ঢাকা | জুন ১৪, ২০২৪ - ৯:১৮ অপরাহ্ন

রাবি শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগ নেতার মারধর, তদন্ত কমিটি

  • আপডেট: Saturday, August 20, 2022 - 4:55 pm

অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অর্থনীতি বিভাগের সামসুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থীকে তিনঘণ্টা আটকে রেখে শারীরিকভাবে নির্যাতন এবং জোরপূর্বক ২০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শনিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আরিফুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সহকারী প্রক্টর ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আল মামুন ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জহুরুল আনিস। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রমাণ মিললে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান প্রক্টর।

এর আগে, শুক্রবার (১৯ আগেস্ট) রাতে রাবির অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সামছুল ইসলাম তাকে নির্যাতন ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত দরখাস্ত দেন। এতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর সাহার বিরুদ্ধে ওইদিন বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হলের ১৩২ নম্বর রুমে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন এবং ২০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেন।

অভিযুক্ত ভাস্কর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং মতিহার হলের ১৩২ নম্বর রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী সামসুল মতিহার হলের ১৫৯ নম্বর রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী।

লিখিত অভিযোগে সামছুল ইসলাম জানান, তিনি মতিহার হলের ১৫৯ নং রুমের একজন আবাসিক শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি মোবাইল সার্ভিসিং করে জীবিকা নির্বাহ করেন এবং পরিবার চালান। ১৫ আগস্ট মতিহার হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর সাহা তাকে ফোন করে দেখা করার কথা বলেন। তার কাছে গেলে চাঁদা দাবি করেন ভাস্কর। তারপর টাকার জন্য ফোন দেন এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। টাকা দিতে অক্ষম হওয়ায় আজ শুক্রবার বিকেল ৩টায় ভাস্কর সাহার রুমে ডেকে নিয়ে তার গলায় ছুরি ঠেকিয়ে আনুমানিক ২০ হাজার টাকা কেড়ে নেন এবং আরো ৬ হাজার টাকা দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সাংবাদিকদের জানানোর কথা বললে তাকে রড এবং স্ট্যাম্প দিয়ে বেধড়কভাবে পেটানো হয়। এছাড়া কাউকে জানালে আবরারের যে অবস্থা হয়েছে, সে অবস্থা হবে বলে হুমকি দেন। রাত ১১টার মধ্যে আরো ৬ হাজার টাকা না দিলে হল থেকে বের করারও হুমকি দেন ভাস্কর। এই অবস্থায় আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

সোনালী/জেআর