ঢাকা | মে ২০, ২০২৪ - ১১:৪০ পূর্বাহ্ন

ক্ষমতা বলে কথা!

  • আপডেট: Friday, July 22, 2022 - 11:08 pm

 

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় পাঁচ বন্ধুর মধ্যে মারধরের ঘটনার আপস নিষ্পত্তির কাগজ থানায় জমা দিতে গিয়ে এক ব্যক্তিকে হাতকড়া লাগিয়ে দুই ঘন্টা আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাহিদ হোসেনকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে এ যাত্রায় রক্ষা পান তিনি। থানা পুলিশের এমন আচরণের সংবাদ প্রকাশ হয়ে পড়ায় এখন তোলপাড় চলছে এলাকাজুড়ে।

ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম উজ্জল হোসেন (৪০)। তিনি উপজেলা সদরের বড়পই এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে। অভিযুক্ত অপর তিন বন্ধু হলেন, কামারকুড়ি গ্রামের হাসমত আলী, বিজয়পুর গ্রামের হামিদুর রহমান ও সুজন আলী। অভিযোগকারী ব্যক্তির নাম হাফেজ উদ্দিন (৪৫)। তিনি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের চককুসুম্বা গ্রামের লালু মণ্ডলের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, মোবাইলফোনে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে গত ৯ জুলাই রাতে উপজেলার বড়পই গ্রামে মোতাহার হোসেনের বয়লারের পাশের রাস্তায় পাঁচ বন্ধুর মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় হাফেজ উদ্দিন নামে এক বন্ধু অপর চারবন্ধুর বিরুদ্ধে মান্দা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় মান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হোসেনকে। গত বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী উজ্জল হোসেন বলেন, শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে আপসের কাগজ নিয়ে বাদী ও সাক্ষীসহ আমরা চারজন থানায় যাই। ওসির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। এসময় এসআই জাহিদ হোসেন তার কক্ষে ডেকে নিয়ে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করার সঙ্গে সঙ্গে আমার হাতে তিনি হাতকড়া লাগিয়ে দেন। এভাবে তার কক্ষে আমাকে দুই ঘন্টা আটকে রাখা হয়। পরে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে হাতকড়া খুলে দেন এসআই জাহিদ হোসেন।
অভিযোগকারী হাফেজ উদ্দিন বলেন, আপস নিষ্পত্তির কাগজ জমা দিতে গিয়ে বন্ধু উজ্জলকে হাতকড়া লাগানোর পর ভয়ে আমরা থানা থেকে পালিয়ে যাই। এসময় উজ্জলকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছিলেন এসআই জাহিদ হোসেন।

উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি কামরুল ইসলাম পাশা বলেন, পাঁচবন্ধুর মধ্যে মারধরের ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়েছে। বাদী-বিবাদী উভয়পক্ষ আপস নিষ্পত্তির কাগজ থানায় জমা দিতে যান। এসময় উজ্জলকে হাতকড়া পরিয়ে ২ ঘন্টা আটকে রাখা হয়। পরে টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি মামলা পর্যন্ত গড়ায়নি। অভিযোগ ছিল মাত্র। সেটি আপস নিষ্পত্তি করে দেওয়ার পর পুলিশ যে কাজটি করেছে তা উচিত হয়নি।

কুসুম্বা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহিনুর রহমান বলেন, কাজটি খুব খারাপ হয়েছে। পুলিশের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

মান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হোসেন বলেন, ভয়ভীতি দেখানোর জন্য কাজটি করা হয়েছে। টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান বলেন, ঘটনাটি খারাপ হয়েছে। বিষয়টি আমি দেখছি।