ঢাকা | এপ্রিল ১৫, ২০২৪ - ৫:৩০ পূর্বাহ্ন

ডিসি অফিস ঘেরাও করলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা

  • আপডেট: Wednesday, May 18, 2022 - 9:30 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সেচের পানি না পেয়ে দুই সাঁওতাল কৃষকের আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীর কঠোর শাস্তিসহ ১৬ দফা দাবিতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হয়েছে। জাতীয় কৃষক সমিতি এবং জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলে।

সকালে এই তিন সংগঠনের ব্যানারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে প্রথমে সমাবেশ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা। পরে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ডিসি অফিসের সামনে যান তারা। এরপর একটি প্রতিনিধিদল ১৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জয়া মারিয়া পেরেরার হাতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি তুলে দেন।

আদিবাসীদের ১৬ দফা দাবির মধ্যে আছে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া। সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠন করা; দখলি শর্তে খাস জমি, বসতভিটা, কবরস্থান, পুকুর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের নামে দেওয়া; প্রাকৃতিক বনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রথাগত অধিকারকে নিশ্চিত করা ও রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সেচের পানি না পেয়ে বিষপানে আত্মহত্যা করা কৃষক অভিনাথ মারান্ডি ও রবি মারান্ডির মৃত্যুর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করা এবং বরেন্দ্র অঞ্চলের খাসপুকুরগুলো উদ্ধার করে কৃষকদের সেচের পানি নিশ্চিত করা।

এ ছাড়াও স্মারকলিপিতে ১৬ দফার মধ্যে আছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জমির বিনা অনুমতিতে যেসব দলিল তৈরি হয়েছে সেগুলো বাতিল করা; নিজস্ব ভাষায় প্রাথমিক স্তরে শিক্ষা ও শিক্ষক নিশ্চিত করা; দিনাজপুর ও নওগাঁয় প্রতিষ্ঠিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমীতে দ্রুত জনবল নিয়োগ করা; রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমীর উপ-পরিচালক পদে এই সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া এবং জাতীয় বাজেটের অংশ হিসেবে সমতল অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের উন্নয়নের জন্য পৃথক বাজেট প্রণয়ন করা।

এছাড়া সংসদে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ থেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনকে সক্রিয় করা, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে বর্ণিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা, তাদের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি রক্ষা এবং চর্চার অনুকূল পরিবেশ, গবেষণার ক্ষেত্র প্রস্তুতসহ আদিবাসী একাডেমী গঠন করা; গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের জমি প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া; পুলিশের গুলিতে নিহত তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের মালিকানাধীন কোন জমি অধিগ্রহণ চিরতরে বন্ধ করতে আইন প্রনয়ন ও সরকারি গেজেটে বাদপড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জাতিসত্ত্বাগুলোকে অন্তর্ভূক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপি দেওয়ার আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়। বক্তব্য রাখেন, জেলা কৃষক সমিতির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গণেষ মার্ডি, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক তোতা, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামানিক দেবু, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য রাজ কুমার শাও, দপ্তর সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম প্রমুখ।