ঢাকা | জুলাই ২০, ২০২৪ - ৫:০৮ পূর্বাহ্ন

খরচের বোঝা নিতে পারছে না গরিব মানুষ

  • আপডেট: Thursday, June 2, 2022 - 12:49 pm

অনলাইন ডেস্ক: বিকেল সাড়ে ৩টা। দিনভর রিকশা চালিয়ে ক্ষুধা পেটে আতিক উল্লাহ চা-রুটি খেতে বসেছেন দোকানের বেঞ্চিতে। সুপার ফুড বেকারি ব্র্যান্ডের পাউরুটিতে হাত দিতেই দোকানি জানালেন, ১০ টাকা দামের এই রুটি এখন বেড়ে হয়েছে ১৫ টাকা। দাম শুনেই তেতে ওঠেন আতিক। বললেন, ‘এক লাফে পাঁচ টাকা বাড়ে কেমনে? আতিকের এমন ঝাঁজালো প্রশ্ন চা দোকানির কানে আসতেই তিনি বলে বসলেন- বেকারির মালিকরে গিয়া জিগান।’ রাগ দমিয়ে কষ্ট বুকে নিয়ে বাড়তি দামেই রুটি কিনে খেলেন আতিক। এই ঘটনা গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারের দুই নম্বর মার্কেটের সামনের একটি চা দোকানের।

শুধু আতিকই নন, এই দুর্গতি এখন সব পেশার শ্রমিক এবং নিম্ন আয়ের মানুষের। রিকশাচালক, দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক, ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নাশতা হিসেবে একমাত্র ভরসা বেকারিতে তৈরি পাউরুটি, বিস্কুট ও কেক জাতীয় খাবার।

হঠাৎ এসব খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দুর্বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। কলার সঙ্গে একটি রুটি খাওয়াতে তাঁদের খরচ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

একটি কলা আগে পাঁচ টাকায় মিললেও এখন ১০ টাকার নিচে নেই।

ফার্মগেট এলাকার ফুটপাতের গেঞ্জি বিক্রেতা কামাল হোসেন বলেন, গত সপ্তাহে ১০ টাকার পরোটা ১৫ টাকা আর ১৫ টাকার ডিম ভাজা ২০ টাকা করা হয়েছে। এখন আবার পাউরুটি-বিস্কুটের দাম বাড়িয়েছেন বেকারির মালিকরা। মানুষ কাপড়-চোপড় কম কিনছেন। ব্যবসা মন্দা। তবে খাবারের দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে গরিবের বেঁচে থাকা আরও কষ্টকর হবে।

মগবাজারে রেললাইনের পাশের চা দোকানে বসা দিনমজুর মঈন আলী বলেন, ‘আগে ২০ টাকায় এক কাপ চা, রুটি আর কলা খাওয়া যেত। এখন ৩০ থেকে ৩৫ টাকা খরচা হয়। এক বেলা নাশতায় এত টাকা গেলে বাকি খাবার খাব কীভাবে?’

ময়দা, চিনি, ডালডা ও ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে হাতে তৈরি (নন-ব্র্যান্ড) পাউরুটি, বিস্কুট, কেক জাতীয় খাদ্যের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই খাতের ব্যবসায়ীরা। গতকাল রাজধানীর কয়েকটি মুদি ও চা দোকান খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেকারিতে তৈরি করা ১০ টাকার পাউরুটির দাম পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ১৫ টাকা, ১৫ টাকার রুটি পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ২০ টাকা ও ৪০ টাকার রুটি ৪৫ টাকা করা হয়েছে। পরিমাণভেদে এসব রুটিতে পাঁচ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। একইভাবে পাঁচ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বিভিন্ন আকারের প্যাকেটজাত কেক ও বিস্কুটের দাম।

বেকারি পণ্যের ব্যবসায়ীরা বলেন, কয়েক মাস ধরে এসব খাদ্যপণ্য তৈরিতে ব্যবহূত ময়দা, চিনি, ডালডা ও তেলের দাম বাড়ছে। প্রতি কেজি ময়দায় দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। চিনি কেজিতে আট থেকে ১০ টাকা, ডালডা কেজিতে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং তেলের দাম বেড়েছে লিটারে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ফলে বেড়েছে উৎপাদন খরচ। এ কারণে তাঁরা পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন।

বেকারি পণ্য প্রস্তুতকারী ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, বাজারে সব জিনিসের দাম বাড়তি। তেল, আটা, ময়দাসহ বেকারি পণ্য তৈরির সব উপাদানের দাম বেড়েছে। কয়েক মাস ধরে লোকসান দিয়ে ব্যবসা চালানো হচ্ছে। দাম না বাড়ালে ব্যবসা বন্ধ করা ছাড়া উপায় নেই।

সোনালী/জেঅরা