ঢাকা | জুন ১৩, ২০২৪ - ৪:২৪ অপরাহ্ন

সামিয়া রহমানের পদাবনতি অবৈধ

  • আপডেট: Friday, August 5, 2022 - 11:35 am

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষিক সামিয়া রহমানকে পদাবনতির আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাই কোর্ট। একই সঙ্গে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে তাকে সব সুযোগ-সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে গতকাল বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি মো. আক্তারুজ্জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে সামিয়া রহমানের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী। থিসিস জালিয়াতির অভিযোগে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এই শিক্ষককে সহযোগী অধ্যাপক থেকে এক ধাপ নামিয়ে সহকারী অধ্যাপক করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। গত বছর ৩১ আগস্টের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট করেন সামিয়া রহমান।

গত বছর ৫ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমানকে পদাবনতি দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাই কোর্ট। একই সঙ্গে সামিয়া রহমানের গবেষণা জালিয়াতি-সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট, গঠিত ট্রাইব্যুনালের নথিসহ সব কাগজপত্র আদালতে দাখিল করতে বলা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

একা লড়াই করে জিতেছি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমান বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন জোর করে আমাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। যে প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমি জড়িত ছিলাম না সেখানে এককভাবে আমাকে নিয়ে মিডিয়া ট্রায়াল করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আমার কোনো আস্থা ছিল না। কিন্তু আমি জানতাম হাই কোর্ট আমার পক্ষে রায় দেবেন। কারণ, হাই কোর্ট প্রমাণ দেখবেন। সব প্রমাণ আমার পক্ষে ছিল। পুরো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একা লড়াই করে আমি জিতেছি। হাই কোর্টের রায়ের পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তিনি। সামিয়া রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ব্যক্তি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে আমাকে এ শাস্তির মুখোমুখি করেছেন। আমি একা শক্ত হয়ে লড়াই চালিয়ে গেছি। অবশেষে আল্লাহর রহমতে আমি জয়ী হয়েছি।

আমার বড় ছেলের অসুস্থতাজনিত কারণে বিনা বেতনে ছুটি চেয়েছি, তাও আমাকে দেওয়া হয়নি। মানবিক কারণে হলেও ছুটি দিতে পারত। যা আমার বিভাগের অনেক শিক্ষক পেয়ে থাকেন। আমাকে সবকিছু থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি তৎকালীন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, তৎকালীন উপ-উপাচার্য, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানসহ প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি। আমি বলেছি, লেখার আইডিয়া আমার। কিন্তু পরে তা জার্নালে ছাপা থেকে কোনো প্রক্রিয়ায় আমি যুক্ত ছিলাম না। প্রতিটি বিষয়ের প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট আমি জমা দিয়েছি। কিন্তু প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে আমাকে শাস্তি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সোনালী/জেআর