ঢাকা | মে ২১, ২০২৪ - ৬:৩৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

বাইক ফেরত চাওয়ায় কর্মীকে বেধড়ক পেটালেন রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি

  • আপডেট: Friday, June 24, 2022 - 8:48 pm

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক: ধার দেওয়া বাইক ফেরত চাওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্রলীগের এক কর্মীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে। শুক্রবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের টিভি রুমে মারধরের এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম রুহুল আমিন। তিনি লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের কর্মী।

ভুক্তভোগী রুহুল আমিন জানান, শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার নাম করে তার ব্যক্তিগত বাইকটি তার কাছ থেকে ধার নেন তার রুমমেট ও ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শাফিউর রহমান শাফি। পরে সে বিনোদপুরের রাসেল, সারোয়ার, রূপমসহ কয়েকজনকে নিয়ে বাইকটি ৩৩ হাজার টাকায় বন্ধক রাখে। বিষয়টি জানতে পেরে রুহুল আমিন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর কাছে অভিযোগ করেন। তখন রুনু শাফি ও রাসেলকে মারধর করে বাইক ফেরত দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু তারা বাইক ফেরত না দিলে শুক্রবার ভোরে বাইক ফেরত চাইতে বঙ্গবন্ধু হলে আসলে তাকে টিভিরুমে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করেন গোলাম কিবরিয়া, বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি কাব্বিরুজ্জামান রুহুল ও তাদের অনুসারীরা। এতে গুরুতর জখম হয় রুহুল আমিন।

শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘এমন ঘটনা শুনেছি। তবে শুক্রবার ভোরে বঙ্গবন্ধু হলের দ্বিতীয় তলার কয়েকটি রুমের লক আটকে দেয় রুহুল আমিন। সে আগে রাজনীতি করলেও গত কয়েক বছর ধরে কোনো খোঁজ-খবর ছিলো না। হঠাৎ করে ৪ বছর পর সে ক্যাম্পাসে এসেছে। তার ছাত্রত্ব বর্তমানে নেই। তার বাড়ি পাবনাতে, সেখানেও এমন কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে রাজশাহী এসেছে। তার মানসিক সমস্যা আছে বলে আমরা জানতে পারছি। তাকে দ্রুত বাড়িতে পাঠানোর জন্য বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি। ’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ওই ছেলের গতিবিধি সন্দেহজনক ছিল। আমার রুমসহ বেশ কয়েকটি রুমের দরজা বাইরে থেকে আটকিয়ে দিয়ে আমার বাইক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। বুঝতে পেরে জানালা দিয়ে অন্যদের ডেকে দরজা খুলে নেই। পরে তাকে ধাওয়া করে হলের টিভির রুমে গিয়ে ধরতে সক্ষম হই। পরবর্তী তাকে আমরা হল ছাড়া করি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, কোন ছাত্রের গায়ে হাত তোলার অধিকার কারো নেই। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী যদি অভিযোগ দেন তাহলে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।