ঢাকা | জুন ২২, ২০২৪ - ৬:৩৩ অপরাহ্ন

পাঁচমাসেও উদঘাটন হয়নি ইউসুফ হত্যাকাণ্ডের রহস্য

  • আপডেট: Thursday, August 25, 2022 - 11:30 pm

 

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: মান্দায় ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইউসুফ আলী (১২) হত্যাকাণ্ডের কোনো কুলকিনারাই হয়নি। ঘটনার পরপরই এ খুনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু তাঁদের কাছ থেকেও মেলেনি তেমন কোনো তথ্য। এ অবস্থায় অন্ধকারেই ঘুরপাক খাচ্ছে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য।

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের পরপরই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁরা হলেন ভরট্ট কাঠেরডাঙ্গা গ্রামের বাবুল হোসেন ওরফে বাবু (৩৫), ওয়াহেদ হোসেন আপেল (২৫) ও চকউলি গ্রামের নুরুল ইসলাম ওরফে ইসলাম (২২)। এদের মধ্যে বাবু ও ইসলাম এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী এবং আপেল ইটভাটার শ্রমিক বলে জানায় স্থানীয়রা। তাঁরা বর্তমানে কারাগারে আছেন।

বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু ইউসুফের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা রেজাউল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। এক সপ্তাহ আগে ঢাকায় গেছেন রিকশা চালিয়ে উর্পাজনের আশায়। এসময় কথা হয় শিশুটির মা শিরিনা আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেছে। কিন্তু ছেলের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছুই করতে পারছে না পুলিশ। দেখছি, চেষ্টা করা হচ্ছে এমন সব কথা বলে শুধুই শান্তনা দেওয়া হচ্ছে।

মা শিরিনা আক্তার আরও বলেন, ঘটনার পরপরই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ। তাঁদের রিমাণ্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। কিন্তুর ছেলে ইউসুফকে হত্যার বিষয়ে কোনো তথ্যই বের করতে পারেনি। অবিলম্বে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনসহ জড়িত ব্যক্তিরদের ফাঁসির দাবী করেন তিনি।

ভরট্ট কাঠেরডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সাদেকুল ইসলাম বলেন, গ্রামের একটি নিষ্পাপ শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর তার লাশ ফেলে রাখা হয়েছিল বুড়ির বিলের একটি ভুট্টাখেতে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের কোনোই কুলকিনারা হয়নি। এ অবস্থায় গ্রামের লোকজন তাঁদের শিশু সন্তানদের নিয়ে অনেকটা আতঙ্কেই দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রইছ উদ্দিন বলেন, শিশু ইউসুফের বাবা রেজাউল ইসলাম পেশায় রিকশাচালক। বছরের বেশির ভাগ সময় রাজধানী ঢাকায় থেকে রিকশা চালিয়ে উপার্জন করেন। জমিজমা না থাকায় পারিবারিক কোনো বিরোধও নেই।

ইউপি সদস্য আরও বলেন, কী এমন অপরাধ করেছিল শিশু ইউসুফ, যাতে করে তাকে নৃশংসভাবে খুন করতে হয়েছে। এ খুনের পেছনে নারী ঘটিত কিছু আছে কিনা এ বিষয়ে এলাকার লোকজন যথেষ্ট সন্দিহান। তবে যারাই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকুক তাঁদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনে আওতায় আনার জোর দাবী জানান তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান বলেন, ক্লুলেস এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্তকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য গ্রেপ্তার তিন আসামির নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত: মান্দা উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের ভরট্ট কাঠেরডাঙ্গা গ্রামের রিকশাচালক রেজাউল ইসলামের ছেলে ইউসুফ আলী (১২) গত ২১ মার্চ বিকেল ৩টার দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিরুদ্দেশ হয়। সে আন্ধারিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরদিন ২২ মার্চ সকাল ১০টার দিকে বাড়ির পাশে বুড়ির বিলের একটি ভুট্টাখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।