ঢাকা | জুন ২৫, ২০২৪ - ৫:০৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

স্মৃতিচারণ: ‘তোরা কী চাস কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে?’

  • আপডেট: Monday, August 15, 2022 - 1:35 pm

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরেও ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের ঐতিহাসিক বাড়িতে সপরিবারে থাকতেন সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত বঙ্গবন্ধু।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শুক্রবার এই বাড়িতেই তিনি সপরিবারে শহীদ হন। সেই সঙ্গে এদিন ঘাতকের নির্দয় বুলেটের আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয় বাংলাদেশ। জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশে শুরু হয় কারফিউ। জারি করা হয় সামরিক আইন। গণতন্ত্র ও সংবিধান ভূলুণ্ঠিত থাকে একটানা দীর্ঘ ২১ বছর। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের লাল টকটকে ও গাঢ় সবুজের মানচিত্র খামচে ধরে পুরোনো শকুন।

সেদিন অনেকের সঙ্গে ওই বাড়িতে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর গৃহকর্মী আবদুর রহমান শেখ। ডাক নাম রমা। তিনি বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ঘটে যাওয়া জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায় এবং ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড দেখেছেন খুব কাছে থেকে। অকুতোভয় বঙ্গবন্ধুকে স্বয়ংক্রিয় স্টেনগানের অবিরাম গুলিতে নির্মমভাবে হত্যা করার দৃশ্যও তাঁকে দেখতে হয়েছে। ওই দিন বঙ্গবন্ধু মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও ভরাট গলায় স্বাভাবিক কণ্ঠে ঘৃণিত খুনি সেনাসদস্যদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন- ‘তোরা কী চাস? কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে?’

বঙ্গবন্ধুর রক্তাক্ত মরদেহ দেখে তাঁর স্ত্রী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব খুনিদের বলেছিলেন, ‘আমি যাব না। আমাকে এখানেই মেরে ফেল।’ বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে শিশু শেখ রাসেল ভীত-বিহ্বল হয়ে কাতর কণ্ঠে আবদুর রহমান শেখের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ‘ভাইয়া, আমাকে মারবে না তো? আমি মায়ের কাছে যাব।’ সেই সব কণ্ঠ আজও আবদুর রহমান শেখের কানে বাজে। তখন তিনি গভীর শোকে কাতর হন। তাঁর দুই চোখ পানিতে ভিজে ওঠে। এভাবেই তিনি একটানা দীর্ঘ ৪৭ বছর সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর বাড়ির পাশেই আবদুর রহমান শেখের বাড়ি। শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব তাঁকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। তখন তাঁর বয়স ১২। বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ফুট-ফরমায়েশের কাজ করতেন। বঙ্গবন্ধুকে ‘সাহেব’ ও শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবকে ‘আম্মা’ বলে সম্বোধন করতেন। সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বহু বছর তাঁর প্রায়-নির্ঘুম কেটেছে। প্রায়ই স্বপ্নে দেখতেন তাঁর ‘সাহেব’ বঙ্গবন্ধুকে, ‘আম্মা’ শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবকে। তিনি এখনও আছেন বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বাড়িতে। ছোট চাকরি করেন গণভবনে।

সমকালের সঙ্গে আলাপচারিতায় অশ্রুসিক্ত নয়নে স্মৃতিচারণে সেই কালরাতের কথা বলেছেন আবদুর রহমান শেখ। তিনি বললেন, ওই দিন ছিল শ্রাবণের শেষ দিন। ভেজা বাতাস। ঘড়ির কাঁটা তখনও ভোর ৫টার ঘর ছোঁয়নি। দূরে মসজিদ থেকে ভেসে আসছিল মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে ফজর নামাজের আজানের সুমধুর ধ্বনি। বঙ্গবন্ধুর বাড়িটির চারপাশে তখন ভোরের আলো সবেমাত্র ফোটার অপেক্ষায়। এমনি মায়াবী, মোহময় ও ছিমছাম পরিবেশের মধ্যে ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড ঘটাতে বাড়িটি লক্ষ্য করে দক্ষিণ দিক থেকে ভয়াল আক্রমণ শুরু হয়।

ওই সময় আরেক বন্ধু মোহাম্মদ সেলিমের (বঙ্গবন্ধুর গৃহকর্মী) সঙ্গে বাড়িটির তিন রুমবিশিষ্ট দোতলার করিডোরে শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের রুমের সামনে ঘুমিয়ে ছিলেন আবদুর রহমান শেখ রমা। বেগম মুজিব খুব চিৎকার করে দরজা খুললেন। তাঁকে বললেন, ‘তাড়াতাড়ি উঠ। আবদুর রব সেরনিয়াবাত (বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি ও তৎকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য) সাহেবের বাসায় দুস্কৃতকারীরা আক্রমণ করেছে।’

শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের কথা শোনার পর রমা দেখতে পান, বিপথগামী হিংস্র সেনাসদস্যদের হামলার খবর পেয়েই লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু তাঁর কক্ষের দরজা খুলে দোতলা থেকে নিচে চলে যাচ্ছেন। ওই সময় বেগম মুজিব একটা পাঞ্জাবি কাজের ছেলে মোহাম্মদ সেলিমের হাতে দিয়ে বললেন, ‘সাহেবকে দিয়ে আয়।’ বাড়ির সবাই তখন দোতলায়, আড়াই তলায়।

বঙ্গবন্ধু তখন বিভিন্ন জায়গায় টেলিফোন করছিলেন। এ সময় এক ঝাঁক গুলি বাড়িটির দক্ষিণ দিকের জানালার কাচ ভেঙে অফিসকক্ষের দেয়ালে বিদ্ধ হয়। এর পর অবিরত গুলি আসতেই থাকে। বাইরেও অবিরাম গোলাগুলি হচ্ছিল। এ সময় শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বললেন, ‘দেখ- কারা গুলি করছে?’ তখন আবদুর রহমান শেখ রমা নিচে নেমে বাড়ির প্রধান ফটকের বাইরে যান। দেখেন, কয়েকজন লোক গুলি করতে করতে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির দিকে এগোচ্ছে। তাদের পরনে ছিল খাকি পোশাক। কিন্তু বাড়িটির প্রধান ফটক লাগোয়া নিরাপত্তার কক্ষে দায়িত্বরত সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা কিছুই করছিল না।

শেখ রমা বললেন, ‘এর পর দৌড়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকে পেছনের সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠি। বঙ্গবন্ধুর শয়নকক্ষের জানালার ফাঁক গলিয়ে দেখি, শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব খুব ছোটাছুটি করছেন। আমাকে দেখতে পেয়ে ভেতরে ডেকে নিলেন। বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামাল ও মেজো ছেলে শেখ জামালকে ডাকতে বললেন। আমি সিঁড়ি বেয়ে আড়াই তলায় গেলাম। সেখানে শেখ কামাল থাকেন। তাঁকে ঘুম থেকে উঠিয়ে বললাম, ভাই, বাড়িতে কারা যেন অ্যাটাক করেছে! তিনি লুঙ্গি পরিহিত ছিলেন। তাড়াতাড়ি প্যান্ট ও শার্ট গায়ে দিয়ে নিচে যেতে যেতে আমাকে বললেন, তোর ভাবিকে নিয়ে নিচে আয়। শেখ কামাল নিচে নেমে অভ্যর্থনা কক্ষে যান। পরে শুনেছি, তিন থেকে চারজন কালো ও খাকি পোশাকধারী সশস্ত্র সেনাসদস্য শেখ কামালের পায়ে গুলি চালায়। শেখ কামাল নিজের পরিচয় দিলে সঙ্গে সঙ্গে খুব কাছ থেকে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয় তাঁকে। তিনি ঘাতক চক্রের প্রথম শিকার।’

রমা বললেন, সুলতানা কামাল খুকু তাঁর স্বামী শেখ কামালের পিছু নিয়ে দোতলা পর্যন্ত আসেন। এদিকে শেখ কামালের রুম থেকে দোতলায় এসে আবদুর রহমান শেখ সেনা হামলার কথা শেখ জামালকে জানান। শেখ জামাল তাঁর নবপরিণীতা পারভীন জামাল রোজীকে সঙ্গে নিয়ে মা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের রুমে আসেন। তখন বেগম মুজিব বললেন, ‘যদি মরি সবাই একসঙ্গে মরি। আয়, সবাই একসঙ্গে থাকি।’ এ সময় হঠাৎ কিছু সময়ের জন্য গোলাগুলি বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে কাউকে টেলিফোনে না পেয়ে দোতলায় উঠে নিজের কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তখন বারুদের ঝাঁজালো গন্ধে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। হঠাৎ রমার চোখে পড়ল, বন্ধ দরজা খুলে বেরিয়ে আসছেন অকুতোভয় বঙ্গবন্ধু। রমা তখন বঙ্গবন্ধুর পেছনে পেছনে যান। ওই সময় কয়েকজন বন্দুকধারী বঙ্গবন্ধুকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে। তাদের বন্দুক বঙ্গবন্ধুর শরীরে ঠেকানো ছিল। এক পর্যায়ে তারা বঙ্গবন্ধুকে নিচে নিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্বের কারণে খুনিরা খুব ঘাবড়ে যায়। আক্রমণও ঝিমিয়ে আসে। ওই সময় একজন সেনাসদস্য ঔদ্ধত্যপূর্ণ স্বরে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কথা বলে। রাষ্ট্রপতিকে নিচে নেমে আসতে বাধ্য করে। বঙ্গবন্ধু সিঁড়িবারান্দার মুখে এসে দাঁড়ান। ঠিক সেই সময়ই নিচের দিক থেকে সিঁড়ির গোড়ায় সেনাবাহিনীর দু’জন সদস্য উপস্থিত হলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। একজন ঘাতক উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে ওঠে, ‘কেন সময় নষ্ট করা হচ্ছে?’

বঙ্গবন্ধু এ সময় মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও ভরাট গলায় স্বাভাবিক কণ্ঠে ঘৃণিত খুনি সেনাসদস্যদের কাছে জানতে চান- ‘তোরা কী চাস? কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে?’ পরমুহূর্তে সিঁড়ির কয়েক ধাপ নামার পরই নিচের দিক থেকে সাত-আট ফুট দূরে অবস্থানরত দুই ঘৃণিত ঘাতকের স্বয়ংক্রিয় স্টেনগান থেকে একের পর এক বেরিয়ে আসে ১৮টি তাজা বুলেট। সিঁড়ির ধাপে গড়িয়ে পড়েন বঙ্গবন্ধু। ফিনকি দিয়ে রক্ত ছোটে সিঁড়ি বেয়ে। চশমা ও তামাকের পাইপ পড়ে যায় সিঁড়িতে। এর কিছুক্ষণ পরই আবদুর রহমান শেখ রমার সামনেই শহীদ হন জাতির পিতা।

আবেগ আপ্লুত হয়ে রমা জানালেন, সিঁড়ির ধাপেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান। সেখানেই পড়ে থাকে তাঁর রক্তাক্ত মৃতদেহ। বুকের অংশটুকু ছিল ভীষণভাবে রক্তাক্ত। বাঁ হাতটা ছিল বুকের ওপর ভাঁজ করা। বুলেটের আঘাতে তাঁর ডান হাতের তর্জনীটা ছিঁড়ে চামড়ার সঙ্গে ঝুলছিল। তলপেট, হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ছিল গুলিবিদ্ধ। ৯টি গুলি চক্রাকারে বুকের নিচে বিদ্ধ হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করার পরও তারা বঙ্গবন্ধুর দু’পায়ের গোড়ালির রগ কাটে।

এর পর রমার কাছে খুনিরা জানতে চায়, তিনি কী করেন? আবদুর রহমান রমা তাদের জানান, ‘আমি সাহেবের (বঙ্গবন্ধু) কর্মচারী। এই বাড়ির স্টাফ। এই বাড়িতে থাকি। ফুট-ফরমায়েশ খাটি। এর পর খুনিরা আমাকে চলে যেতে বলে। আমি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার কথা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবকে জানাই। তাঁকে বলি, সাহেবকে গুলি করেছে। কিছুক্ষণ চুপ থেকে আম্মা বললেন, অ্যাঁ- কী বলিস তুই! এ সময় শেখ জামাল বললেন, না- আব্বাকে নিয়ে গেছে।’

বিপথগামী সেনাসদস্যদের আরেকটি গ্রুপ তখন বেগম মুজিবের রুমের সামনে এসে সবাইকে দাঁড়াতে বলে। সেনাসদস্যরা দরজা ভাঙার চেষ্টা করলে শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বলে ওঠেন, ‘তোমরা ছেলেরা সামনে যেও না। আমিই দরজা খুলব। মরলে সবাই একসঙ্গে মরব।’ এসব কথা বলে দরজা খুলে দেন তিনি। তখন শেখ জামাল, শেখ রাসেল, সুলতানা কামাল খুকু, পারভীন জামাল রোজী এবং বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ আবু নাসের ও আবদুর রহমান শেখ রমা বাথরুমে অবস্থান নেন। এর ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর সেনাসদস্যদের আরেকটি গ্রুপ আসে। তারা সবাইকে রুম থেকে বের করে আনে। তার পর নেমে আসে সুনসান নীরবতা।

এক পর্যায়ে বিপথগামী সেনাসদস্যরা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ শেখ আবু নাসের, শেখ রাসেল ও রমাকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে আনতে চায়। কিন্তু সিঁড়িতে বঙ্গবন্ধুর নিথর দেহ দেখে বেগম মুজিব মাথায় হাত চাপড়াতে চাপড়াতে অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। চিৎকার দিয়ে বলেন, ‘আমি যাব না। আমাকে এখানেই মেরে ফেল।’ সৈন্যরা তাঁকে জোর করে তাঁর কক্ষে নিয়ে যায়। খুনিরা পরে বঙ্গবন্ধুর মরদেহের এক পাশ দিয়ে নিচে নামিয়ে নিতে শুরু করে শেখ আবু নাসের, শেখ রাসেল ও আবদুর রহমান শেখ রমাকে।

রমা বললেন, ‘আমরা নিচে নামার আগেই অসংখ্য গুলির আওয়াজ শুনি। মহিলাদের আহাজারি-আর্তচিৎকারের শব্দ ভেসে আসে। সম্ভবত ওই সময়েই ঘাতকের বুলেটের আঘাতে শহীদ হন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, শেখ জামাল, সুলতানা কামাল খুকু ও পারভীন জামাল রোজী।

আবদুর রহমান শেখ জানালেন, ‘খুনি সৈন্যরা নিচে নামানোর পর শেখ আবু নাসেরকে পাশের কক্ষে নিয়ে বসার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বলে- তাঁকে কিছুই করা হবে না। অথচ তাঁকে নিচতলার সিঁড়িসংলগ্ন বাথরুমে নিয়ে গুলি করে খুন করা হয়। মৃত্যুর আগে তিনি পানি চেয়েও পাননি বলে পরে শুনেছি।’

খুনিরা এর পর শেখ রাসেল ও আবদুর রহমান শেখ রমাকে বাড়ির প্রধান ফটকের পাশে আমগাছের নিচে বসিয়ে রাখে। ভীত-বিহ্বল শিশু শেখ রাসেল তখন খুব কাঁদছিলেন। ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে থাকা শেখ রাসেল তখন রমাকে জড়িয়ে ধরে জানতে চান, ‘ভাইয়া, আমাকে মারবে না তো?’ তখনই এক সৈন্য শেখ রাসেলকে আলাদা করে ফেললে তিনি তাঁর মা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের কাছে যাওয়ার আকুতি জানান। ওই সৈন্য এ সময় একজন সেনা কর্মকর্তাকে জানায়, স্যার- ও (শেখ রাসেল) মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য কাঁদছে। ওই কর্মকর্তা তখন শেখ রাসেলকে তাঁর মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে। আরেকটি সৈন্য তাঁকে মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার মিথ্যা প্রবোধ দিয়ে দোতলায় নিয়ে যায়। তার কিছুক্ষণ পরেই পাঁচ/ছয়টি গুলির শব্দ ভেসে আসে। তখন সকাল ১০-১১টা বাজে। শেখ রাসেল ছিল ঘাতকের শেষ শিকার। তিনি শহীদ হওয়ার পর জিপে করে আসে সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা। সে জানতে চাইলেই উদ্ধত কণ্ঠে সৈন্যরা জানায়- ‘স্যার, সব শেষ।’

এর পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবদুর রহমান শেখ রমাসহ বাড়ির স্টাফদের একসঙ্গে করে এক কাপড়ে বের করে দেয় খুনিরা।

সোনালী/জেআর