ঢাকা | মে ৩০, ২০২৪ - ৩:৫৮ অপরাহ্ন

আড়াই ঘণ্টা ট্রেন অবরোধ, অতিরিক্ত বগি নিয়ে ছেড়েছে

  • আপডেট: Wednesday, July 27, 2022 - 11:47 pm

 

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থীরা আড়াই ঘণ্টা ‘পদ্মা এক্সপ্রেস’ ট্রেন অবরোধ করে রাখেন। ট্রেনটি বুধবার বিকেল ৪টায় রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করার কথা ছিল। অবরোধ করে রাখার কারণে সময়মতো যাত্রা হয়নি। অবশেষে সন্ধ্যা ৬টা ২৩ মিনিটে অতিরিক্ত তিনটি বগি নিয়ে ট্রেনটি ছেড়ে যায়।

রাবিতে এবার ভর্তি পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৭৮ হাজারের বেশি। তাদের সঙ্গে এসেছিলেন অভিভাবকেরাও। সব মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ মানুষ এসেছিলেন রাজশাহী। পরীক্ষার শেষ দিনেই ট্রেনে বাড়ি ফেরার দাবিতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন অবরোধের ঘটনা ঘটল।

ট্রেনটি ছাড়ার আগেই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী স্টেশনে ছুটে যান। টিকিট না থাকলেও হুড়মুড় করে অনেকে উঠে যান। বাকি থাকেন আরও অন্তত তিন হাজার শিক্ষার্থী। তারা এই ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের দাবিতে ট্রেনটি অবরোধ করেন। ট্রেনের সামনে তারা শুয়ে পড়েন।

ইঞ্জিন স্টার্ট দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ট্রেন। পরীক্ষার্থীদের সরে যেতে ট্রেনটি যতবার হুইশেল দেয়, ততবারই পরীক্ষার্থীরা চিৎকার করতে থাকেন। দিতে থাকেন স্লোগান। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সরাতে ব্যর্থ হন। আসে দাঙ্গা পুলিশ। এরপর আসে র‌্যাব। কিন্তু কেউ পরীক্ষার্থীদের জোর করে সরিয়ে দেওয়ার সাহস দেখায়নি। শেষমেশ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাপরিচালক অসীম কুমার তালুকদার গিয়ে পরীক্ষার্থীদের বোঝান যে, এরই মধ্যে এই ট্রেনে দুটি অতিরিক্ত কোচ লাগানো হয়েছে। পরে আরও একটি কোচ দেওয়া হয়। এর বেশি সামর্থ্য তার নেই বলে জানান। তিনি বলেন এই ট্রেনে যারা যেতে পারবে না তাদের রাতে পাঠানো হবে।

পরীক্ষার্থীরা লিখিতভাবেই মহাব্যবস্থাপকের কাছ থেকে এই প্রতিশ্রুতি আদায় করেন। কিন্তু এর মধ্যেই আরেক দল বাগড়া দেয়। এই দলের কেউ কেউ বলে ওঠেন, ট্রেন অবরোধ করায় তাদের মারধর করা হয়েছে। গালি দেওয়া হয়েছে। পাথর ছোড়া হয়েছে। ফলে ট্রেনটি আটকেই থাকে। অবশেষে রেল কর্মকর্তারা ভর্তি–ইচ্ছুদের বোঝাতে সক্ষম হন। এরপর ৬টা ২৩ মিনিটে ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যায়। তখনো বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী স্টেশনে ছিলেন।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাপরিচালক অসীম কুমার তালুকদার বলেন, ‘সবাই এই বিকেলের ট্রেনেই ফিরতে চায়। এটা যৌক্তিক না অযৌক্তিক তা বোঝে না। শেষ পর্যন্ত ট্রেনে অতিরিক্ত তিনটি কোচ সংযুক্ত করে আন্দোলন করা পরীক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপকে পাঠানো হয়েছে। আরেকটি গ্রুপ থাকল। রাতের ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনে তাদের পাঠানো হবে।’