ঢাকা | মে ২৭, ২০২৪ - ৩:৪৩ পূর্বাহ্ন

শিক্ষককে জুতার মালা পরানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

  • আপডেট: Tuesday, June 28, 2022 - 7:02 pm

 

অনলাইন ডেস্ক: নড়াইলে কলেজশিক্ষককে জুতার মালা পরানোর ঘটনায় দীর্ঘ ১০ দিন পর পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। সদর উপজেলার মির্জাপুর ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোরসালিন বাদী হয়ে সোমবার ১৭০ থেকে ১৮০ জন আজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় রাতেই ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, শাওন খান, মনিরুল ইসলাম ও সৈয়দ রিমন আলী। মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাহুল দেব রায় নিজের ফেসবুক আইডিতে নূপুর শর্মার ছবি ব্যবহার করে লেখেন- ‘প্রণাম নিও বস নূপুর শর্মা জয় শ্রীরাম।’ এ পোস্ট দেয়ার পর গত ১৮ জুন সকালে কলেজে আসেন রাহুল। এরপর তার বন্ধুরা পোস্টটি মুছে ফেলতে বললেও পোস্ট মোছেনি রাহুল।

শিক্ষার্থীরা বিষয়টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জানান। এক পর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কলেজের সব শিক্ষকদের পরামর্শে রাহুলকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে কলেজ চত্বরে থাকা শিক্ষকদের তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জসহ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ছোঁড়ে। ঘটনার সময় ২ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

এ সময় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ ও কর্মকর্তাদের সামনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর গলায় জুতার মালা পরিয়ে কলেজ থেকে বের করে পুলিশেরে গাড়িতে তোলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। এসব ঘটনার তদন্তের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত কবির মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কারগারে পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, কলেজ ভবন থেকে বের করে আনার সময় উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অধ্যক্ষ ও শিক্ষার্থীকে বাঁচানোর জন্য পুলিশ হয়তো জুতার মালা পরানোর বিষয়টি লক্ষ্য করেনি। জুতার মালা পরানো দু’একটি ছবি দেখেছি। এসব ঘটনা তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জুবায়ের চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ ছায়েদুর রহমান ও সদর থার ওসি শওকত কবীর। পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে রিপোর্ট দাখিল করতে বলা হয়েছে।