ঢাকা | এপ্রিল ২০, ২০২৪ - ৭:০৭ পূর্বাহ্ন

নিখোঁজদের খোঁজে হাসপাতালের মর্গে লাশের ব্যাগে ঘুরছে স্বজনরা

  • আপডেট: Sunday, June 5, 2022 - 12:32 pm

অনলাইন ডেস্ক: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিবেশ স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে। হাসপাতাল জুড়ে আহত-নিহতদের স্বজনদের কান্নার রোল। এছাড়া নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ও মর্গে ছোটাছুটি করছেন অনেকে। অনেক স্বজন রাত থেকে খোঁজাখুঁজি করছেন চমেক হাসপাতালে। নিখোঁজের স্বজনরা মর্গে গিয়ে নিহতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু স্বজনদের খোঁজ পাননি তারা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক)মর্গে লাশের ব্যাগে নিজের আপন ভাই আব্দুর রহমানকে (৩১) খুঁজে বেড়াচ্ছেন আলী নেওয়াজ। আলী নেওয়াজ বলেন, আমার ভাই, ছোট হলেও আমাকে সে আমার সব খেয়াল রাখতো। প্রতিদিন কল দিয়ে আমার খোঁজ খবর রাখতো। আমার সে ভাই কয়? কয়েকটা মেডিকেলে তার খোঁজ করেছি। কিন্তু এখনো তাকে খুঁজে পাইনি। তার ছোট কন্যা শিশুটাকে আমরা কি জবাব দিবো?

বিএম কন্টেইনারে কাভার্ডম্যানের সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন মো. সাকিব (১৯)। বিস্ফোরণের পর থেকেই তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে খুঁজতে হাসপাতালের ৩৬ নম্বর বার্ন ইউনিটে ভিড় করেন তার স্বজনরা।

সাকিবের মেঝো ভাই আব্দুল হান্নান বলেন, রাতে আগুনে লাগার পর থেকেই তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। সকাল পর্যন্ত তার মোবাইলে কল গেলেও, সকালের পর থেকে কল যাচ্ছে না। হাসপাতালে এসেছি ভাইয়ের খোঁজে।

কেবল সাকিব নয়, গতকাল রাতে বিস্ফোরণে আহতদের হদিসে হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ভিড় করছেন রোগীর পরিবার ও স্বজনরা।

এদিকে সীতাকুণ্ডে বিএম কন্টেইনারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তাসহ ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া এ ঘটনায় অন্তত চার শতাধিক আহত হয়েছেন। এছাড়া আহতদের মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ জন রোগী আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে, শনিবার রাত ১১টায় লাগা এ আগুন দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মী। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে আহত হয়েছেন আরও চার শতাধিক। হতাহতদের মধ্যে ডিপোর শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও রয়েছেন।

সোনালী/জেআর