ঢাকা | মে ৩০, ২০২৪ - ১:৩৪ অপরাহ্ন

পেশায় ডাক্তার, রোগী সেজে রাবিতে প্রক্সি দিতে গিয়ে কারাগারে

  • আপডেট: Wednesday, July 27, 2022 - 10:51 pm

 

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা। সেই পরীক্ষাতেই বসতে এসেছেন এক পরীক্ষার্থী। নাকে-মাথায় ব্যান্ডেজ। জানালেন অসুস্থ অবস্থাতেই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবেন। পরীক্ষাও দিচ্ছিলেন ঠিকঠাক। কিন্তু শাক দিয়ে যেমন মাছ ঢেকে রাখা যায় না, তেমনি নাকে-মাথায় ব্যান্ডেজ দিয়েও নিজের আসল পরিচয় ঢেকে রাখতে পারেননি তিনি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে ধরা পড়েছেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত জানা গেল, রাবিতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা এই ব্যক্তি একজন চিকিৎসক। শুধু তাই নয়, একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের প্রভাষক তিনি! ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে ধরা পড়ে শেষ পর্যন্ত কারাগারে যেতে হয়েছে ডা. সমের রায় নামের এই চিকিৎসককে।

গত মঙ্গলবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার চতুর্থ শিফটে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ডা. সমের রায়কে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। পরে তাকে জালিয়াতির অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রাবি জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি করে ‘প্রক্সি’ দিতে আসা দণ্ডপ্রাপ্ত এই ব্যক্তির নাম ডা. সমের রায়। তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী। খুলনার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত তিনি।

রাবি জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পাণ্ডে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, রাহাত আমিন নামের এক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। তার হয়ে প্রক্সি দিতে এসেছিলেন ডা. সমের। তার মাথায়, নাকে ও হাতে ব্যান্ডেজ পরা ছিল। আমাদের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে থাকা চিকিৎসক তাকে গিয়ে দেখেও আসেন। অধ্যাপক পান্ডে আরও বলেন, ডা. সমের খুলনার একটি মেডিকেল কলেজের প্রভাষক বলে দাবি করেছেন। তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে যার হয়ে তিনি প্রক্সি দিতে এসেছিলেন, সেই রাহাত আমিনকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহমেদ বলেন, সন্দেহজনক অবস্থায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি পরিচয় গোপন করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি নিজের চিকিৎসক পরিচয়ের কথা স্বীকার করেন। নিজেকে খুলনা মেডিকেল কলেজের কে-২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে খুলনার গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষক বলে দাবি করেন। আমরা তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছি।