ঢাকা | জুলাই ২৩, ২০২৪ - ৫:৩৭ পূর্বাহ্ন

‘যে শহর কখনো ঘুমায় না’

  • আপডেট: Wednesday, June 15, 2022 - 2:19 pm

অনলাইন ডেস্ক: নিউইয়র্ক শহরকে বলা হয় ‘দ্য সিটি নেভার স্লিপস’। যে শহর কখনো ঘুমায় না। আর এই শহরের আইকনিক স্থান হলো ম্যানহাটনের টাইমস স্কোয়ার। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত পথচারী সংযোগস্থল। বিশ্ব বিনোদন-শিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। শীত, গ্রীষ্ম যে কোনো আবহাওয়ায় আমার সবচেয়ে প্রিয় স্থান এটি। দেশ থেকে প্রিয় মানুষেরা বেড়াতে এলে আমি তাদের সেখানে নিয়ে যাই। বারবার এই একইস্থানে যাওয়া ও দেখার মাঝে কোনো একঘেয়েমি নেই। বিরক্তি নেই। প্রতিবার জায়গাটিকে নতুন করে ভালোবাসি।

মধ্যরাতে পৃথিবী যখন ঘুমিয়ে থাকে, এই স্থানটি তখন জেগে থাকে। যত রাতেই সেখানে যাই না কেনো, হাজারো পর্যটক দেখতে পাই। একে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পরিদৃষ্ট পর্যটনস্থল হিসেবে অভিহিত করা হয়। প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ বা তারও অধিক মানুষ টাইমস স্কোয়ার দিয়ে যাতায়াত করে। আশেপাশে প্রচুর থিয়েটার, ব্রডওয়ে শো, দুর্দান্তসব খাবারের গাড়ি, স্যুভেনির শপ ও ভোজনশালা।

নিউইয়র্ক শহরে এলে ‘অবশ্যই যেতে হবে’ এমন স্থানগুলোর মধ্যে টাইমস স্কোয়ার একটি। প্রকৃতপক্ষে দিনের চেয়ে রাতই এখানে বেশি সুন্দর। সূর্যাস্তের পর রঙবেরঙের বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জা ও ডিজিটাল বিলবোর্ডগুলো ঝলমলে ও জীবন্ত হয়ে ওঠে। সুপারহিরো বা ডিজনির জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্রের পোশাক পরে কিছু মানুষ সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করে।

এবার অনেকটা সময় সেখানে লাল সিঁড়িতে বসে ছিলাম শত শত মানুষের ভিড়ে। আশ্চর্যজনক সুন্দর এই জায়গাটিতে বসে থাকলে আমার মনে হয় যেন স্বপ্নের মাঝে বেঁচে আছি, নয়তো আলোর প্লাবনে ভাসছি। সারা বিশ্ব থেকে আসা নানান ধর্ম, বর্ণের অগণন মানুষের কোলাহল, গুঞ্জন, এসবই আমাকে নতুন করে বাঁচতে অনুপ্রাণিত করে। বিভিন্ন জাতি, শ্রেণি এবং ধর্মের এত মানুষকে এক জায়গায় একত্রিত হতে আমি আর কোথাও দেখিনি।

প্রতিটি মানুষের চোখে, মুখে অদ্ভুত আনন্দ। যদিও দিনশেষে আমাদের সকলের গল্প ভিন্ন। সকলেরই দুঃখ আছে, বেদনা আছে। তবুও এখানে এলে সকলকেই সুখী মানুষের মতো দেখায়।

সোনালী/জেআর