ঢাকা | এপ্রিল ১৫, ২০২৪ - ৮:৪৩ অপরাহ্ন

পদ্মায় তীব্র স্রোত, ফেরি চলাচল ব্যাহত

  • আপডেট: Friday, May 27, 2022 - 12:06 pm

অনলাইন ডেস্ক: পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত আর ফেরি স্বল্পতার কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দুর্ভোগে পড়ছে যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।

শুক্রবার (২৭ মে) বেলা ১১টার দিকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পাঁচ শতাধিক যানবাহন নদী পথ পারের অপেক্ষায় রয়েছে।

যাত্রীবাহী পরিবহন ও ছোট ব্যক্তিগত যানবাহনের চাপ কম থাকলেও সাধারণ পণ্য বোঝাই ট্রাকের দীর্ঘ সারি রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাটুরিয়া বিআইডব্লিউটিএর দুটি ট্রাক ট্রার্মিনালে তিন শতাধিক ট্রাক ও জিরো পয়েন্ট থেকে ফায়ার সার্ভিস পর্যন্ত পণ্য বোঝাই ট্রাকের দীর্ঘ সারি রয়েছে। এছাড়া ৪০টি যাত্রীবাহী পরিবহন ও ছোট ব্যক্তিগত গাড়ি (প্রাইভেটকার) প্রায় অর্ধ শতাধিক নৌপথ পারের অপেক্ষায় আছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ২১টি ফেরি চলাচলের কথা থাকলেও চলাচল করছে ১৯টি ফেরি। বাকি দুটি ফেরি যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে ভাসমান কারখানা মধুমতিতে মেরামতের জন্য রাখা হয়েছে। নৌপথ পারের সময় পূর্বের চেয়ে দ্বিগুণ লাগায় এক দিকে ফেরি ট্রিপের সংখ্যা যেমন কমে আসছে ঠিক তেমনি ঘাট এলাকায় যানবাহনের সারি সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দীর্ঘ হচ্ছে।

মাদারীপুরগামী ট্রাকের চালক শরিফুল বলেন, নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী পরিবহন ও পার্সেলের গাড়িগুলোকে পার করা হচ্ছে। আমাদের পারাপারের জন্য মাত্র দুটি ড্রাম ফেরি রয়েছে, এই দুটি ফেরি দিয়ে এতো সংখ্যক ট্রাক পার করাটা দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

যশোরগামী আরেক ট্রাক চালক বলেন, যাত্রীবাহী পরিবহনের চাপ কমে এলে আমাদের পার করা হবে এই কথা বলে আমাদের একটি ভোগান্তির মধ্যে ফেলছে। প্রতিটি ফেরিতে দুই-চারটা করে ট্রাক পার করলে ঘাটে ট্রাকের চাপ কমে যেতো কিন্তু তা না করে আমাদের ভোগান্তির মধ্যে ফেলছে।

নাম পরিচয় প্রাকাশ না করার মর্মে এক ফেরির মাস্টার বলেন, পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া নৌরুট খুবই ছোট কিন্তু পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে পূর্বের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে প্রতিটি ট্রিপে। ফেরিগুলো পুরনো হযওয়ায় অধিকাংশ সময়ই স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফেরিগুলো চালানো যাচ্ছে না আর এ কারণে সরকারের রাজস্ব কমে আসছে প্রতিনিয়ত।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ বলেন, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়াতে কিছু যানবাহনের চাপ থাকে আর এই চাপ দুপুরের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। এই নৌরুটে ১৯টি ফেরি চলাচল করছে এবং দুটি ফেরি যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে ভাসমান কারখানায় মেরামতের জন্য আছে। ওই দুটি ফেরিও যেকোনো সময় বের হয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারের কাজে নিয়োজিত হবে। পদ্মা নদীতে স্রোত থাকায় অগের চেয়ে কিছুটা সময় বেশি লাগছে নৌপথ পারের জন্য।

সোনালী/জেআর