ঢাকা | মে ২৭, ২০২৪ - ৩:৫৩ পূর্বাহ্ন

মার্কিন পরিকল্পনায় মন গলেনি সৌদির

  • আপডেট: Monday, July 18, 2022 - 1:00 pm

অনলাইন ডেস্ক: জেদ্দায় আরব শীর্ষ সম্মেলন শেষে শনিবার সৌদি আরব ছেড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে বিদায় জানান মক্কার গভর্নর প্রিন্স খালিদ আল ফয়সাল। তবে আরব সম্মেলনে যোগ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করলেও মার্কিন পরিকল্পনায় মন গলেনি সৌদির। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও আলজাজিরার।

মধ্যপ্রাচ্যে চার দিনের সিরিজ সফরের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন বাইডেন। এর আগে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জেদ্দা ত্যাগের আগে মার্কিন-আরব শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন বাইডেন। এতে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয় দেশ সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশাপাশি জর্ডান, মিসর ও ইরাকের মতো দেশগুলোও অংশ নেয়।

আরব সম্মেলনে যোগ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করলেও ইসরায়েলকে নিয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা কিংবা দ্রুত তেল উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে সৌদি আরবের প্রতিশ্রুতি আদায়ে ব্যর্থ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

শনিবার আরব নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, আপনাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এ অঞ্চলের জন্য একটি ইতিবাচক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে যুক্তরাষ্ট্র বিনিয়োগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র অন্য কোথাও যাচ্ছে না। বাইডেন তাঁর বক্তৃতায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার দর্শন ও কৌশলগুলো তুলে ধরেন। তবে সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে অনেক বিষয় স্পষ্ট করা হয়নি। রয়টার্স লিখেছে, ইরানের ‘হুমকি’ মোকাবিলায় ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোট গড়তে এবারের আরব সম্মেলনে একটি রূপরেখা তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তাদের সেই উদ্যোগে পানি ঢেলে দিয়েছে ওয়াশিংটনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র সৌদি আরব। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাতে বাইডেন ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক খাসোগি হত্যার মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় তুলে ধরেন। বৈঠকে যুবরাজের কাছ থেকেও পাল্টা সমালোচনা পেয়েছেন তিনি।

এদিকে সৌদি আরব এ সপ্তাহে ‘সব ধরনের উড়োজাহাজের জন্য’ নিজেদের আকাশসীমা থেকে বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে। সৌদির এ ঘোষণা দৃশ্যত ইসরায়েলের প্রতি সম্পর্ক স্থাপনের ইঙ্গিত মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার বলেন, এর সঙ্গে ভবিষ্যতে ইসরায়েলের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপনের সম্পর্ক নেই। স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, আকাশসীমা উন্মুক্ত করে দেওয়া মানে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আরও বলেন, এটা কোনোভাবেই পরবর্তী পদক্ষেপে কী হতে যাচ্ছে, তার পূর্বাভাস নয়।

সোনালী/জেআর