ঢাকা | জুন ২১, ২০২৪ - ১:৫৫ পূর্বাহ্ন

পাটের ভাল দামে চাষি খুশি

  • আপডেট: Wednesday, August 17, 2022 - 10:50 pm

মিজান মাহী, দুর্গাপুর থেকে: দুর্গাপুরে অনাবৃষ্টি ও খাল বিলে পানি না থাকায় পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছিল চাষিরা। একদিকে অনাবৃষ্টিতে খেতে পুড়ছিল পাট, অন্য দিকে খাল বিলে পানি না থাকায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে ভোগান্তিতে পড়ে এ অঞ্চলের পাট চাষিরা। কিন্তু সব হতাশা সষ্কট কাটিয়ে পাটের ভাল দাম পাওয়া চাষির মুখে হাসি ফিরেছে। বাজারে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২৮শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা দরে।

এবার ২বিঘা জমিতে পাটচাষ করে ছিলেন দুর্গাপুর পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম। জমিতে সেচ ও জাগের পানি সষ্কট মোকাবেলা করেও তাঁর দুই বিঘা জমিতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় সাড়ে ১২মণ পাট। শুরুতে তিনি ৩ হাজার ২০০টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন। বিগত বছরের চেয়ে এবার দাম ভালো পাওয়ায় হতাশা কাটিয়ে তাঁর চোখেমুখে হাসির ঝিলিক। পাটের আশানুরূপ ফলন ও বাজারে দাম বেশি পাওয়ায় তাঁর মতো অন্য পাটচাষিদের মুখেও হাসি ফুটেছে।

রৈপাড়া গ্রামের বজলুর রহমান বলেন, গত হাটে পাটের রং ভাল হওয়ায় ৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। ভাল দাম পেয়ে সব দু:খ বেদনা ভুলে গেছি। পানি সংকটে দুই মাইল দুরে ভ্যানগাড়ীতে পাট নিয়ে একটি ডোবায় জাগ দিয়েছিলাম। তাতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ফলন ও দাম ভাল পাওয়ায় সেই কষ্ট ভুলে গেছি।

সরেজমিন দুর্গাপুর ও তাহেরপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থান থেকে চাষিরা ভ্যান-ট্রলিতে করে পাট বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে আসছেন। বাজারদর ভালো থাকায় অনেক খুশি কৃষকেরা। প্রতি মণ পাট মানভেদে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা মণ পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। শুরুতেই রং ও মানের দিকে ভাল পাট ৩ হাজার ২০০টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে। এখন হাটে প্রচুর পাট আমদানিতে ২৮শ থেকে ৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

দুর্গাপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, এবছর উপজেলায় ১হাজার ৮৭২ হেক্টর জমিতে পাটচাষ হয়েছে। গত বছর ছিল ১ হাজার ৫৭০ হেক্টর। প্রায় ৩০০হেক্টর জমিতে পাটচাষ বেড়েছে। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৫৫২ মেট্রিক টন পাট। উপজেলায় ১৮ হাজার ৭২০জন কৃষক পাটচাষে সম্পৃক্ত। পাটচাষে চাষিদের আগ্রহ ফেরাতে ৩ হাজার চাষিকে প্রণোদনাও দিয়েছে সরকার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, বিগত বছরের চেয়ে এবছর ৩০ হেক্টর জমিতে পাটচাষ বেড়েছে। এ বছর ভাল দাম পাওয়ায় আগামীতে পাটজচাষ আরো বাড়বে। পাটচাষে আগ্রহী করতে সরকার এই উপজেলার ৩ হাজার চাষিকে পাটচাষের প্রণোদনা দিয়েছে। বিভিন্ন সষ্কট মোকাবেলার পর চাষিরা পাটের ভাল ফলন হয়েছে। বাজার এ পাটের দামও চড়া। নায্যমূল্য পেয়ে খুশি চাষিরাও।