ঢাকা | মে ৩০, ২০২৪ - ২:৫৭ অপরাহ্ন

অর্থশক্তিকে কীভাবে সামাল দেব, বুদ্ধি দেন: সিইসি

  • আপডেট: Tuesday, July 26, 2022 - 2:22 pm

অনলাইন ডেস্ক: ভোটে অর্থ ও পেশি শক্তির ব্যবহার বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। আজ মঙ্গলবার জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে সংলাপে এ আহ্বান করেন সিইসি। রাজনৈতিক দলগুলোকে ইসির ওপর আস্থা রাখার জন্য আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, আমাদের ওপর একটু আস্থা রাখুন। আস্থা রাখতে গিয়ে চোখ বন্ধ করে রাখলে হবে না। আপনাদের নজরদারি থাকতে হবে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছে ইসি। ধারাবাহিক এই সংলাপের অষ্টম দিন আজ। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এই সংলাপ হয়।

সিইসি বলেন, অর্থশক্তিকে আমরা কীভাবে সামাল দেব? আপনারা আমাকে একটা বুদ্ধি দেন। দেশে অর্থ বেড়েছে। আমাদের সকলের বাড়িতে বস্তা বস্তা টাকা। বস্তা বস্তা অর্থ আমরা নির্বাচনে ব্যয় করি। এই অর্থ নিয়ন্ত্রণ করব কিভাবে? যেটা প্রকাশ্যে হয় তার কিছুটা নির্বাচন কমিশনে দেখানো হয়। বলা হয় যে, ৫ লক্ষ টাকা খরচ করেছে। তার বাইরে গিয়ে যদি আমি গোপনে ৫ কোটি টাকা খরচ করি, কিভাবে আপনি আমাকে ধরবেন বা আমি আপনাকে ধরব? এগুলো সম্ভব, এ জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, একটি অপসংস্কৃতি হয়ে গেছে। পয়সা নিয়ে ঢালতেছি। মাস্তান হায়ার করতেছি। প্রফেশনাল কিলারও হায়ার করতে খুব বেশি পয়সা লাগবে না। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের সকলকে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অর্থশক্তি, পেশিশক্তির ব্যাপারে আমরা এখনই কিছু বলতে পারব না। মাঠে আপনাদের থাকতে হবে। তথ্যগুলো পাঠালে আমরা কিন্তু সাহায্য করব।

ভোটে ইভিএম প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, লাঠি দিয়ে, হকি স্টিক দিয়ে ইভিএম মেশিনটা ভেঙে ফেলতে পারবেন। কিন্তু এখানে ভোটের নড়চড় হবে না। একজন লোক যদি ১০০টা করে (ব্যালটে), পাঁচজন লোক যদি ৫০০টা করে ভোট দেয়। ভোট দিলে পাঁচজন কিন্তু ভোট কাউন্ট হলো ৫০০। ভোটের হার তো অনেক বেশি। কিন্তু সেটি কি ৫০০ ভোট নাকি ৫ ভোট? পাঁচজন যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করল সেটি ৫০০ জনের পক্ষে। বিভিন্ন ধরনের সমস্যা আছে। আমি যেটা বলতে চাচ্ছি, সমস্যাগুলো বুঝে নিয়ে আমরা কিভাবে একটু ব্যালেন্স করে একটি অর্থবহ, নিরপেক্ষ ও যতদূর সম্ভব দুর্নীতিমুক্ত একটি নির্বাচন করতে পারি।

ইসির উপর আস্থা রাখার জন্য রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে সিইসি বলেন, আমাদের উপর একটু আস্থা রাখুন। আস্থা রাখতে গিয়ে চোখ বন্ধ করে রাখলে হবে না। আপনাদের নজরদারি থাকতে হবে, আমরা কি আসলেই সাধু পুরুষ না ভেতরে ভেতরে অসাধু? সেই জিনিসটা আপনারা যদি নজরদারি না রাখেন, তাহলে আপনারাও আপনাদের দায়িত্ব পালন করলেন না। কঠোর নজরদারিতে আমাদেরকে রাখতে হবে। কোনো কমপ্লেইন পেয়েছেন? সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরকে পাঠান। অনেকগুলো টেলিফোন থাকবে সে সময়। ক্যামেরা দিয়ে হয়তো আমরা অনেকগুলো সেন্টার ওয়াচ করতে পারব। আমরা প্রতিশ্রুতি যে দিচ্ছি, তার কিছু মূল্য থাকা উচিত। একেবারে যে আমরা ডিগবাজি খেয়ে যাব তা তো নয়। সেটি হওয়ার কথা নয়।

সিইসি আরও বলেন, ২০১৮ সালের যে নির্বাচনের কথা বলেছেন, ওভাবে নির্বাচন হবে এটি আপনারা আশা করেন না। আমরা সেটি জানিও না, দেখিওনি। নির্বাচন নির্বাচনের আইন অনুযায়ী হবে। সময় দেওয়া হবে। ভোটাররা যাবেন। ভোট দিতে থাকবেন। আমরা আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে আমাদের অংশের দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করব। পাশাপাশি আপনাদের (রাজনৈতিক দল) অনুরোধ থাকবে, আপনারাও কিছু দায়িত্ব নেবেন। দায়িত্ব নিয়ে অর্থশক্তি, পেশিশক্তি, ভোটকেন্দ্রের শৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা করবেন। আমরা দায়িত্বটা শেয়ার করব।

তিনি বলেন, আপনারা আমাদেরকে অবশ্যই চাপে রাখবেন। আমি বিশ্বাস করি এটা প্রয়োজন আছে। আপনাদেরকেও আমাদের উপর নজরদারি রাখতে হবে। আমাদের থেকে কোনো অনিয়ম লক্ষ্য করলে তা প্রকাশ করে দেবেন। আমরা কোনোভাবেই পক্ষপাতিত্ব করতে চাই না।

সোনালী/জেআর