ঢাকা | জুন ২২, ২০২৪ - ৫:৫৯ অপরাহ্ন

কাগজে-কলমে দেশে বৈধ বেসরকারি হাসপাতাল ৬%

  • আপডেট: Wednesday, August 31, 2022 - 11:19 am

অনলাইন ডেস্ক: দেশে অবৈধ ও অনিবন্ধিত ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চালাচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান। এর মধ্যেই দেশে অনিবন্ধিত হাসপাতালের সংখ্যা নিয়ে আইসিডিডিআর,বি (উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ) দিয়েছে পিলে চমকানো তথ্য। সংস্থাটির গবেষণা বলছে, দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মধ্যে শুধু ৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের কাগজে-কলমে বৈধ নিবন্ধন রয়েছে। এমনও কিছু বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে, যারা নিবন্ধনের জন্য কখনোই আবেদন করেনি, তা প্রায় ১৪ শতাংশ (১৬১টি)।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আইসিডিডিআর,বি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই গবেষণা উপাত্ত তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির ম্যাটার্নাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ ডিভিশনের (এমসিএইচডি) জ্যেষ্ঠ পরিচালক ডা. শামস এল আরেফিন। ২০১৯-২০ সালে এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়। তবে ২০২২ সালে এসে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতেও পারে বলে জানিয়েছে আইসিডিডিআর,বি।

ডা. শামস এল আরেফিন বলেন, ‘দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বিরাজ করছে এক ধরনের অস্থিরতা। অনিয়ম রোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিভিন্ন সময় অভিযানও চালিয়েছে। বিষয়টি দেখতে ইউএসএইডের সহায়তায় আমরা ১২ সিটি করপোরেশনের ১০ জেলার ২৯ উপজেলায় একটি গবেষণা জরিপ পরিচালনা করি। এতে স্থানীয় সিভিল সার্জনসহ কিছু বেসরকারি হাসপাতাল সহায়তা করে।’

তিনি বলেন, ‘গবেষণাটি করতে গিয়ে ১ হাজার ১৮৯টি বেসরকারি হাসপাতালকে মূল্যায়নের জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়। তবে এর মধ্যে ৪০টি হাসপাতালই সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানায়। সবশেষ ১ হাজার ১১৭টিতে মূল্যায়ন করা হয়। এসব বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে ৯৫৬টি কোনো একসময় নিবন্ধনের আওতায় এসেছিল, যা প্রায় ৮৬ শতাংশ। আর বাকি ১৬১টি বেসরকারি হাসপাতাল কখনোই নিবন্ধন করেনি, যা ১৪ শতাংশ।’

তিনি বলেন, ‘কোনো একসময় নিবন্ধনের আওতায় আসা ৯৫৬টি বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে ৮৮৬টির (৭৯ শতাংশ) নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে; ৬৬টি হাসপাতালের (৬ শতাংশ) বৈধ লাইসেন্স ছিল এবং বাকি চারটি হাসপাতাল (দশমিক ৫ শতাংশ) এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি।’

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮০ সাল থেকে দেশে বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অগ্রগতি শুরু হয়। অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি হয় ২০০৭ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে। বর্তমানে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যসেবার জন্য নির্ভর করে বেসরকারি হাসপাতালের ওপর। বেসরকারি হাসপাতালের ওপর মানুষের এই নির্ভরশীলতার কারণ হলো সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ নানা সংকট।

আরও বলা হয়, ১৯৮২ সালের আইন অনুযায়ী বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে স্বাস্থ্যসেবার সাতটি শর্ত মানতে হয়। তবে বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব শর্ত পূরণ করে স্বাস্থ্যসেবা দিতে গেলে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়, যে কারণে কোয়ালিটি স্বাস্থ্যসেবা দিতে সমস্যা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার সহকারী পরিচালক দাউদ আদনান বলেন, কী যোগ্যতা থাকলে বেসরকারি হাসপাতাল নিবন্ধন পাবে- বর্তমানে এ বিষয়ে কোনো নীতিমালা নেই। যে কারণে যে কেউ চাইলে বেসরকারি হাসপাতালে নিবন্ধন চাইতে পারেন। পরিস্থিতি পরিবর্তনে আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি করতেও অনেক সময় লাগে। তবে গবেষণায় যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে।

সোনালী/জেআর