ঢাকা | এপ্রিল ২১, ২০২৪ - ৮:২৮ পূর্বাহ্ন

মৃত বিদিশার মুখে কাপড় গোঁজা কেন? উত্তর খুঁজছেন স্বজনরা

  • আপডেট: Thursday, May 26, 2022 - 2:18 pm

অনলাইন ডেস্ক: নিজ ঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের উঠতি মডেল ও টলিউড অভিনেত্রী বিদিশা দে মজুমদারের। মরদেহ উদ্ধারের সময় তার চোখ বন্ধ ছিল। মুখে ছিল কাপড় গোঁজা। মৃত্যুযন্ত্রণার কাতরানি যাতে কেউ শুনতে না পায়, সেই জন্যই কি এই ব্যবস্থা? উত্তর খুঁজছেন বিদিশা দে মজুদারের নিকটজন।

গণমাধ্যমের কাছে বিদিশার এক নিকট আত্মীয়ের বক্তব্য, “বুধবার বিকালে ফোন পেয়েই ছুটতে ছুটতে নাগেরবাজার রামগড় কলোনিতে যাই। সারা রাস্তা ঈশ্বরকে ডাকতে ডাকতে এসেছি। খবরটা যেন মিথ্যা হয়। যেন গিয়ে দেখি বিদিশা সুস্থ আছে।”

বাড়ির কাছে পৌঁছেই বুকটা ছ্যাঁৎ করে ওঠে তার। ফ্ল্যাটের ভিতরে বাইরে পুলিশ দাঁড়িয়ে। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ফ্ল্যাটের দরজায় পৌঁছান নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বিদিশার সেই আত্মীয়। ভেজানো দরজা খুলতেই দেখেন, ওড়নায় ফাঁস লাগিয়ে বিদিশা ঝুলছে। শরীরে বিকৃতি দেখা দিয়েছে। নাক থেকে তরল পদার্থ বেরিয়ে এসে জমাট বেঁধে ঝুলছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, ঘরে এসি নেই। অথচ তরল জমাট বেঁধে গেছে। সেটা দেখেই তার অনুমান, মডেলের মৃত্যু হয়েছে সম্ভবত বুধবার ভোরেই।

সাধারণত গলায় ফাঁস দিলে জিভ এবং চোখ বেরিয়ে আসে। এক্ষেত্রে বিদিশার চোখ বন্ধই ছিল। পাশাপাশি, মুখে কাপড় গোঁজা থাকায় চিৎকার শোনা যায়নি। জিভও হয়তো বেরিয়ে আসতে পারেনি। অনেক সময় পরনের পোশাকও নষ্ট হয়ে যায় প্রস্রাবে।

ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, গাঢ় রঙের ট্রাউজার পরে থাকায় সেটিও বোঝা সম্ভব হয়নি। তিনি যখন বেরিয়ে আসছেন তখন মরদেহ নামিয়ে সাদা কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে।

ফ্ল্যাটের একজন আত্মহত্যা করেছেন, এই খবর প্রকাশ্যে আসতে সারা দিন লেগে গেল? একই প্রশ্ন প্রত্যক্ষদর্শী করেছিলেন বিদিশার ফ্ল্যাটমেট দিশানীকে। তার যুক্তি, বিদিশা কাজ না থাকলে দেরি করে উঠতেন। তাই বন্ধ দরজা দেখে ভেবেছিলেন তিনি ঘুমাচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও সাড়া না পাওয়ায় প্রথমে বাইরে থেকে বিদিশাকে ডাকেন দিশানী। তারপর দরজা খুলে আবিষ্কার করেন তার ঝুলন্ত মরদেহ। দিশাহারা দিশানী প্রথমে ফোন করেন বিদিশার মডেল বান্ধবীকে। যিনি বিদিশাকে এই ফ্ল্যাটের হদিস দিয়েছিলেন। ফোন যায় স্থানীয় থানায় এবং তার পরিবারের কাছে।

মেয়ের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন বিদিশার মা। ঘন ঘন মূর্ছা যাচ্ছেন। মেয়েকে হারিয়ে কথা বন্ধ বাবার। প্রত্যেকের একই প্রশ্ন, ভালই তো উন্নতি করছিলেন। কেন এভাবে চলে গেলেন বিদিশা? সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

সোনালী/জেআর