ঢাকা | মে ২৩, ২০২৪ - ৩:২৯ পূর্বাহ্ন

টাকায় হবে না প্রাথমিকের চাকরি

  • আপডেট: Thursday, June 30, 2022 - 1:06 pm

অনলাইন ডেস্ক: সরকারি প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক পদে এবার টাকায় চাকরি হবে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মুহিবুর রহমান। এ বিষয়ে চাকরিপ্রার্থীদের নিজের যোগ্যতার উপর আস্থা রাখার অনুরোধ করেন তিনি। সম্প্রতি বাংলাদেশ জার্নালের সঙ্গে এক আলাপনে এসব কথা বলেন শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য তিন ধাপে লিখিত পরীক্ষা শেষে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে লিখিত পরীক্ষায় নির্বাচিত প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তৃতীয় ধাপের প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা আগামী ৩ জুলাই থেকে শুরু হবে

মো. মুহিবুর রহমান বলেন, বিগত কিছু বছর আমরা দেখতে পাই স্থানীয়ভাবে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে ৫০ জন টাকা দিয়ে যায়। এরমধ্যে ১০ জনের চাকরি হয়। ওই প্রভাবশালী ব্যক্তি ৪০ জনের টাকা ফেরত দিয়ে দেন। সাধারণ মানুষ ভাবেন টাকা ফেরত পেয়েছি এটাই বা কম কী! এরমধ্যে বিনা পরিশ্রমে যে ১০ জন চাকরি পেল তাদের দেয়া টাকা ওই ব্যক্তির হয়ে যায়। ১০ লাখ করে যদি ধরি এই সংখ্যাটি তখন এক কোটি টাকা! তবে এবারের নিয়োগ পরীক্ষায় তদবিরের কোনো সুযোগই রাখা হয়নি।

এবার মৌখিক পরীক্ষার ২০ নম্বরের মধ্যে ১০ নম্বর এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক শ্রেণির শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। বাকি ১০ নম্বরের ওপর প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, প্রকাশ ক্ষমতা, সাধারণ জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড যাচাই করে ইন্টারভিউ বোর্ড নম্বর দেবে।

এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রধান বলেন, আগে মৌখিক পরীক্ষায় ফেল করানোর সুযোগ ছিল। এর ফলে অনেক যোগ্য ব্যক্তি প্রাথমিকে চাকরি পেতেন না। এবার আর সেটি করার সুযোগ নেই। যিনিই মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেবেন তাকে অন্তত ৪ নম্বর দিতেই হবে। এর ফলে কেউ লিখিত পরীক্ষায় ৪০ নম্বর পেয়েছেন তাকে যদি ইন্টারভিউ বোর্ড ১০ এ ১০ ও দেন এরপরও যিনি লিখিত পরীক্ষায় ৫০ পেয়েছেন তারই চাকরি হবে। একারণে এখন বলা যেতেই পারে আমরা খুব নিশ্চিন্তে আছি।

প্রাথমিকের প্রথম ধাপে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪০ হাজার ৮৬২ জন। দ্বিতীয় ধাপে ৫৩ হাজার ৫৯৫ জন এবং তৃতীয় ধাপে ৫৭ হাজার ৩৬৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। দেশের ইতিহাসে এত বড় নিয়োগযজ্ঞ কীভাবে সফলতার সঙ্গে চলছে এমন প্রশ্ন ছিল ডিপিই মহাপরিচালকের দিকে। বাংলাদেশ জার্নালকে তিনি বলেন, আসলে কাজটি মোটেও সহজ ছিল না। এখন যে কোনো চাকরির পরীক্ষা হওয়ার সঙ্গেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নপত্র অথবা উত্তর পত্র দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠে। অনেকেই পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেন। ১৩ লাখ পরীক্ষার্থীর এই চাকরির পরীক্ষায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। কারণ অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সফল নিয়োগের জন্য ৫ দিন বলতে পারেন জেল খাটতে হয়েছে। জেল খাটার বিষয়ে মো. মুহিবুর রহমান বলেন, একাধিক যুগ্ম সচিব, ৫ জন উপসচিবসহ অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নিচতলার একটি কক্ষে এক সঙ্গে থাকতে হয়েছে। এসময় তাদের যে কাপড় পরিধান করেছেন সেখানে ছিল না কোন পকেট। আবার তাদের কাছে মুঠোফোনও রাখা হয়নি। ফলে পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেননি তারা। একে জেল ছাড়া আর কি বলা যায়। যেকারণে প্রশ্নপত্র ফাঁসও হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের কাজটি সচ্ছতার সঙ্গে করেছি। মৌখিক পরীক্ষার জন্য যারা উত্তীর্ণ হয়েছের তাদের কাছে আমি বিনিতভাবে অনুরোধ করবো দয়া করে কাউকে ঘুষ দেবেন না। এবার টাকায় প্রাথমিকে চাকরি হবে না।

সোনালী/জেআর