তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উত্থাপন করেন নব্বইয়ের গণ আন্দোলনের রুপকার হিসেবে খ্যাত নূর আহমেদ বকুল। স্বাগত বক্তব্য দেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. মেসবাহ কামাল।

তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে ফজলে হোসেন বাদশার আত্মনিবেদন দেশপ্রেমের অনন্য উদাহরণ। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে দেশকে যখন পাকিস্তানী ধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছিল, তখন তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি যেমন সোচ্চার ছিলেন; অপরদিকে এদেশের বিভক্ত বামপন্থী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার দুরহ কাজটিও তিনি করেছেন। জেনারেল জিয়া ও এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্রদের প্রতিরোধকে সংগঠিত করার কাজে সবথেকে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন ফজলে হোসেন বাদশা।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও গবেষক জান্নাতী ফেরদৌসী বলেন, ‘বাদশা ভাই’ আমাদের অনুপ্রেরণা ও অহংকারের প্রতীক। তার মতো সৎ মানুষ সংসদে আছেন; এটিতে আমরা শক্তি, সাহস ও ভরসা পাই। জাতীয় আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব দ্রং বলেন, জীবনের সাথে জীবন মেলানোর আয়োজনে ফজলে হোসেন বাদশার রাজনীতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তিনি দেশের আদিবাসী মানুষের কাছে একবুক কাছের মানুষ। সমতল ও পাহারের আদিবাসী মানুষ তাকে এক বাক্যে নেতা হিসেবে বিবেচনা করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেন, আমার বিপদের বন্ধু ফজলে হোসেন বাদশা। আমি স্থানীয়ভাবে যেদিন বড় একটি সমস্যায় ছিলাম, তখন তিনি আমার পাশে এসে সাহস যুগিয়েছেন। তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এক কথায় বলতে গেলে- তার রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর অত্যন্ত অর্থবহ।

সাবেক ছাত্রনেতা বাবুল খান বলেন, আমরা যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজাকারবিরোধী আন্দোলন করি, সেই আন্দোলনে আমাদের নেতা ছিলেন ফজলে হোসেন বাদশা। ছাত্রদের বিপুল সমর্থনে তিনি ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ঢাকার রাজপথে হওয়া অনেক মিছিলে তিনি প্রধান নেতৃত্ব দিয়েছেন।

রাকুস নির্বাচনে ফজলে হোসেন বাদশার প্যানেলের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক (জেএস) প্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা ও লেখক মনোয়ানরুল হক বলেন, ‘বাদশা ভাইয়ের’ সাথে আমার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত- দুই সম্পর্কই আছে। তার রাজনৈতিক জীবন শুধুমাত্র একটি সংখ্যা নয়, আদর্শ ও ত্যাগের ফসলও বটে। সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেন, ফজলে হোসেন বাদশার একই ধারার রাজনীতি রাজনৈতিক অঙ্গনে খুব বিরল। তার ত্যাগের রাজনীতি আগামী প্রজন্মের জন্য পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।

লেখক ও গবেষক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা যখন প্রগতিশীল কোন আন্দোলন করতাম, তখন ছাত্রনেতাদের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হতো। ছাত্রনেতা হিসেবে আমরা সবসময় ফজলে হোসেন বাদশাকে কাছে পেয়েছি। তিনি আমাদের শিক্ষকদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অনেক প্রগতিশীল সংগ্রামকে স্বার্থক করেছেন।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেন, রাজনীতির দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের পথচলায় আমার সহযোদ্ধা ফজলে হোসেন বাদশা আদর্শ ও চেতনাবোধ থেকে চ্যুত হননি। সমাজতন্ত্রের লাল পতাকা হাতে নিয়ে তিনি মেহনতী মানুষের জন্য দেশব্যাপী কাজ করে গেছেন। তার একই ধারার রাজনৈতিক জীবন আমাদের পার্টির জন্য গৌরব ও অহংকারের।

ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, আমি আমার রাজনীতি থেকে কোনদিন কখনো কিছু চাইনি। চেয়েছি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে একটি সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র। যে রাষ্ট্র আমরা এখনো প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। রাজনীতির দীর্ঘ ৫০ বছর অতিক্রম করেছি। কখনো এর ওপর কোন দাগ পড়তে দেইনি। এখন আমার জীবনের একটিই প্রত্যাশা- বঙ্গবন্ধুর ৭২-এর সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জাতীয় চার মূলনীতি পূর্ণরূপে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে একটি সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা। যতদিন দেহে প্রাণ আছে, এটি বাস্তবায়নের লড়াই অব্যাহত থাকবে।

বেনজির আহমেদ ও নাসরীন খান লিপি অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস