ঢাকা | জুন ১৩, ২০২৪ - ৩:৩২ অপরাহ্ন

স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানি, পরিচ্ছন্নতাকর্মী গ্রেপ্তার

  • আপডেট: Monday, August 8, 2022 - 11:35 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর একটি স্কুলে কর্মচারীর হাতে এক ছাত্রী যৌন হয়রানি শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি জানার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর স্কুলটির পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাম মালিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার সকালে রাজশাহী মহানগরীর ছোটবনগ্রাম প্রফেসরপাড়া এলাকায় অবস্থিত ইউসেপ ছোটবনগ্রাম সিটি করপোরেশন টেকনিক্যাল স্কুলে এ ঘটনা ঘটেছে। ইউসেপ বাংলাদেশ নামের একটি সংস্থা স্কুলটি পরিচালনা করে থাকে। অভিযুক্ত কর্মচারীর নাম আবদুল হাকিম।

ঘটনার পর ওই ছাত্রী বাড়ি গিয়ে পরিবারকে বিষয়টি জানায়। এরপর তার বাবা থানায় গিয়ে মামলা করেন। পরে দুপুরেই পুলিশ হাকিমকে স্কুল থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগীর বাবা জানান, রোববার সকালে সবার আগে স্কুলে যায় তার মেয়ে। এ সময় একা পেয়ে হাকিম তার মেয়েকে জাপটে ধরে যৌন হয়রানি করেন। পরে সেন্টার ইনচার্জ এলে ওই ছাত্রী বিষয়টি তাকে জানায়।

এ সময় সেন্টার ইনচার্জ আবদুল হাকিমের কাছ থেকে একটি মুচলেকা নেন। সেখানে হাকিম নিজের দোষ স্বীকার করে লেখেন, নোংরা ঘটনার জন্য তিনি অনুতপ্ত। তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। পরবর্তীতে এ ধরনের কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে অফিস কর্তৃপক্ষ তাকে যে শাস্তি দেবে তিনি তা মাথা পেতে নিতে বাধ্য থাকবেন।

সাক্ষী হিসেবে এই মুচলেকায় সাক্ষর করেন সেন্টার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল কামাল ও ইনস্ট্রাক্টর শাহানাজ বেগম, মো. শফিকুজ্জামান, হাসান হাফিজুর রহমান এবং শহিদুল ইসলাম। শিশুটির বাবা বলছেন, তার মেয়ের সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে জানায়নি। বরং, অভিযুক্তের একটি মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করায় তিনি ইউসেপ বাংলাদেশের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক শাহীনুল ইসলামের কাছে সেন্টার ইনচার্জকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন। শাহীনুল ইসলাম সে আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু সোমবার শুনছেন সেন্টার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল কামালকে বরখাস্ত করা হয়নি। অভিযুক্ত হাকিম ও ইনচার্জ কামালের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অভিভাবকেরা আন্দোলনে নামবেন।

এ নিয়ে ইউসেপ বাংলাদেশের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক শাহীনুল ইসলামকে মোবাইল করা হলে তিনি ধরেননি। এ বিষয়ে নগরীর চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরান হোসেন বলেন, একা পেয়ে হাকিম শিশুটিকে যৌন হয়রানি করেছে। জাপটে ধরে স্পর্শকাতর অঙ্গে হাত দেওয়া হয়েছে। তাই যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।