ঢাকা | মে ২৭, ২০২৪ - ৩:০৬ পূর্বাহ্ন

টিপু হত্যা: জাপা-আ.লীগ নেতাসহ গ্রেফতার ৪

  • আপডেট: Sunday, July 31, 2022 - 3:12 pm

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর শাহজাহানপুরে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু ও শিক্ষার্থী সামিয়া আফরান প্রীতি হত্যার ঘটনায় জাতীয় পার্টি (জাপা) নেতা জুবের আলম খান রবিন ও আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুর রহমান টিটুসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগ।

গ্রেফতার বাকিরা হলেন- আওয়ামী লীগ নেতা আরিফুর রহমান সোহেল ও খায়রুল।

রোববার (৩১ জুলাই) দুপুরে গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) রিফাত রহমান শামীম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, শনিবার (৩০ জুলাই) রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি জানান, এ বিষয়ে রোববার দুপুরে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টিপু হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে তাদের যোগসূত্র মিলেছে।

ইন্টারপোলের মাধ্যমে মুসাকে দেশে ফেরানোর পর একাধিক দফায় হেফাজতে নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও দেন মুসা। কিলিং মিশনে কার কী ভূমিকা ছিল সেটি তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছিল। মুসার তথ্য যাচাই করতে বিভিন্ন সময় আরও কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করে ডিবি। টিপু হত্যা পরিকল্পনায় টিটু, রবিন ও সোহেল সম্পৃক্ত। এর মধ্যে টিটু সবচেয়ে দুর্ধর্ষ। তাঁর সঙ্গে অপরাধ জগতের যোগসূত্র দীর্ঘদিনের। যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক খান মিল্ক্কীর সঙ্গে এক সময় তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল।

২০১৩ সালের ২৯ জুলাই গুলশানে শপার্স ওয়ার্ল্ডের সামনে মিল্কীকে হত্যা করা হয়েছিল।

তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত হয়েছেন টিপু হত্যার ঘটনায় শুটার ছিলেন মাসুম মোহাম্মদ আকাশ। পুরানা পল্টনের ‘আর্মস মিউজিয়াম’ নামের একটি অস্ত্রের দোকানের গুলি টিপু হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়। ওই দোকানের মালিক কর্ণধার ইমরান হোসেন জিতুর কাছ থেকে ১৫ রাউন্ড গুলি নিয়ে মতিঝিলের ১০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুর রহমান রাকিব পৌঁছে দেন সুমন সিকদার মুসার হাতে। এছাড়া দুবাইয়ে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদ মন্টির নির্দেশে ইশতিয়াক আহমেদ জিতু অস্ত্র দেন মোল্লা শামীমের কাছে।

কিলিং মিশনের সময় মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন শামীম। বর্তমানে তিনি ভারতে পালিয়ে আছেন। মুসার মতো ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাঁকে দেশে ফেরাতে নানামুখী কার্যক্রম শুরু করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।

গত ২৪ মার্চ নিহত টিপু এক দশক আগে মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৩ সালে যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক মিল্কী হত্যাকাণ্ডের পর গ্রেফতার হলে তাকে পদচ্যুত করেছিল আওয়ামী লীগ। পরে তিনি মিল্কী হত্যার অভিযোগ থেকে মুক্ত হলেও দলীয় পদ আর ফিরে পাননি। তবে তার স্ত্রী ফারহানা ইসলাম ডলি মহিলা কাউন্সিলর হন।

টিপু সরকারি নানা দপ্তরের ঠিকাদারি করতেন। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল ও কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন। ওমর ফারুক যে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, সেই এলাকায় একটি রেস্তোরাঁর মালিক ছিলেন টিপু, যেখানে তিনি নিয়মিত বসতেন।

ওই হোটেল থেকে মাইক্রোবাসে সঙ্গীদের নিয়ে ফেরার পথে আগ্নেয়াস্ত্রধারী এক ব্যক্তি মোটরসাইকেল থেকে নেমে গাড়ির জানালা দিয়ে টিপুকে হত্যা করে পালিয়ে যান।

হামলাকারীর ছোড়া এলোপাতাড়ি গুলিতে প্রীতি নামে এক কলেজছাত্রীও নিহত হন। ওই সড়কে রিকশায় চড়ে যাচ্ছিলেন প্রীতি।

সোনালী/জেআর