ঢাকা | জুন ১৫, ২০২৪ - ১১:২৫ অপরাহ্ন

অডিও ফাঁস: ক্ষমা চাইলেন ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি

  • আপডেট: Saturday, August 20, 2022 - 1:40 pm

অনলাইন ডেস্ক: সম্প্রতি ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভার একটি রেকর্ড ভাইরাল হয়। এতে একটি কক্ষের ভেতরে ডেকে নিয়ে হলে থাকা ছাত্রীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে শোনা যায়।

সেই কল রেকর্ড ফাঁসের পরই তামান্না জেসমিন রিভা এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে ক্ষমা চেয়েছেন। সেই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের প্রতিটি কর্মীর সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক। এরা আমার পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কিছু নয়। একান্ত ব্যক্তিগত পরিবেশে হলেও দায়িত্বশীল জায়গা থেকে অসংযত ভাষার প্রয়োগ আমার অপরাধ হয়েছে বলে আমি স্বীকার করছি। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আমাকে এমন শিক্ষা দেয় না তাই সংগঠনের প্রতি আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’

অডিও’র বিষয়ে জানতে চাইলে শুক্রবার রাতে তামান্না জেসমিন রিভা বলেছিলেন, ‘মেয়েরা প্রোগ্রামে যায়নি। তাই তাদের একটু বলতে আসছিলাম। তারা প্রোগ্রাম না করায় তাদের রুম থেকে শিফট করার কথা বলছি। এখন এ বিষয়টি যদি সাংবাদিকরা নিউজ করে, তাহলে আর কী বলার? হল প্রশাসন তো আর সবাইকে রুম চেঞ্জ করাতে পারবে না। এটা আমার দেখভাল করা রুম। আমি এখানে যেভাবে ভাল হবে, সেভাবে শিফট করাবো। এটা আমার এখতিয়ার।’

এর আগে শুক্রবার অডিওটি সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। অডিওতে যে কথাগুলো শোনা যাচ্ছে, তা নিজের বলে গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন তামান্না।

ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতিকে বলতে শোনা যায়, এইটুকু সেন্স থাকা উচিত ছিল, রুমটা যেহেতু ইডেন কলেজের প্রেসিডেন্ট নিয়ে নিছে, ইডেন কলেজের প্রেসিডেন্টের ওপরে আর কেউ নাই। উল্টাপাল্টা করবি এক পায়ে পাড়া দেব, আরেক পায়ে টেনে ছিঁড়ে ফেলব।

‘তোরা লিগ্যাল তাতে আমার… গেছে। কোন হেডাম দেখাইতে আসিস তোরা। আমার পলিটিক্যাল রুমে তোরা লিগ্যাল থাকবি কি না, সেটা তোদের বিষয়। কে কে টাকা জমা দিছিস? আমারে দিছিস? আর কে লিগ্যাল?’

এ সময় পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘ও তো অসুস্থ, বাসায় গেছে।’ এ সময় ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘২০২ (রুম নং) এ আর লিগ্যাল কে? তোরা লিগ্যাল তাতে আমার কী… গেছে? বল? আমি কি …… তোদের। চ্যাটাং চ্যাটাং করতাছোস! এক পায়ে পাড়া দিমু, আরেক পা টাইনা ধইরা ছিঁড়া ফেলমু। চার মাস হয়ে গেছে, ফাইজলামি শুরু করছিস!’

এ সময় সুমনা মীর নামে এক মেয়েকে গালমন্দ করতে শোনা যায় রিভাকে। তিনি বলেন, ‘বুঝিস না পলিটিক্যাল রুমে থাকিস। তোদের লিগ্যাল করাইছে তাতে আমার …. কি? আমি যদি একটা সিট না দেই, ২০২ থেকে তোদের কোন বাপ সিট দেবে? ম্যাডামেরা দেবে, ক্ষমতা আছে ম্যাডামদের? ম্যাডামদের ক্ষমতা আছে আমাদের রুম থেকে একটা মেয়েকে বের করার। ইডেন কলেজের প্রিন্সিপালেরও ক্ষমতা নেই এই রুম থেকে একটাকে বের করার। একদম গলায় পাড়া দিয়ে ধরতে ইচ্ছা করতেছে। আগামী এক ঘণ্টার মধ্যে যেই রুমে বলব সেই রুমে যাবি। আমার সঙ্গে হেডাম দেখাইতে আসে।’

এতে ইডেন কলেজ প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করে বলতে শোনা যায়, ‘একটা সিঙ্গেল মেয়ে যদি ওই রুমে এসে কন্ট্রোল করতে চাস, সে হোক নেত্রী, ইডেন কলেজের প্রিন্সিপাল ম্যামও কোনো মেয়ে দিতে পারবে না। এইটুকু সেন্স থাকা উচিত ছিল রুমটা যেহেতু ইডেন কলেজের প্রেসিডেন্ট নিয়ে নিছে, ইডেন কলেজের প্রেসিডেন্টের ওপরে আর কেউ নাই।’

সোনালী/জেআর