ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২৪ - ১২:১৮ পূর্বাহ্ন

রাতভর নির্যাতনের শিকার যুবক মারা গেলেন বিকেলে

  • আপডেট: Sunday, September 25, 2022 - 2:29 pm

অনলাইন ডেস্ক: গাজীপুরের শ্রীপুরে মো. রানা মিয়া নামে এক যুবককে নির্মম নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যার পর তাঁকে শ্রীপুরের মাওনা এলাকার পিয়ার আলী কলেজ এলাকায় দফায় দফায় নির্যাতন চালানো হয়। শনিবার ভোরে রানাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা।

এদিকে শনিবার রাতে অ্যাম্বুলেন্সে লাশ নিয়ে রানার স্বজনরা হাজির হন শ্রীপুর থানায়। তাঁর মা-বাবা ও স্বজনের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে চারপাশ। সেখানে দেখা যায়, রানার শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন। সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে নির্যাতনের ছাপ। পারিবারিক সূত্র জানায়, পেশায় রাজমিস্ত্রি রানার স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে গেছেন বেশ কিছুদিন।

তাঁর বাবা তেলিহাটী মুলাইদ পশ্চিমপাড়া গ্রামের আমিরুল ইসলামের ভাষ্য, রাতের খাবার নিয়ে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান রানা। পরে আর তিনি বাড়ি ফেরেননি। সারারাত তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। তাকে ভাঙারি ব্যবসায়ী মো. শিপন মিয়া ও তার লোকজন পিটিয়ে হত্যা করেছে। ছেলেকে নির্যাতনের খবর পেয়ে শনিবার সকালে তিনি ও তার স্বজনরা কলেজ এলাকায় গিয়ে রানাকে বীভৎস অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা নেওয়ার পথে শনিবার বিকেলে মারা যান রানা।

আমিরুল ইসলাম বলেন, কী অপরাধ ছিল আমার ছেলের? এভাবে কী একজন মানুষকে হত্যা করা যায়!

স্থানীয়দের দাবি, রানা মাদকাসক্ত ছিলেন। ওই এলাকা দিয়ে রাতে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা তাকে চোর বলে সন্দেহ করে। পরে শিপনসহ আরও কয়েকজন ধরে রানার ওপর নির্যাতন চালান।

অভিযুক্ত শিপন মিয়ার বক্তব্য নিতে তাঁর বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি। তাঁর মা রোকেয়া আক্তারের দাবি, রানাকে মারধরে শিপন জড়িত নন।

শ্রীপুর থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। কী কারণে এভাবে নির্যাতন করে রানাকে হত্যা করা হয়েছে তা জানতে তদন্ত করবেন।

সোনালী/জেআর