ঢাকা | এপ্রিল ১৪, ২০২৪ - ৫:১৪ অপরাহ্ন

শেষ সময়ের টুকটাক কাজ পদ্মা সেতুতে

  • আপডেট: Monday, June 13, 2022 - 12:45 pm

অনলাইন ডেস্ক: জ্যৈষ্ঠ মাসে পদ্মা নদী যেমন থাকে, তেমনই আছে। উত্তাল, খরস্রোতা। ঈশান কোণে মেঘের আনাগোনা আর দমকা হাওয়ায় সৃষ্ট ঢেউ আছড়ে পড়ছে তীরে। পদ্মা নদী চিরচেনা রূপে থাকলেও বদলে গেছে দুই তীর ও জনপথ। উৎসবের ক্ষণগণনার আনন্দময় অপেক্ষা সেখানে। গতকাল রোববার ওই এলাকা ঘুরে দেখা গেল স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে চলছে শেষ সময়ের কাজ।

উৎসব দেখতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় পদ্মা সেতুতে নেওয়া হয় একদল সাংবাদিককে। সরকার প্রধানের কার্যালয় থেকে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের জিরো পয়েন্টের দূরত্ব ঘুরো পথেও ১২ কিলোমিটারের বেশি নয়। কিন্তু রোববার দুপুর ১২টায় বাসে রওনা করে যানজট ঠেলে যাত্রাবাড়ীর জিরো পয়েন্টে যেতে লাগল পৌনে দুই ঘণ্টা। বৃত্তাকার সড়ক নির্মিত না হওয়ায় ঢাকা শহরের ভেতর দিয়ে পদ্মা সেতুতে যেতে ভুগতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তাই বোধ হয় সত্য।

তবে পরের পথ একেবারেই নির্বিঘ্ন, মসৃণ। জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র ৪০ মিনিটে বাস পৌঁছে গেল পদ্মা সেতুতে। পথে যানজট দূরে থাক, সামান্য ঝাঁকিও নেই। এক্সপ্রেসওয়ের শেষ যেখানে, পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়কের শুরু সেখানে। সংযোগস্থলের পশ্চিমে আগামী ২৫ জুন সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ফলক উন্মোচন করবেন। পাশেই খোলা জায়গায় হবে সুধী সমাবেশ। গতকাল দুপুরে দেখা গেল, সমাবেশ স্থল গোছগাছ চলছে।

এলাহি আয়োজন! দম ফেলার সময় নেই কর্মীদের। বাড়ি থেকে আসা-যাওয়ায় সময়ের অপচয় হবে- তাই সমাবেশস্থলেই তাঁবু টানিয়ে থাকছেন শখানেক কর্মী। মাটি খুঁড়ে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাতে বৃষ্টি বাধা না হতে পারে বহুল প্রতীক্ষার উদ্বোধনে।

সংযোগ সড়কের মিডিয়ানের নির্মাণকাজ চলছে। মাটি ভরাট করে গাছ লাগিয়ে তা সতেজ করতে হবে। বাকি আর মাত্র ১২ দিন। গাড়ির চলাচলে সার্ভিস এরিয়া থেকে ভায়াডাক্ট পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়কের যেখানে যেখানে বেহাল হয়েছে সেখানে চলছে সংস্কার কাজ। এক্সপ্রেসওয়ের দুই পাশের সার্ভিস লেনেও অনুরূপ কাজ চলমান।

সংযোগ সড়ক ধরে প্রায় দেড় কিলোমিটার পর পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজা। সেখানে চলছে ঘষামাজার কাজ। সংযোগ সড়কে পায়ে হেঁটে চলা যাবে না। সড়কের দুই পাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী লাগানো হচ্ছে। মূল সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আবদুল কাদের জানালেন, উদ্বোধনের তিন দিন আগে অর্থাৎ ২২ জুনের মধ্যে ধোয়ামোছাসহ যাবতীয় কাজ শেষ করতে হবে। সেই দিন প্রকল্পের পক্ষ থেকে পদ্মা সেতুর দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হবে সেতু বিভাগকে।

টোল প্লাজার পর ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে সেতুর ভায়াডাক্ট (মাটির ওপর উড়াল অংশ)। তাতে রোড মার্কিং, বাতি স্থাপন, দুই পাশের রেলিং লাগানোর কাজ শেষ। ভায়াডাক্ট শেষ হয়েছে নদীতীরের প্রথম পিলারে। এখানে সংযোগ ঘটেছে মূল সেতু ও ভায়াডাক্টের।

সেখানে দেখা গেল শখানেক শ্রমিক হরেক রকমের কাজে ব্যস্ত। দেশি-বিদেশি অতিথিরা আসবেন বাংলাদেশের আর্থিক সামর্থ্যের প্রতীকে রূপ নেওয়া পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে।

তার আগে সবকিছু একেবারে ঝকঝকে পরিপাটি করা চাই।

পদ্মা সেতুর নিচতলা মাটি থেকে প্রায় ছয় তলা উচ্চতার সমান। সেখান থেকে সেতুর ওপর তলা আরও প্রায় ৪০ ফুট উঁচুতে। সব মিলিয়ে ১০০ ফুট! নিরাপত্তার কারণে ওপরে ওঠা বারণ। তাই অত নিচ থেকেই দেখতে হলো কীভাবে মূল সেতুতে রেলিং লাগানো হচ্ছে, ক্রেনে মালপত্র তোলা হচ্ছে।

সেতুর নিচে চলছিল ‘পদ্মা সেতু’ শিরোনামের গানের দৃশ্যায়ন। কুমার বিশ্বজিৎ, বাপ্পা মজুমদার, কোনাল, নিশিথা বড়ূয়া, ইমরানরা তাতে ঠোঁট মেলাচ্ছিলেন। শুটিং আর সেতুর কাজ দুটিই দেখা হয়ে গেল। শ্রমিকরাও উপভোগ করলেন। সহকারী তড়িৎ প্রকৌশলী সাদ্দাম হোসেন জানান, মূল কাজ শেষ। বাতি জ্বালিয়ে দেখা হচ্ছে, সব ঠিকঠাক আছে কিনা।

বিয়েবাড়ির কনের বাবার মতোই মহাব্যস্ত পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম। এক ফাঁকে পাওয়া গেল মিনিট খানেকের জন্য। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মতো তিনিও জানালেন, পদ্মা সেতু এখন বাস্তবতা। গর্বে উদ্ভাসিত হয়ে বললেন- ‘ইয়েস! উই মেইড ইট।’