ঢাকা | জুন ১৪, ২০২৪ - ১০:৪৪ অপরাহ্ন

ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

  • আপডেট: Wednesday, August 3, 2022 - 9:54 pm

নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রামে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাতে উপজেলার জোনাইল বাজারে ও-আর-খান মেমোরিয়াল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলার বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের প্রতাবপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের স্ত্রী আছিয়া বেগমের সিজারিয়ান অপারেশনের সময় নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। হাসপাতাল কতৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ ডলি রানীর খামখিয়ালীপনায় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রসুতির স্বামী অভিযোগ তুলেছেন এবং তাদের বিচারের দাবী জানিয়েছেন।

প্রসূতির স্বামী বলেন, সোমবার স্ত্রীর পেটের ব্যথা উঠলে বিকেলে জোনাইল বাজারে ও-আর-খান মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করানো হয়। সন্ধ্যার পর ডাক্তাররা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই তাড়াহুড়া করে আমাদের অনুমতি ছাড়াই স্ত্রীকে ওটিতে নিয়ে গেলে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ ডলি রানী সিজারিয়ান অপারেশন করেন। পরে ওটি থেকে বের হয়ে এসে ডাঃ ডলি রানী জানান, পেটের ভেতর শিশুটি ২দিন আগেই মারা গেছে। কিন্তু অপারেশনের আগে হাসপাতাল কতৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক শিশুটি পেটের ভেতর মৃত অবস্থায় রয়েছে এমন কথা আমাকে জানায়নি। তাদের ভুল চিকিৎসায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

প্রসুতির স্বামী আরো জানান, ঘটনার ১৫ দিন আগে স্ত্রীকে ডাঃ ডলি রানীর কাছে নিয়ে এসেছিলাম। তখন তিনি পরীক্ষা করে ২ সপ্তাহ পরে স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তার পরামর্শ অনুযায়ী ও স্ত্রীর পেটের ব্যথা উঠায় গত সোমবার তাকে হাসপাতালটিতে ভর্তি করানো হয়।

এবিষয়ে ডাঃ ডলি রানী বলেন, “রোগীটি যখন হাসপাতালে আসে তখন নার্সরা আমাকে মোবাইল ফোনে জানায় প্রসুতির পেটে বাচ্চা পায়খানা করে ফেলছে। তখন আমি বলি তাড়াতাড়ি রোগীকে ওটিতে নিয়ে গিয়ে রেডি করো। দ্রুত পেট থেকে বাচ্চা বের করতে হবে। এদিকে পেসেন্টের প্রেসারও বেশী। ইতিমধ্যে হাসপাতালের নার্স ও ডাক্তাররা ওটি রেডি করে আমাকে জানালে, আমি সেখানে গিয়ে সিজার করে বাচ্চা বের করে দেখি বাচ্চাটি মৃত। সেই মূহুর্তে আমার কিছু করার ছিল না। কারণ আমি ইচ্ছা করলেই ওটি থেকে নামিয়ে পেসেন্টকে পরীক্ষা করতে পারি না।”

গণমাধ্যম কর্মীরা খবর পেয়ে হাসপাতালে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে হাসপাতাল কতৃপক্ষ শহীদুল ইসলামসহ কয়েকজন কর্মচারী গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহার করে। এলাকাবাসী জানান, ডাক্তার ডলি রানীর বিরুদ্ধে আগেও শিশু সহ প্রসুতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সিদ্দিক জানান, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।