ঢাকা | এপ্রিল ২১, ২০২৪ - ৯:০৬ পূর্বাহ্ন

পদ্মার চরে চড়ক উৎসব

  • আপডেট: Monday, May 16, 2022 - 9:41 pm

স্টাফ রিপোর্টার: চৈত্র সংক্রান্তিতে গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে চড়ক পূজা। অরাধনা শেষে শিবের সন্ন্যাসীরা পিঠে বড়শি গেঁথে ঘোরেন চড়ক গাছে। তা দেখতে সব ধর্মের মানুষেরাই ভিড় করেন। গ্রাম বাংলার উৎসব সোমবার অনুষ্ঠিত হলো রাজশাহী শহরের পদ্মাপাড়ে। এ রকম উৎসব আগে কখনও রাজশাহী শহরে হয়েছে কি না তা কারও মনে নেই। তাই যাঁরা উৎসবের খবর পেয়েছেন তাঁরাই ছুটে এসেছেন দেখতে।

নগরীর আলুপট্টি এলাকার পদ্মা সার্বজনীন শিবমন্দিরের ব্যানারে গত ১৩ মে থেকে চড়ক পূজা শুরু হয়। বৈশাখী পূর্ণিমার পর সোমবার বিকালে শিবের পূজা অর্জনা করা হয়। এরপর চড়কে ঘোরেন শিবের সন্ন্যাসীরা। পরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হয়। এ উৎসবের উদ্যোক্তা ওই এলাকার যুবক বিশ্বজিৎ সরকার, অন্তর সরকার ও কাঞ্চন সরকার।

চড়ক উৎসব উপলক্ষে পদ্মাপাড়ে বসেছিল গ্রামীণ মেলা। শিশুদের খেলনা থেকে শুরু করে পাপড়, জিলাপি, বাতাসার দোকানও বসেছিল। গত কয়েকদিন ধরেই এখানে আসছিলেন হিন্দু ধর্মাবলাম্বীরা। উৎসবের মূল আকর্ষণ চড়ক ঘোরা দেখতে সোমবার বিকাল ৩টা থেকেই পদ্মাপাড়ে মানুষের ঢল নামে। চড়ক গাছটি পোঁতা হয় পদ্মার পাড় থেকে নিচে চরের ভেতর।

বিকাল ৪টা থেকে দফায় দফায় শিবের সন্ন্যাসীরা পিঠে বড়শি লাগিয়ে চড়কে ঘোরেন। উৎসব দেখতে যাওয়া মানুষেরা প্রথমে অস্থায়ী মন্দিরে শিবের পূজা অর্চনা করেন। তারপর সন্ন্যাসীদের কারিশমা দেখতে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে যান চড়ক গাছের চারপাশে। কেউ কেউ চড়ক গাছেও সিঁদুর দেন। ভক্তি প্রকাশ করেন। তাঁদের বিশ্বাস, এই আরাধনায় সার্বিক অমঙ্গল কেটে যাবে তাঁদের।

উদ্যোক্তাদের অন্যতম বিশ্বজিৎ সরকার বললেন, চড়ক পূজায় পূণ্যার্থীরা যে যা প্রার্থনা করেন তা হয় বলে তাদের বিশ্বাস। এ কারণেই এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। পাড়ার ছেলেরাই চড়কে ঘুরেছেন। এই আয়োজনে যে সাড়া পাওয়া গেছে তাতে তারা ভীষণ খুশি।